লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বাস্থ্যখাতে জনবল সংকট কাটাতে বিশেষ উদ্যোগ: ত্রাণ মন্ত্রী

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যখাতে জনবল সংকট দূর করার লক্ষ্যে সরকার বিশেষ বরাদ্দ রেখেছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসেবে এক আলোচনা সভায় তিনি এ তথ্য জানান। এর আগে, সকাল সাড়ে ১১টায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু। তিনি ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের সাথে প্রায় ৪ ঘণ্টা রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। মন্ত্রী বলেন, অনেক জেলায় ২৫০ শয্যার হাসপাতালের অবকাঠামো থাকলেও জনবলের অভাবে সেগুলো চালু করা যাচ্ছে না, তাই সরকার দ্রুত জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে।

গত ১৭ বছরের অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যখাতও এর বাইরে ছিল না। রংপুরের সন্তান হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি হাসপাতালের উন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আগামী দুই মাসের মধ্যে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ শয্যা সংখ্যা ১০ থেকে বাড়িয়ে ২০টিতে উন্নীত করার ঘোষণা দেন তিনি। এছাড়া রোগীদের সাথে এটেনডেন্ট থাকার সুবিধা নিশ্চিত করা এবং এনেসথেশিয়ার অভাবে অপারেশন বন্ধ থাকার সমস্যা সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহের আশ্বাস দেন মন্ত্রী।

হাসপাতালের নিরাপত্তা নিয়ে আসাদুল হাবিব বলেন, উত্তরের দুই কোটি মানুষের এই চিকিৎসা কেন্দ্রে নিরাপত্তার জন্য কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা নেই। আগামী এক মাসের মধ্যে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং এক সপ্তাহের মধ্যে পুরো ক্যাম্পাসে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন লাইট লাগিয়ে এলাকা আলোকিত করা হবে। এছাড়া অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি করপোরেশন কাজ করবে।

হাসপাতালের জনবল সংকট মোকাবিলায় তিনি জানান, বর্তমানে থাকা ১২৪ জন আউটসোর্সিং জনবলের বদলে রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পক্ষ থেকে ১০ জন, রংপুর-৩ আসনের এমপির পক্ষ থেকে ৫ জনসহ জেলার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের আর্থিক সহযোগিতায় ৫০ জন আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগ করা হবে। দালাল ও ট্রলি সিন্ডিকেট বন্ধে প্রতিটি কর্মীর জন্য পরিচয়পত্র ও নির্ধারিত পোশাক বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতালে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প চালু করা হয়েছে এবং নার্স ও ডাক্তারদের আচরণ ও ডিউটি পালনে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মরদেহ পরিবহনে সিন্ডিকেট বন্ধে অ্যাম্বুলেন্সগুলোকে হাসপাতালের তালিকাভুক্ত হতে হবে এবং মাইলেজ অনুযায়ী ভাড়া নির্ধারণের নিয়ম মানতে হবে। এছাড়া হাসপাতালের ১৫ তলা ভবনে ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগ বিভাগের নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করতে গণপূর্ত অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অকেজো যন্ত্রপাতি নিলামে বিক্রির প্রক্রিয়াও শুরু হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান, অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আনোয়ার হোসেন, রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রেজেকা সুলতানা ফেন্সি, রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন, জেলা পরিষদ প্রশাসক সাইফুল ইসলামসহ অন্যরা। এর আগে মন্ত্রী হাসপাতালের ১৪ নম্বর ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন এবং বিকেলে নগরীর জিলা খাল ও কেডি খাল ঘুরে দেখেন।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৫ তলা ভবনে ৪৬০ শয্যার একটি ক্যান্সার, কিডনি, হৃদরোগ বিভাগের ভবন নির্মাণ চলছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

এনসিপি নেতা তানভীরকে সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি

স্বাস্থ্যখাতে জনবল সংকট কাটাতে বিশেষ উদ্যোগ: ত্রাণ মন্ত্রী

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:০১:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যখাতে জনবল সংকট দূর করার লক্ষ্যে সরকার বিশেষ বরাদ্দ রেখেছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসেবে এক আলোচনা সভায় তিনি এ তথ্য জানান। এর আগে, সকাল সাড়ে ১১টায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু। তিনি ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের সাথে প্রায় ৪ ঘণ্টা রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। মন্ত্রী বলেন, অনেক জেলায় ২৫০ শয্যার হাসপাতালের অবকাঠামো থাকলেও জনবলের অভাবে সেগুলো চালু করা যাচ্ছে না, তাই সরকার দ্রুত জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে।

গত ১৭ বছরের অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যখাতও এর বাইরে ছিল না। রংপুরের সন্তান হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি হাসপাতালের উন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আগামী দুই মাসের মধ্যে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ শয্যা সংখ্যা ১০ থেকে বাড়িয়ে ২০টিতে উন্নীত করার ঘোষণা দেন তিনি। এছাড়া রোগীদের সাথে এটেনডেন্ট থাকার সুবিধা নিশ্চিত করা এবং এনেসথেশিয়ার অভাবে অপারেশন বন্ধ থাকার সমস্যা সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহের আশ্বাস দেন মন্ত্রী।

হাসপাতালের নিরাপত্তা নিয়ে আসাদুল হাবিব বলেন, উত্তরের দুই কোটি মানুষের এই চিকিৎসা কেন্দ্রে নিরাপত্তার জন্য কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা নেই। আগামী এক মাসের মধ্যে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং এক সপ্তাহের মধ্যে পুরো ক্যাম্পাসে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন লাইট লাগিয়ে এলাকা আলোকিত করা হবে। এছাড়া অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি করপোরেশন কাজ করবে।

হাসপাতালের জনবল সংকট মোকাবিলায় তিনি জানান, বর্তমানে থাকা ১২৪ জন আউটসোর্সিং জনবলের বদলে রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পক্ষ থেকে ১০ জন, রংপুর-৩ আসনের এমপির পক্ষ থেকে ৫ জনসহ জেলার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের আর্থিক সহযোগিতায় ৫০ জন আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগ করা হবে। দালাল ও ট্রলি সিন্ডিকেট বন্ধে প্রতিটি কর্মীর জন্য পরিচয়পত্র ও নির্ধারিত পোশাক বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতালে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প চালু করা হয়েছে এবং নার্স ও ডাক্তারদের আচরণ ও ডিউটি পালনে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মরদেহ পরিবহনে সিন্ডিকেট বন্ধে অ্যাম্বুলেন্সগুলোকে হাসপাতালের তালিকাভুক্ত হতে হবে এবং মাইলেজ অনুযায়ী ভাড়া নির্ধারণের নিয়ম মানতে হবে। এছাড়া হাসপাতালের ১৫ তলা ভবনে ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগ বিভাগের নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করতে গণপূর্ত অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অকেজো যন্ত্রপাতি নিলামে বিক্রির প্রক্রিয়াও শুরু হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান, অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আনোয়ার হোসেন, রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রেজেকা সুলতানা ফেন্সি, রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন, জেলা পরিষদ প্রশাসক সাইফুল ইসলামসহ অন্যরা। এর আগে মন্ত্রী হাসপাতালের ১৪ নম্বর ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন এবং বিকেলে নগরীর জিলা খাল ও কেডি খাল ঘুরে দেখেন।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৫ তলা ভবনে ৪৬০ শয্যার একটি ক্যান্সার, কিডনি, হৃদরোগ বিভাগের ভবন নির্মাণ চলছে।