লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্যাসের সরবরাহ বাড়ল, সামিট ও এক্সিলারেট টার্মিনালে স্বস্তি

টানা ২৫ দিন তীব্র গ্যাস-সংকটের পর কিছুটা স্বস্তি ফেরার আশা জেগেছে। সামিট গ্রুপের এলএনজি টার্মিনালটি এখন পুরোদমে চালু হয়েছে এবং এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালটি আংশিক কার্যক্রম শুরু করেছে। এই দুই টার্মিনাল সচল হওয়ায় আজ ভোর থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ বেড়েছে। তবে সংকট পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আবদুল মান্নান জানিয়েছেন, বর্তমানে দুটি টার্মিনাল থেকেই গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। পেট্রোবাংলার তথ্যমতে, আজ ভোর চারটা থেকে সামিটের টার্মিনাল থেকে ৪৬ কোটি ঘনফুট এবং এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল থেকে ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত এই দুটি ভাসমান টার্মিনালের মধ্যে এক্সিলারেট এনার্জির সক্ষমতা ৬০ কোটি ঘনফুট এবং সামিটের সক্ষমতা ৫০ কোটি ঘনফুট।

গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনার কবলে পড়ে এক্সিলারেটের টার্মিনালটি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, যার ফলে গ্যাস সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এর প্রভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে লোডশেডিং বৃদ্ধি পায় এবং শিল্পকারখানা ও রান্নার কাজে ব্যাপক সংকট দেখা দেয়। বর্তমানে এক্সিলারেটের দুটি বয়লারের মধ্যে একটি মেরামত করে ৬ আগস্ট সরবরাহ শুরু করা হয়েছিল। তবে শুক্রবার বিকেলে কারিগরি ত্রুটির কারণে সেটি সাময়িক বন্ধ হলেও পরে পুনরায় চালু করা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত অপর বয়লারটি সচল করার কাজ চলছে, তবে সেটি পরীক্ষার জন্য ৭২ ঘণ্টা সরবরাহ বন্ধ রাখার প্রয়োজন হতে পারে, যার সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

অন্যদিকে, সামিটের টার্মিনালে এলএনজি সংকটের কারণে সরবরাহ কমে গিয়েছিল। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলেও শুক্রবার বিকেলে ভিটলের একটি জাহাজ থেকে এলএনজি খালাস শুরু হয়। সন্ধ্যা ছয়টা থেকে টার্মিনালের সংরক্ষিত মজুত থেকে সরবরাহ শুরু হয় এবং ভোররাতের দিকে তা ৪৬ কোটি ঘনফুটে পৌঁছায়। যদিও স্বাভাবিক সময়ে ২৭০ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত সরবরাহ করে রেশনিংয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। এর আগে সৌদি আরামকোর একটি জাহাজ বৈরী আবহাওয়া এবং জাহাজ স্থানান্তরের কারিগরি সীমাবদ্ধতার কারণে ফেরত পাঠানো হয়েছিল।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশে স্বাভাবিক সময়ে গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। এক্সিলারেট বন্ধ হওয়ার আগে মোট সরবরাহ ছিল ১৭৩ কোটি ঘনফুট, যা বর্তমানে বেড়ে প্রায় ২৪০ কোটি ঘনফুটে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে এলএনজি থেকে সরবরাহ করা হয় ১০৫ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় এখনো দিনে প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট নিরসনে সরকারি উদ্যোগ থাকলেও এর তাৎক্ষণিক সমাধান কঠিন এবং প্রকৃতির ওপরও অনেকটাই নির্ভর করতে হচ্ছে। তবে ছুটির দিন ও বৃষ্টির কারণে বিদ্যুতের চাহিদা কিছুটা কমায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা আগের চেয়ে কমেছে।

ভোররাতে এটি ৪৬ কোটি ঘনফুটে পৌঁছায়।আরও ৭-৮ কোটি ঘনফুট সরবরাহ বাড়াতে পারে তারা।.গ্যাস–সংকটে একে একে বন্ধ হচ্ছে নিত্যপণ্যের কারখানা .এর আগে বঙ্গোপসাগরে আসা সৌদি আরামকোর এলএনজি জাহাজটি ফেরত পাঠানো হয়েছে।

৩০০ কোটি ঘনফুট হলেও মোটামুটি সব খাতে সরবরাহ ধরে রাখা যায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

গ্যাসের সরবরাহ বাড়ল, সামিট ও এক্সিলারেট টার্মিনালে স্বস্তি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:৫৭:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

টানা ২৫ দিন তীব্র গ্যাস-সংকটের পর কিছুটা স্বস্তি ফেরার আশা জেগেছে। সামিট গ্রুপের এলএনজি টার্মিনালটি এখন পুরোদমে চালু হয়েছে এবং এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালটি আংশিক কার্যক্রম শুরু করেছে। এই দুই টার্মিনাল সচল হওয়ায় আজ ভোর থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ বেড়েছে। তবে সংকট পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আবদুল মান্নান জানিয়েছেন, বর্তমানে দুটি টার্মিনাল থেকেই গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। পেট্রোবাংলার তথ্যমতে, আজ ভোর চারটা থেকে সামিটের টার্মিনাল থেকে ৪৬ কোটি ঘনফুট এবং এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল থেকে ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত এই দুটি ভাসমান টার্মিনালের মধ্যে এক্সিলারেট এনার্জির সক্ষমতা ৬০ কোটি ঘনফুট এবং সামিটের সক্ষমতা ৫০ কোটি ঘনফুট।

গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনার কবলে পড়ে এক্সিলারেটের টার্মিনালটি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, যার ফলে গ্যাস সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এর প্রভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে লোডশেডিং বৃদ্ধি পায় এবং শিল্পকারখানা ও রান্নার কাজে ব্যাপক সংকট দেখা দেয়। বর্তমানে এক্সিলারেটের দুটি বয়লারের মধ্যে একটি মেরামত করে ৬ আগস্ট সরবরাহ শুরু করা হয়েছিল। তবে শুক্রবার বিকেলে কারিগরি ত্রুটির কারণে সেটি সাময়িক বন্ধ হলেও পরে পুনরায় চালু করা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত অপর বয়লারটি সচল করার কাজ চলছে, তবে সেটি পরীক্ষার জন্য ৭২ ঘণ্টা সরবরাহ বন্ধ রাখার প্রয়োজন হতে পারে, যার সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

অন্যদিকে, সামিটের টার্মিনালে এলএনজি সংকটের কারণে সরবরাহ কমে গিয়েছিল। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলেও শুক্রবার বিকেলে ভিটলের একটি জাহাজ থেকে এলএনজি খালাস শুরু হয়। সন্ধ্যা ছয়টা থেকে টার্মিনালের সংরক্ষিত মজুত থেকে সরবরাহ শুরু হয় এবং ভোররাতের দিকে তা ৪৬ কোটি ঘনফুটে পৌঁছায়। যদিও স্বাভাবিক সময়ে ২৭০ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত সরবরাহ করে রেশনিংয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। এর আগে সৌদি আরামকোর একটি জাহাজ বৈরী আবহাওয়া এবং জাহাজ স্থানান্তরের কারিগরি সীমাবদ্ধতার কারণে ফেরত পাঠানো হয়েছিল।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশে স্বাভাবিক সময়ে গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। এক্সিলারেট বন্ধ হওয়ার আগে মোট সরবরাহ ছিল ১৭৩ কোটি ঘনফুট, যা বর্তমানে বেড়ে প্রায় ২৪০ কোটি ঘনফুটে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে এলএনজি থেকে সরবরাহ করা হয় ১০৫ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় এখনো দিনে প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট নিরসনে সরকারি উদ্যোগ থাকলেও এর তাৎক্ষণিক সমাধান কঠিন এবং প্রকৃতির ওপরও অনেকটাই নির্ভর করতে হচ্ছে। তবে ছুটির দিন ও বৃষ্টির কারণে বিদ্যুতের চাহিদা কিছুটা কমায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা আগের চেয়ে কমেছে।

ভোররাতে এটি ৪৬ কোটি ঘনফুটে পৌঁছায়।আরও ৭-৮ কোটি ঘনফুট সরবরাহ বাড়াতে পারে তারা।.গ্যাস–সংকটে একে একে বন্ধ হচ্ছে নিত্যপণ্যের কারখানা .এর আগে বঙ্গোপসাগরে আসা সৌদি আরামকোর এলএনজি জাহাজটি ফেরত পাঠানো হয়েছে।

৩০০ কোটি ঘনফুট হলেও মোটামুটি সব খাতে সরবরাহ ধরে রাখা যায়।