লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইনানীতে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ মৃত্যু: দায়বদ্ধতা ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

কক্সবাজারের ইনানীতে টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের প্রাণহানি পর্যটন খাতের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও প্রশাসনিক নজরদারি নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। শনিবার সকালে মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকায় অবস্থিত কাঠের তৈরি তিনতলা রিসোর্টটিতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের আটজন রয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালকের তথ্য অনুযায়ী, রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তার কোনো লাইসেন্স ছিল না। গত জুনে পরিদর্শনের সময় প্রতিষ্ঠানটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে সতর্ক করে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবুও রিসোর্টটির কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাদের তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট, এসি অথবা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে তদন্ত কমিটি বৈদ্যুতিক সংযোগ, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম, জরুরি বহির্গমন পথ এবং ভবনের নির্মাণসামগ্রীসহ সব দিক খতিয়ে দেখবে। পুলিশ ইতোমধ্যে রিসোর্টের ম্যানেজারকে গ্রেপ্তার করেছে, তবে তদন্তে দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধেই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।

পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। কাঠ ও দাহ্য উপকরণে নির্মিত রিসোর্টগুলোতে অগ্নিনির্বাপণ মহড়া, জরুরি পথ এবং নিয়মিত নজরদারি বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন। মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হোক পর্যটনশিল্পের মূল লক্ষ্য, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবারকে আনন্দভ্রমণে গিয়ে এমন মর্মান্তিক শোকের মুখোমুখি হতে না হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

যুব উন্নয়নের প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় বিএআরসির কর্মকর্তা গ্রেফতার

ইনানীতে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ মৃত্যু: দায়বদ্ধতা ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:০০:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

কক্সবাজারের ইনানীতে টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের প্রাণহানি পর্যটন খাতের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও প্রশাসনিক নজরদারি নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। শনিবার সকালে মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকায় অবস্থিত কাঠের তৈরি তিনতলা রিসোর্টটিতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের আটজন রয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালকের তথ্য অনুযায়ী, রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তার কোনো লাইসেন্স ছিল না। গত জুনে পরিদর্শনের সময় প্রতিষ্ঠানটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে সতর্ক করে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবুও রিসোর্টটির কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাদের তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট, এসি অথবা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে তদন্ত কমিটি বৈদ্যুতিক সংযোগ, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম, জরুরি বহির্গমন পথ এবং ভবনের নির্মাণসামগ্রীসহ সব দিক খতিয়ে দেখবে। পুলিশ ইতোমধ্যে রিসোর্টের ম্যানেজারকে গ্রেপ্তার করেছে, তবে তদন্তে দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধেই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।

পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। কাঠ ও দাহ্য উপকরণে নির্মিত রিসোর্টগুলোতে অগ্নিনির্বাপণ মহড়া, জরুরি পথ এবং নিয়মিত নজরদারি বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন। মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হোক পর্যটনশিল্পের মূল লক্ষ্য, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবারকে আনন্দভ্রমণে গিয়ে এমন মর্মান্তিক শোকের মুখোমুখি হতে না হয়।