লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন ২০২৬-এর খসড়ায় মন্ত্রিসভার অনুমোদন

দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্পায়ন এবং বিনিয়োগকারীদের সেবা প্রদান প্রক্রিয়া আরও সহজ ও সমন্বিত করার লক্ষ্যে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’-এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১২তম বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উত্থাপিত প্রস্তাবের ভিত্তিতে আইনটি অনুমোদিত হয়েছে।

নতুন এই আইন কার্যকর হলে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ দেশের শীর্ষ বিনিয়োগ উন্নয়ন ও সমন্বয়কারী সংস্থা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষের (পিপিপিএ) কার্যক্রম একীভূত হবে। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এই আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।

আইনটির ফলে বিনিয়োগকারীদের অনুমোদন, নিবন্ধন, আমদানি-রপ্তানি, প্রণোদনা এবং শিল্পাঞ্চল উন্নয়নের মতো সেবাগুলো দ্রুত ও কার্যকরভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এছাড়া সিঙ্গেল উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স, ওয়ান-স্টপ সার্ভিস এবং লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ার ডিজিটালাইজেশন নিশ্চিত করা হবে। সরকারের মতে, এই আইন কার্যকর হলে বিনিয়োগ কার্যক্রমে বিদ্যমান নীতিগত অসামঞ্জস্যতা এবং প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বের দ্বৈততা দূর হবে, যা প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করবে।

প্রস্তাবিত আইনের উল্লেখযোগ্য দিকগুলোর মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক ও মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলগুলোকে সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনা, লাইসেন্স প্রদানের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ, ক্ষুদ্র পিপিপি প্রকল্পে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সহজ অনুমোদন এবং অব্যবহৃত সরকারি জমি ও সম্পদ উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহারের বিধান। বিনিয়োগ ও ব্যবসা-সংক্রান্ত সব সেবা একটি একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসাও এই আইনের অন্যতম লক্ষ্য।

এদিকে মন্ত্রিসভার একই বৈঠকে ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০)’ এবং ‘আমদানি নীতি আদেশ, ২০২৬-২০২৯’-এর খসড়াও অনুমোদন পেয়েছে। নতুন জ্বালানি কৌশলপত্রে ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির হার ২০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, নতুন আমদানি নীতি আদেশে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আধুনিক পদ্ধতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমদানি প্রক্রিয়া সহজীকরণ, সেন্ট্রাল বন্ডেড ওয়্যারহাউজ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগে বিশেষ সুবিধার বিধান রাখা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

অপরিকল্পিত প্রকল্পে জনগণের অর্থের অপচয় বরদাশত করা হবে না: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন ২০২৬-এর খসড়ায় মন্ত্রিসভার অনুমোদন

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:৪৭:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্পায়ন এবং বিনিয়োগকারীদের সেবা প্রদান প্রক্রিয়া আরও সহজ ও সমন্বিত করার লক্ষ্যে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’-এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১২তম বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উত্থাপিত প্রস্তাবের ভিত্তিতে আইনটি অনুমোদিত হয়েছে।

নতুন এই আইন কার্যকর হলে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ দেশের শীর্ষ বিনিয়োগ উন্নয়ন ও সমন্বয়কারী সংস্থা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষের (পিপিপিএ) কার্যক্রম একীভূত হবে। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এই আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।

আইনটির ফলে বিনিয়োগকারীদের অনুমোদন, নিবন্ধন, আমদানি-রপ্তানি, প্রণোদনা এবং শিল্পাঞ্চল উন্নয়নের মতো সেবাগুলো দ্রুত ও কার্যকরভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এছাড়া সিঙ্গেল উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স, ওয়ান-স্টপ সার্ভিস এবং লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ার ডিজিটালাইজেশন নিশ্চিত করা হবে। সরকারের মতে, এই আইন কার্যকর হলে বিনিয়োগ কার্যক্রমে বিদ্যমান নীতিগত অসামঞ্জস্যতা এবং প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বের দ্বৈততা দূর হবে, যা প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করবে।

প্রস্তাবিত আইনের উল্লেখযোগ্য দিকগুলোর মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক ও মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলগুলোকে সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনা, লাইসেন্স প্রদানের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ, ক্ষুদ্র পিপিপি প্রকল্পে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সহজ অনুমোদন এবং অব্যবহৃত সরকারি জমি ও সম্পদ উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহারের বিধান। বিনিয়োগ ও ব্যবসা-সংক্রান্ত সব সেবা একটি একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসাও এই আইনের অন্যতম লক্ষ্য।

এদিকে মন্ত্রিসভার একই বৈঠকে ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০)’ এবং ‘আমদানি নীতি আদেশ, ২০২৬-২০২৯’-এর খসড়াও অনুমোদন পেয়েছে। নতুন জ্বালানি কৌশলপত্রে ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির হার ২০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, নতুন আমদানি নীতি আদেশে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আধুনিক পদ্ধতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমদানি প্রক্রিয়া সহজীকরণ, সেন্ট্রাল বন্ডেড ওয়্যারহাউজ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগে বিশেষ সুবিধার বিধান রাখা হয়েছে।