লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২২ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০০ শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি নিয়ে হাইকোর্টের রুল

দেশের ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শর বেশি শিক্ষকের বিরুদ্ধে গঠিত ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং, অনুসন্ধান ও তদন্ত কমিটি কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এসব তদন্ত কমিটি বিলুপ্ত বা প্রত্যাহার করার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। সোমবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে এই রুল দেন।

গত ৪ আগস্ট একটি অনলাইন পোর্টালে ‘শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ২২ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ শিক্ষকের গোপন তৎপরতা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের পক্ষে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর পরিবেশ তৈরির জন্য ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষক টেলিগ্রামে গোপন গ্রুপের মাধ্যমে তৎপরতা চালাচ্ছেন। এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তথ্য অনুসন্ধান বা তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের নোটিশ পাঠায়।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩১ আগস্ট মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান এবং বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রেজিস্ট্রার বরাবর আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের চার আইনজীবী। যাচাইহীন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে এই ধরনের কমিটি গঠন নিয়ে তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং কমিটিগুলো অবিলম্বে বিলুপ্তির দাবি জানান। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় রিটটি করেন আইনজীবী চঞ্চল কুমার বিশ্বাস, এম লিটন আহমেদ, রাশেদুল হক খোকন ও বিপ্লব কুমার দাস।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী চঞ্চল কুমার বিশ্বাস। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জসীম সরকার, মোহাম্মদ ইমাম হোসেন ও শিহাব উদ্দিন খান। শুনানি শেষে আইনজীবী চঞ্চল কুমার বিশ্বাস জানান, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আইনে কোনো অনলাইন পোর্টালের সংবাদের ভিত্তিতে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠনের কোনো বিধান নেই। তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রদ্রোহের মতো সুনির্দিষ্ট ফৌজদারি অভিযোগ থাকলে তা তদন্তের এখতিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের নেই; কারণ এটি ফৌজদারি অপরাধ, যার জন্য মামলা দায়েরের সুযোগ রয়েছে। এছাড়া মতপ্রকাশের স্বাধীনতা একটি সাংবিধানিক অধিকার, যা পেশার অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে না। আদালত চার সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

জাপানে শক্তিশালী টাইফুন দুজুয়ানের আঘাত, বিদ্যুৎহীন ৫০ হাজার পরিবার

২২ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০০ শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি নিয়ে হাইকোর্টের রুল

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:১৪:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শর বেশি শিক্ষকের বিরুদ্ধে গঠিত ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং, অনুসন্ধান ও তদন্ত কমিটি কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এসব তদন্ত কমিটি বিলুপ্ত বা প্রত্যাহার করার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। সোমবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে এই রুল দেন।

গত ৪ আগস্ট একটি অনলাইন পোর্টালে ‘শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ২২ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ শিক্ষকের গোপন তৎপরতা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের পক্ষে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর পরিবেশ তৈরির জন্য ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষক টেলিগ্রামে গোপন গ্রুপের মাধ্যমে তৎপরতা চালাচ্ছেন। এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তথ্য অনুসন্ধান বা তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের নোটিশ পাঠায়।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩১ আগস্ট মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান এবং বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রেজিস্ট্রার বরাবর আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের চার আইনজীবী। যাচাইহীন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে এই ধরনের কমিটি গঠন নিয়ে তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং কমিটিগুলো অবিলম্বে বিলুপ্তির দাবি জানান। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় রিটটি করেন আইনজীবী চঞ্চল কুমার বিশ্বাস, এম লিটন আহমেদ, রাশেদুল হক খোকন ও বিপ্লব কুমার দাস।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী চঞ্চল কুমার বিশ্বাস। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জসীম সরকার, মোহাম্মদ ইমাম হোসেন ও শিহাব উদ্দিন খান। শুনানি শেষে আইনজীবী চঞ্চল কুমার বিশ্বাস জানান, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আইনে কোনো অনলাইন পোর্টালের সংবাদের ভিত্তিতে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠনের কোনো বিধান নেই। তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রদ্রোহের মতো সুনির্দিষ্ট ফৌজদারি অভিযোগ থাকলে তা তদন্তের এখতিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের নেই; কারণ এটি ফৌজদারি অপরাধ, যার জন্য মামলা দায়েরের সুযোগ রয়েছে। এছাড়া মতপ্রকাশের স্বাধীনতা একটি সাংবিধানিক অধিকার, যা পেশার অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে না। আদালত চার সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।