লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেখ হাসিনার ছায়া থেকে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক বের করার তাগিদ

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ঢাকা ও নয়াদিল্লির সম্পর্কে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ভারতের প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর এক সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে এখন শেখ হাসিনার দীর্ঘ ছায়া থেকে বের করে আনার সময় এসেছে।

গত সপ্তাহে নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের সামনে শেখ হাসিনা বক্তব্য দেওয়ার পর এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। টেলিগ্রাফের সম্পাদকীয় অনুযায়ী, শেখ হাসিনা, তাঁর ছেলে এবং আওয়ামী লীগের অন্য নেতারা ভারতীয় প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বাংলাদেশে ২০২৪ সালের আগস্টের গণঅভ্যুত্থানকে খাটো করার চেষ্টা করেছেন। একই সঙ্গে তাঁরা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, বাংলাদেশে বর্তমানে ইসলামপন্থী উগ্রবাদী ও সন্ত্রাসীরা অবাধে তৎপরতা চালানোর সুযোগ পাচ্ছে।

এই ধরনের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকার। আওয়ামী লীগ নেতাদের ভারতীয় মাটিতে বসে এমন বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ায় নয়াদিল্লিরও সমালোচনা করা হয়েছে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকার শেখ হাসিনাকে দ্রুত প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়েছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী sabhasthay (সাব্যস্ত) হয়ে তিনি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত। গত সোমবার বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠকেও এই প্রত্যর্পণের দাবি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

এমন এক সময়ে এই টানাপোড়েন তৈরি হলো যখন শেখ হাসিনা নিজে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন। টেলিগ্রাফের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই পরিস্থিতিতে নয়াদিল্লিকে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ভারসাম্যের নীতি অবলম্বন করতে হবে। একদিকে ভারত তার দীর্ঘদিনের বন্ধুদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারে না, অন্যদিকে ঢাকার সঙ্গে সম্পর্কের ওপর শেখ হাসিনাকে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতাও দেওয়া যাবে না। অত্যন্ত সংবেদনশীল এই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে কূটনীতিকে বিশেষভাবে সতর্ক হতে হবে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শেখ হাসিনার কড়া সমালোচকদের অনেকেই তীব্র ভারতবিরোধী। তাদের অভিযোগ, শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলে সংঘটিত নানা বাড়াবাড়ির পেছনে ভারতের অকুণ্ঠ সমর্থন দায়ী ছিল। ফলে নয়াদিল্লি ভালো করেই জানে, শেখ হাসিনাকে ফেরত চাওয়ার দাবিতে যারা সোচ্চার, তারা তাকে ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে দেখে। ভারতের পক্ষে তাদের সঙ্গে আপস করা যেমন অসম্ভব, তেমনি ভবিষ্যতে তারা ভারতের অংশীদার হবে—এমন কোনো বিভ্রমে থাকাও উচিত হবে না।

তবে আশার কথা হলো, গত কয়েক মাসের ঘটনাপ্রবাহে সম্পর্কের অগ্রগতির একটি পথ দেখা গেছে। তারেক রহমানের দল বিএনপি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখার একটি নতুন সুযোগ তৈরি করেছে, যার ওপর ভিত্তি করে দুই দেশের সরকার সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এখন এই অগ্রগতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নয়াদিল্লি ও ঢাকাকে স্পষ্ট অবস্থান নিয়ে শান্ত পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যা সীমান্তের দুই পাশের উত্তেজনা কমাতে এবং কূটনৈতিক জটিলতা এড়াতে সাহায্য করবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

এইচ৫ বার্ড ফ্লু মোকাবিলায় পাখিদের টিকা দেবে অস্ট্রেলিয়া

শেখ হাসিনার ছায়া থেকে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক বের করার তাগিদ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৪২:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ঢাকা ও নয়াদিল্লির সম্পর্কে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ভারতের প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর এক সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে এখন শেখ হাসিনার দীর্ঘ ছায়া থেকে বের করে আনার সময় এসেছে।

গত সপ্তাহে নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের সামনে শেখ হাসিনা বক্তব্য দেওয়ার পর এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। টেলিগ্রাফের সম্পাদকীয় অনুযায়ী, শেখ হাসিনা, তাঁর ছেলে এবং আওয়ামী লীগের অন্য নেতারা ভারতীয় প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বাংলাদেশে ২০২৪ সালের আগস্টের গণঅভ্যুত্থানকে খাটো করার চেষ্টা করেছেন। একই সঙ্গে তাঁরা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, বাংলাদেশে বর্তমানে ইসলামপন্থী উগ্রবাদী ও সন্ত্রাসীরা অবাধে তৎপরতা চালানোর সুযোগ পাচ্ছে।

এই ধরনের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকার। আওয়ামী লীগ নেতাদের ভারতীয় মাটিতে বসে এমন বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ায় নয়াদিল্লিরও সমালোচনা করা হয়েছে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকার শেখ হাসিনাকে দ্রুত প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়েছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী sabhasthay (সাব্যস্ত) হয়ে তিনি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত। গত সোমবার বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠকেও এই প্রত্যর্পণের দাবি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

এমন এক সময়ে এই টানাপোড়েন তৈরি হলো যখন শেখ হাসিনা নিজে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন। টেলিগ্রাফের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই পরিস্থিতিতে নয়াদিল্লিকে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ভারসাম্যের নীতি অবলম্বন করতে হবে। একদিকে ভারত তার দীর্ঘদিনের বন্ধুদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারে না, অন্যদিকে ঢাকার সঙ্গে সম্পর্কের ওপর শেখ হাসিনাকে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতাও দেওয়া যাবে না। অত্যন্ত সংবেদনশীল এই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে কূটনীতিকে বিশেষভাবে সতর্ক হতে হবে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শেখ হাসিনার কড়া সমালোচকদের অনেকেই তীব্র ভারতবিরোধী। তাদের অভিযোগ, শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলে সংঘটিত নানা বাড়াবাড়ির পেছনে ভারতের অকুণ্ঠ সমর্থন দায়ী ছিল। ফলে নয়াদিল্লি ভালো করেই জানে, শেখ হাসিনাকে ফেরত চাওয়ার দাবিতে যারা সোচ্চার, তারা তাকে ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে দেখে। ভারতের পক্ষে তাদের সঙ্গে আপস করা যেমন অসম্ভব, তেমনি ভবিষ্যতে তারা ভারতের অংশীদার হবে—এমন কোনো বিভ্রমে থাকাও উচিত হবে না।

তবে আশার কথা হলো, গত কয়েক মাসের ঘটনাপ্রবাহে সম্পর্কের অগ্রগতির একটি পথ দেখা গেছে। তারেক রহমানের দল বিএনপি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখার একটি নতুন সুযোগ তৈরি করেছে, যার ওপর ভিত্তি করে দুই দেশের সরকার সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এখন এই অগ্রগতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নয়াদিল্লি ও ঢাকাকে স্পষ্ট অবস্থান নিয়ে শান্ত পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যা সীমান্তের দুই পাশের উত্তেজনা কমাতে এবং কূটনৈতিক জটিলতা এড়াতে সাহায্য করবে।