লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৭:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘ও আমাকে আজও মারছে’, ছবি পাঠানোর দুই দিন পরই মাইদার মৃত্যু

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়ে আল মাইদা আক্তার (২০) নামের এক কলেজছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর মাত্র দুই দিন আগে নিজের রক্তাক্ত ও ফোলা মুখের ছবি খালাতো বোনের কাছে পাঠিয়ে মাইদা লিখেছিলেন, ‘আপা, ও আমাকে আজও মারছে।’ গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মাইদাকে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মৃত অবস্থায় ফেলে পালিয়ে যাওয়ার সময় স্বামী মো. সিয়াম আল মুরসালিন আকাশকে (৩০) আটক করে পুলিশে দেয় স্থানীয় জনতা।

মাইদা পলাশবাড়ী সরকারি কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০২১ সালে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে সিয়ামের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের চার ও এক বছর বয়সী দুটি ছেলেসন্তান রয়েছে। সিয়ামের বাড়ি পলাশবাড়ীর শালমারা গ্রামে, আর মাইদার মায়ের বাড়ি সাদুল্লাপুরের ইদিলপুরে। মাইদার বাবা শাহাজাদা মিয়া অনেক আগেই মারা গেছেন। মা রহিমা খাতুন (৪৮) ভূমি অফিসে দলিল লিখে সন্তানদের বড় করেছেন। তিনি জানান, বিয়ের পর থেকেই সিয়াম মাইদাকে নির্যাতন করতেন। এ নিয়ে সালিস হলে সিয়াম বলেছিলেন, স্বামী-স্ত্রীর সমস্যা মেনে নিতে হয়।

ঘটনার দিন সন্ধ্যায় সিয়াম তাঁর শাশুড়িকে ফোন করে মাইদা হাসপাতালে বলে জানান। রহিমা খাতুন হাসপাতালে গিয়ে মেয়ের লাশ পান। এ ঘটনায় তিনি সিয়ামসহ কয়েকজনকে আসামি করে পলাশবাড়ী থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মাইদার খালাতো বোন মোসাম্মৎ শাফিয়া জানান, মাইদার চার বছরের সন্তান বলেছে, ‘মাকে বাবা অনেক মেরেছে। পরে ফ্যানে ঝুলিয়ে দিয়ে সুইচ ছেড়ে দিয়েছে। পরে বাবার বন্ধুরা ফ্যান থেকে মাকে নামিয়ে আনে।’ এরপর সিয়াম নিজেদের মাইক্রোবাসে করে মাইদাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। পলাশবাড়ী থানার ওসি সারওয়ার আলম খান জানান, মাইদার গলায় ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। সিয়াম দাবি করেছেন, বিকেলে মারপিটের পর মাইদা ফাঁস দিলে বন্ধুরা মিলে তাঁকে নামিয়ে হাসপাতালে নেন।

মাইদার এই মৃত্যুর কিছুদিন আগেই ঢাকার খিলক্ষেতে মুক্তা ইসলাম নামের আরেক নারী পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা যান। মুক্তাকে চামড়ার বেল্ট দিয়ে খাটের সঙ্গে বেঁধে পেটানোর একটি ভিডিও তাঁর স্বামী সোহেল শিকদার মুক্তার ভাই তানভীর রহমানের ফোনে পাঠিয়ে লিখেছিলেন, ‘তোমার বোনকে নিয়ে যাও।’ ভিডিওতে দেখা যায়, পাশের ঘরে সন্তানদের কান্নার শব্দ শুনে মুক্তা স্বামীকে অনুরোধ করছেন, ‘আমাকে মারবা ঠিক আছে, শুধু দুই বাচ্চারে ঘুম পাড়িয়ে আসি।’ কিন্তু সোহেল মারতে মারতে বলছিলেন, ‘তোরে আজ পিটাইয়া মাইরা ফালামু।’ গত ৩ সেপ্টেম্বর খিলক্ষেতের বাসা থেকে মুক্তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, তাঁকে হত্যা করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর হিসাব অনুযায়ী, দেশে নারী নির্যাতনের বড় অংশই ঘটে স্বামীর হাতে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত নারী নির্যাতনের মোট ২৭ হাজার ৯১১টি কলের মধ্যে ১৭ হাজার ১৯৬টিই ছিল স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, যা মোট কলের প্রায় 6২ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ৭০টি কল আসে স্বামীর নির্যাতনের বিরুদ্ধে। এছাড়া বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও ইউএনএফপিএ-এর ‘নারীর প্রতি সহিংসতা জরিপ ২০২৪’ অনুযায়ী, প্রায় ৭০ শতাংশ নারী তাঁর জীবনসঙ্গীর হাতে শারীরিক, যৌন বা মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

এই নৃশংসতা গত বছরের আগস্টে রাজধানীর শেওড়াপাড়ার সৈয়দা ফাহমিদা তাহসিন কেয়ার মৃত্যুর ঘটনাকে মনে করিয়ে দেয়। তাঁর স্বামী সিফাত আলীও লাশ হাসপাতালে ফেলে পালিয়েছিলেন। পরে হাইকোর্টে জামিন আবেদন নাকচ হলে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। দেড় মাস কারাগারে থাকার পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম বলেন, পারিবারিক সহিংসতাকে অপরাধ হিসেবে না দেখার একটি সামাজিক সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। মেয়েদের নির্যাতন সহ্য করেও সংসার করতে বাধ্য করা হয়। তাছাড়া নারী নির্যাতনের মামলাগুলোকে ‘ভুয়া’ বলে অপপ্রচার চালানো বন্ধ করা জরুরি।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে পারিবারিক সহিংসতার ২৮৪টি ঘটনার খবর গণমাধ্যমে এসেছে, যার মধ্যে ১০৮ জন নারী স্বামীর হাতে খুন হয়েছেন। ২০২৫ সালের পুরো বছরে ৫৬০টি ঘটনার মধ্যে স্বামীর হাতে খুন হন ২১৭ জন। পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট ‘আমরাই পারি’র প্রধান নির্বাহী জিনাত আরা হক বলেন, শুধু আইন সংস্কার করে এটি বন্ধ হবে না, মানুষের আচরণগত পরিবর্তন ও বিচারহীনতা দূর করতে রাষ্ট্রের ‘শূন্য সহিষ্ণুতা’ নীতি প্রয়োজন।

তিন বছর বয়সে বাবা হারানো মেয়েকে অনেক কষ্টে বড় করেছিলেন মা রহিমা খাতুন। মেয়ের অকালমৃত্যুতে আহাজারি করে তিনি বলেন, ‘আমার মেয়েটারে শ্বাসরোধ করে মারছে। আপনারা দেইখেন, ওর যেন ফাঁসি হয়।’ বুকের দুধ না পেয়ে মাইদার এক বছরের ছোট ছেলেটি সারাদিন কাঁদছে, আর চার বছরের সন্তানটি মায়ের ফেরার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।

এর আগে ২০১৫ সালের প্রতিবেদনে ৭৩ শতাংশ ও ২০১১ সালের প্রতিবেদনে ৮০ শতাংশ নারী স্বামীর হাতে সহিংসতার শিকার হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছিল।মাইদার ঘটনাটি মনে করিয়ে দেয় গত বছরের আগস্ট মাসে রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় সৈয়দা ফাহমিদা তাহসিনের (কেয়া) মৃত্যুর ঘটনা।

জনপ্রিয় সংবাদ

ডাকসুর বিতর্কিত কার্যক্রমের তদন্তে কমিটি গঠন করল ঢাবি প্রশাসন

‘ও আমাকে আজও মারছে’, ছবি পাঠানোর দুই দিন পরই মাইদার মৃত্যু

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:১৪:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়ে আল মাইদা আক্তার (২০) নামের এক কলেজছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর মাত্র দুই দিন আগে নিজের রক্তাক্ত ও ফোলা মুখের ছবি খালাতো বোনের কাছে পাঠিয়ে মাইদা লিখেছিলেন, ‘আপা, ও আমাকে আজও মারছে।’ গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মাইদাকে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মৃত অবস্থায় ফেলে পালিয়ে যাওয়ার সময় স্বামী মো. সিয়াম আল মুরসালিন আকাশকে (৩০) আটক করে পুলিশে দেয় স্থানীয় জনতা।

মাইদা পলাশবাড়ী সরকারি কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০২১ সালে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে সিয়ামের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের চার ও এক বছর বয়সী দুটি ছেলেসন্তান রয়েছে। সিয়ামের বাড়ি পলাশবাড়ীর শালমারা গ্রামে, আর মাইদার মায়ের বাড়ি সাদুল্লাপুরের ইদিলপুরে। মাইদার বাবা শাহাজাদা মিয়া অনেক আগেই মারা গেছেন। মা রহিমা খাতুন (৪৮) ভূমি অফিসে দলিল লিখে সন্তানদের বড় করেছেন। তিনি জানান, বিয়ের পর থেকেই সিয়াম মাইদাকে নির্যাতন করতেন। এ নিয়ে সালিস হলে সিয়াম বলেছিলেন, স্বামী-স্ত্রীর সমস্যা মেনে নিতে হয়।

ঘটনার দিন সন্ধ্যায় সিয়াম তাঁর শাশুড়িকে ফোন করে মাইদা হাসপাতালে বলে জানান। রহিমা খাতুন হাসপাতালে গিয়ে মেয়ের লাশ পান। এ ঘটনায় তিনি সিয়ামসহ কয়েকজনকে আসামি করে পলাশবাড়ী থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মাইদার খালাতো বোন মোসাম্মৎ শাফিয়া জানান, মাইদার চার বছরের সন্তান বলেছে, ‘মাকে বাবা অনেক মেরেছে। পরে ফ্যানে ঝুলিয়ে দিয়ে সুইচ ছেড়ে দিয়েছে। পরে বাবার বন্ধুরা ফ্যান থেকে মাকে নামিয়ে আনে।’ এরপর সিয়াম নিজেদের মাইক্রোবাসে করে মাইদাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। পলাশবাড়ী থানার ওসি সারওয়ার আলম খান জানান, মাইদার গলায় ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। সিয়াম দাবি করেছেন, বিকেলে মারপিটের পর মাইদা ফাঁস দিলে বন্ধুরা মিলে তাঁকে নামিয়ে হাসপাতালে নেন।

মাইদার এই মৃত্যুর কিছুদিন আগেই ঢাকার খিলক্ষেতে মুক্তা ইসলাম নামের আরেক নারী পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা যান। মুক্তাকে চামড়ার বেল্ট দিয়ে খাটের সঙ্গে বেঁধে পেটানোর একটি ভিডিও তাঁর স্বামী সোহেল শিকদার মুক্তার ভাই তানভীর রহমানের ফোনে পাঠিয়ে লিখেছিলেন, ‘তোমার বোনকে নিয়ে যাও।’ ভিডিওতে দেখা যায়, পাশের ঘরে সন্তানদের কান্নার শব্দ শুনে মুক্তা স্বামীকে অনুরোধ করছেন, ‘আমাকে মারবা ঠিক আছে, শুধু দুই বাচ্চারে ঘুম পাড়িয়ে আসি।’ কিন্তু সোহেল মারতে মারতে বলছিলেন, ‘তোরে আজ পিটাইয়া মাইরা ফালামু।’ গত ৩ সেপ্টেম্বর খিলক্ষেতের বাসা থেকে মুক্তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, তাঁকে হত্যা করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর হিসাব অনুযায়ী, দেশে নারী নির্যাতনের বড় অংশই ঘটে স্বামীর হাতে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত নারী নির্যাতনের মোট ২৭ হাজার ৯১১টি কলের মধ্যে ১৭ হাজার ১৯৬টিই ছিল স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, যা মোট কলের প্রায় 6২ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ৭০টি কল আসে স্বামীর নির্যাতনের বিরুদ্ধে। এছাড়া বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও ইউএনএফপিএ-এর ‘নারীর প্রতি সহিংসতা জরিপ ২০২৪’ অনুযায়ী, প্রায় ৭০ শতাংশ নারী তাঁর জীবনসঙ্গীর হাতে শারীরিক, যৌন বা মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

এই নৃশংসতা গত বছরের আগস্টে রাজধানীর শেওড়াপাড়ার সৈয়দা ফাহমিদা তাহসিন কেয়ার মৃত্যুর ঘটনাকে মনে করিয়ে দেয়। তাঁর স্বামী সিফাত আলীও লাশ হাসপাতালে ফেলে পালিয়েছিলেন। পরে হাইকোর্টে জামিন আবেদন নাকচ হলে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। দেড় মাস কারাগারে থাকার পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম বলেন, পারিবারিক সহিংসতাকে অপরাধ হিসেবে না দেখার একটি সামাজিক সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। মেয়েদের নির্যাতন সহ্য করেও সংসার করতে বাধ্য করা হয়। তাছাড়া নারী নির্যাতনের মামলাগুলোকে ‘ভুয়া’ বলে অপপ্রচার চালানো বন্ধ করা জরুরি।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে পারিবারিক সহিংসতার ২৮৪টি ঘটনার খবর গণমাধ্যমে এসেছে, যার মধ্যে ১০৮ জন নারী স্বামীর হাতে খুন হয়েছেন। ২০২৫ সালের পুরো বছরে ৫৬০টি ঘটনার মধ্যে স্বামীর হাতে খুন হন ২১৭ জন। পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট ‘আমরাই পারি’র প্রধান নির্বাহী জিনাত আরা হক বলেন, শুধু আইন সংস্কার করে এটি বন্ধ হবে না, মানুষের আচরণগত পরিবর্তন ও বিচারহীনতা দূর করতে রাষ্ট্রের ‘শূন্য সহিষ্ণুতা’ নীতি প্রয়োজন।

তিন বছর বয়সে বাবা হারানো মেয়েকে অনেক কষ্টে বড় করেছিলেন মা রহিমা খাতুন। মেয়ের অকালমৃত্যুতে আহাজারি করে তিনি বলেন, ‘আমার মেয়েটারে শ্বাসরোধ করে মারছে। আপনারা দেইখেন, ওর যেন ফাঁসি হয়।’ বুকের দুধ না পেয়ে মাইদার এক বছরের ছোট ছেলেটি সারাদিন কাঁদছে, আর চার বছরের সন্তানটি মায়ের ফেরার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।

এর আগে ২০১৫ সালের প্রতিবেদনে ৭৩ শতাংশ ও ২০১১ সালের প্রতিবেদনে ৮০ শতাংশ নারী স্বামীর হাতে সহিংসতার শিকার হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছিল।মাইদার ঘটনাটি মনে করিয়ে দেয় গত বছরের আগস্ট মাসে রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় সৈয়দা ফাহমিদা তাহসিনের (কেয়া) মৃত্যুর ঘটনা।