লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্প ও প্রবাসীদের নিয়ে ইকোসিস্টেম গড়বে সরকার: মাহ্দী আমিন

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্প কারখানা ও প্রবাসীদের এক সুতোয় বেঁধে একটি শক্তিশালী ত্রিপক্ষীয় ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। গত শনিবার বিকেলে রাজধানীর নভোথিয়েটারে আয়োজিত ‘ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট ২০২৬’-এ বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই পরিকল্পনার কথা জানান।

‘বৈশ্বিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর ভবিষ্যৎ নির্মাণ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দুই দিনব্যাপী এই সামিটের আয়োজন করা হয়। সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআইএ), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং সিলিকন রিভার বাংলাদেশ কর্মসূচির যৌথ অংশীদারত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

দেশের যেকোনো শিল্পের টেকসই বিকাশের জন্য একটি মজবুত ইকোসিস্টেমের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, সমমানের অন্যান্য অর্থনীতির তুলনায় বাংলাদেশের যে জনমিতিক সুবিধা রয়েছে, তার পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। দেশের বিপুলসংখ্যক উদ্যমী তরুণ-তরুণীর মেধা ও সমাজ পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাকে কাজে লাগাতে হবে। বর্তমান নির্বাচিত সরকার তরুণদের মেধা বিকাশে একসঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে দেশজুড়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, ক্লাব, সেমিনার এবং বিশেষ প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

সেমিকন্ডাক্টর খাতকে একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবোটিক্সের মতো আধুনিক প্রযুক্তিগুলোকে শুধু আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ব্যবহারিক বা অ্যাপ্লিকেশন লেভেলে নিয়ে যেতে হবে। এর মাধ্যমে ছাত্র ও গ্র্যাজুয়েটদের কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে দেশের মেধাবীদের বাইরে চলে যাওয়া বা 'ব্রেইন ড্রেন' রোধ করে সেটিকে 'ব্রেইন সার্কুলেশনে' রূপান্তর করার ওপর জোর দেন তিনি। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রবাসীদের নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয় ও কমিউনিটির সাথে যুক্ত করতে একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম তৈরির সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথাও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।

উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে শিল্পখাত ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যকার যৌথ উদ্যোগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ইন্টার্নশিপ, সামার স্কুল ও যৌথ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবে। দেশের উচ্চশিক্ষার অবকাঠামোগত সংকট দূর করতে এবারের বাজেটে শিক্ষা এবং উচ্চশিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই অর্থ কেবল ভবন নির্মাণে নয়, বরং মানসম্মত ল্যাব স্থাপন ও গবেষণাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে ব্যয় হবে। স্থানীয় শিল্পখাতকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ধীরে ধীরে উন্নত দেশের আদলে বিশেষায়িত ‘গবেষণা কেন্দ্র’ গড়ে তোলা হবে, যেখানে বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানের গবেষণাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

বিশ্বজুড়ে শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশি প্রবাসীরা সুনামের সঙ্গে কাজ করলেও রাষ্ট্রগঠনমূলক কাজে তাদের পর্যাপ্ত যুক্ত করা হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, দেশের ভেতরে মেধাবীদের যথাযথ মূল্যায়নের অভাব রয়েছে। সরকারি বড় ধরনের সহায়তা ছাড়াই দেশের তরুণরা নিজেদের উদ্যোগে অসাধারণ সব কাজ করে যাচ্ছে, যাদের সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া প্রয়োজন।

দেশের বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি সাধারণ ‘ক্যারিয়ার সেন্টার’ না থাকায় দুঃখ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা মূলত প্রয়োগভিত্তিক হওয়ার চেয়ে তত্ত্বভিত্তিক বেশি। সরকার এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে শিক্ষার্থীরা কেবল তত্ত্ব শিখবে না, বরং তা বাস্তবে প্রয়োগ করার কৌশল শিখবে। এ ছাড়া সবাইকে মূলধারার বিশ্ববিদ্যালয়ে না গিয়ে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে অন্যতম প্রধান ধারায় রূপান্তর করার ওপর জোর দেন তিনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাইয়ের ২৭ দিনে আড়াই বিলিয়ন ডলারের বেশি প্রবাসী আয়

বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্প ও প্রবাসীদের নিয়ে ইকোসিস্টেম গড়বে সরকার: মাহ্দী আমিন

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:৩৩:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্প কারখানা ও প্রবাসীদের এক সুতোয় বেঁধে একটি শক্তিশালী ত্রিপক্ষীয় ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। গত শনিবার বিকেলে রাজধানীর নভোথিয়েটারে আয়োজিত ‘ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট ২০২৬’-এ বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই পরিকল্পনার কথা জানান।

‘বৈশ্বিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর ভবিষ্যৎ নির্মাণ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দুই দিনব্যাপী এই সামিটের আয়োজন করা হয়। সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআইএ), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং সিলিকন রিভার বাংলাদেশ কর্মসূচির যৌথ অংশীদারত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

দেশের যেকোনো শিল্পের টেকসই বিকাশের জন্য একটি মজবুত ইকোসিস্টেমের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, সমমানের অন্যান্য অর্থনীতির তুলনায় বাংলাদেশের যে জনমিতিক সুবিধা রয়েছে, তার পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। দেশের বিপুলসংখ্যক উদ্যমী তরুণ-তরুণীর মেধা ও সমাজ পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাকে কাজে লাগাতে হবে। বর্তমান নির্বাচিত সরকার তরুণদের মেধা বিকাশে একসঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে দেশজুড়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, ক্লাব, সেমিনার এবং বিশেষ প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

সেমিকন্ডাক্টর খাতকে একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবোটিক্সের মতো আধুনিক প্রযুক্তিগুলোকে শুধু আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ব্যবহারিক বা অ্যাপ্লিকেশন লেভেলে নিয়ে যেতে হবে। এর মাধ্যমে ছাত্র ও গ্র্যাজুয়েটদের কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে দেশের মেধাবীদের বাইরে চলে যাওয়া বা 'ব্রেইন ড্রেন' রোধ করে সেটিকে 'ব্রেইন সার্কুলেশনে' রূপান্তর করার ওপর জোর দেন তিনি। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রবাসীদের নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয় ও কমিউনিটির সাথে যুক্ত করতে একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম তৈরির সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথাও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।

উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে শিল্পখাত ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যকার যৌথ উদ্যোগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ইন্টার্নশিপ, সামার স্কুল ও যৌথ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবে। দেশের উচ্চশিক্ষার অবকাঠামোগত সংকট দূর করতে এবারের বাজেটে শিক্ষা এবং উচ্চশিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই অর্থ কেবল ভবন নির্মাণে নয়, বরং মানসম্মত ল্যাব স্থাপন ও গবেষণাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে ব্যয় হবে। স্থানীয় শিল্পখাতকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ধীরে ধীরে উন্নত দেশের আদলে বিশেষায়িত ‘গবেষণা কেন্দ্র’ গড়ে তোলা হবে, যেখানে বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানের গবেষণাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

বিশ্বজুড়ে শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশি প্রবাসীরা সুনামের সঙ্গে কাজ করলেও রাষ্ট্রগঠনমূলক কাজে তাদের পর্যাপ্ত যুক্ত করা হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, দেশের ভেতরে মেধাবীদের যথাযথ মূল্যায়নের অভাব রয়েছে। সরকারি বড় ধরনের সহায়তা ছাড়াই দেশের তরুণরা নিজেদের উদ্যোগে অসাধারণ সব কাজ করে যাচ্ছে, যাদের সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া প্রয়োজন।

দেশের বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি সাধারণ ‘ক্যারিয়ার সেন্টার’ না থাকায় দুঃখ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা মূলত প্রয়োগভিত্তিক হওয়ার চেয়ে তত্ত্বভিত্তিক বেশি। সরকার এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে শিক্ষার্থীরা কেবল তত্ত্ব শিখবে না, বরং তা বাস্তবে প্রয়োগ করার কৌশল শিখবে। এ ছাড়া সবাইকে মূলধারার বিশ্ববিদ্যালয়ে না গিয়ে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে অন্যতম প্রধান ধারায় রূপান্তর করার ওপর জোর দেন তিনি।