লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসলামে আত্মহত্যার ভয়াবহতা ও এর ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি

পারিবারিক বিপর্যয়, মানসিক অশান্তি, সন্ত্রাস, নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট, রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয়সহ নানা কারণে আত্মহত্যার মতো ধ্বংসাত্মক ঘটনার উদ্ভব ঘটে। এসব পরিস্থিতির পেছনে কাজ করে প্রচণ্ড মনস্তাত্ত্বিক চাপ। ভারসাম্য হারিয়ে যখন মানুষ তা সহ্য করতে পারে না, তখন দুর্বল চিত্তের ব্যক্তিরা আত্মহননের মধ্য দিয়ে মুক্তি খোঁজে। তবে ইসলামে আত্মহত্যা মহাপাপ ও অত্যন্ত ঘৃণ্য কাজ হিসেবে বিবেচিত। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনের সুরা নিসার ২৯-৩০ নম্বর আয়াতে বলেছেন, 'তোমরা নিজেদের হত্যা কোরো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু। যে কেউ সীমালঙ্ঘন করে অন্যায়ভাবে তা (আত্মহত্যা) করবে, তাকে আগুনে দগ্ধ করব। এটা আল্লাহর পক্ষে সহজ।'

আত্মহত্যার পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ। রাসুল (সা.)-এর একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, পূর্ববর্তী উম্মতের এক ব্যক্তি আহত হয়ে ছটফট করার সময় ছুরি দিয়ে নিজেই নিজের হাত কেটে ব্যাপক রক্তপাত ঘটিয়ে মৃত্যুবরণ করেছিল। তখন আল্লাহ ঘোষণা করেছিলেন, 'আমার এ বান্দা নিজের ব্যাপারে খুব তাড়াহুড়া করে ফেলেছে। এ কারণে আমি তার প্রতি জান্নাত হারাম করে দিয়েছি' (বোখারি : ৩২৭৬)। আত্মহত্যার কুফল সম্পর্কে রাসুল (সা.) আরও বলেছেন, যে ব্যক্তি পাহাড় থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করবে, সে জাহান্নামে স্থায়ীভাবে লাফ দিতে থাকবে। একইভাবে বিষপানে বা ছুরির আঘাতে আত্মহত্যা করলে পরকালেও তাকে একই শাস্তি দেওয়া হবে। রাসুল (সা.) সুস্পষ্টভাবে বলেছেন, 'যে ব্যক্তি ইহকালে কোনো কিছু দ্বারা নিজেকে হত্যা করবে, তা দ্বারা পরকালে তাকে শাস্তি প্রদান করা হবে' (বোখারি : ৫৭০০, মুসলিম : ১০৯; বোখারি : ৫৭৭৮, মুসলিম : ১৭৭৮)।

ডিপ্রেশন, মানসিক অশান্তি ও পারিবারিক কলহের মতো কঠিন পরিস্থিতিতে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা বা তাওয়াক্কুল করা মোমিনের প্রধান গুণ। আত্মহত্যার পথ বেছে না নিয়ে যেকোনো পরিস্থিতিতে আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহ কামনা করাই প্রকৃত ঈমানদারের বৈশিষ্ট্য। আল্লাহতায়ালা সুরা হিজরের ৫৬ নম্বর আয়াতে বলেন, 'যারা পথভ্রষ্ট, তারা ছাড়া আর কে তার রবের অনুগ্রহ হতে নিরাশ হয়?' এছাড়া সুরা যুমারের ৫৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, 'তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে নিরাশ হয়ো না।' বিপদাপদে সবক্ষেত্রে আল্লাহর রহমতই একমাত্র ভরসা, কারণ পৃথিবী ক্ষণস্থায়ী এবং কোনো সংকটই স্থায়ী নয়। আল্লাহ বলেন, 'কষ্টের পরেই সুখ আসে' (সুরা ইনশিরাহ : ৫) এবং 'যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট' (সুরা তালাক : ৩)।

ইসলাম মানুষকে মৃত্যু কামনা করতেও নিষেধ করেছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, 'তোমাদের কেউ যেন দুঃখ-কষ্টে পড়লে মৃত্যু কামনা না করে। যদি কিছু করতেই চায়, তাহলে সে যেন বলে, হে আল্লাহ! আমাকে জীবিত রাখো, যতদিন আমার জন্য বেঁচে থাকা কল্যাণকর হয়। আর মৃত্যু দাও, যখন আমার জন্য মরে যাওয়া কল্যাণকর হয়' (বোখারি : ৫৬৭১)।

ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার শুরু, শেষ ২৩ বছরের উপস্থিতি

ইসলামে আত্মহত্যার ভয়াবহতা ও এর ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:১৭:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পারিবারিক বিপর্যয়, মানসিক অশান্তি, সন্ত্রাস, নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট, রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয়সহ নানা কারণে আত্মহত্যার মতো ধ্বংসাত্মক ঘটনার উদ্ভব ঘটে। এসব পরিস্থিতির পেছনে কাজ করে প্রচণ্ড মনস্তাত্ত্বিক চাপ। ভারসাম্য হারিয়ে যখন মানুষ তা সহ্য করতে পারে না, তখন দুর্বল চিত্তের ব্যক্তিরা আত্মহননের মধ্য দিয়ে মুক্তি খোঁজে। তবে ইসলামে আত্মহত্যা মহাপাপ ও অত্যন্ত ঘৃণ্য কাজ হিসেবে বিবেচিত। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনের সুরা নিসার ২৯-৩০ নম্বর আয়াতে বলেছেন, 'তোমরা নিজেদের হত্যা কোরো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু। যে কেউ সীমালঙ্ঘন করে অন্যায়ভাবে তা (আত্মহত্যা) করবে, তাকে আগুনে দগ্ধ করব। এটা আল্লাহর পক্ষে সহজ।'

আত্মহত্যার পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ। রাসুল (সা.)-এর একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, পূর্ববর্তী উম্মতের এক ব্যক্তি আহত হয়ে ছটফট করার সময় ছুরি দিয়ে নিজেই নিজের হাত কেটে ব্যাপক রক্তপাত ঘটিয়ে মৃত্যুবরণ করেছিল। তখন আল্লাহ ঘোষণা করেছিলেন, 'আমার এ বান্দা নিজের ব্যাপারে খুব তাড়াহুড়া করে ফেলেছে। এ কারণে আমি তার প্রতি জান্নাত হারাম করে দিয়েছি' (বোখারি : ৩২৭৬)। আত্মহত্যার কুফল সম্পর্কে রাসুল (সা.) আরও বলেছেন, যে ব্যক্তি পাহাড় থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করবে, সে জাহান্নামে স্থায়ীভাবে লাফ দিতে থাকবে। একইভাবে বিষপানে বা ছুরির আঘাতে আত্মহত্যা করলে পরকালেও তাকে একই শাস্তি দেওয়া হবে। রাসুল (সা.) সুস্পষ্টভাবে বলেছেন, 'যে ব্যক্তি ইহকালে কোনো কিছু দ্বারা নিজেকে হত্যা করবে, তা দ্বারা পরকালে তাকে শাস্তি প্রদান করা হবে' (বোখারি : ৫৭০০, মুসলিম : ১০৯; বোখারি : ৫৭৭৮, মুসলিম : ১৭৭৮)।

ডিপ্রেশন, মানসিক অশান্তি ও পারিবারিক কলহের মতো কঠিন পরিস্থিতিতে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা বা তাওয়াক্কুল করা মোমিনের প্রধান গুণ। আত্মহত্যার পথ বেছে না নিয়ে যেকোনো পরিস্থিতিতে আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহ কামনা করাই প্রকৃত ঈমানদারের বৈশিষ্ট্য। আল্লাহতায়ালা সুরা হিজরের ৫৬ নম্বর আয়াতে বলেন, 'যারা পথভ্রষ্ট, তারা ছাড়া আর কে তার রবের অনুগ্রহ হতে নিরাশ হয়?' এছাড়া সুরা যুমারের ৫৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, 'তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে নিরাশ হয়ো না।' বিপদাপদে সবক্ষেত্রে আল্লাহর রহমতই একমাত্র ভরসা, কারণ পৃথিবী ক্ষণস্থায়ী এবং কোনো সংকটই স্থায়ী নয়। আল্লাহ বলেন, 'কষ্টের পরেই সুখ আসে' (সুরা ইনশিরাহ : ৫) এবং 'যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট' (সুরা তালাক : ৩)।

ইসলাম মানুষকে মৃত্যু কামনা করতেও নিষেধ করেছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, 'তোমাদের কেউ যেন দুঃখ-কষ্টে পড়লে মৃত্যু কামনা না করে। যদি কিছু করতেই চায়, তাহলে সে যেন বলে, হে আল্লাহ! আমাকে জীবিত রাখো, যতদিন আমার জন্য বেঁচে থাকা কল্যাণকর হয়। আর মৃত্যু দাও, যখন আমার জন্য মরে যাওয়া কল্যাণকর হয়' (বোখারি : ৫৬৭১)।