লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জেমস ওয়েব টেলিস্কোপে মিলল রহস্যময় ‘ব্ল্যাক হোল স্টার’

মহাবিশ্বে সম্পূর্ণ নতুন এক ধরনের মহাজাগতিক বস্তুর সন্ধান পাওয়ার দাবি করেছেন একদল জ্যোতির্বিজ্ঞানী। 'ব্ল্যাক হোল স্টার' বা 'কৃষ্ণগহ্বর নক্ষত্র' নামের এই রহস্যময় বস্তুটি একই সঙ্গে নক্ষত্রের মতো উজ্জ্বল আলো ছড়ায় এবং ব্ল্যাক হোলের মতো বিপুল পরিমাণ শক্তি নির্গত করে। নাসার জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের সাহায্যে সংগৃহীত আদি মহাবিশ্বের ছবি বিশ্লেষণ করে আন্তর্জাতিক গবেষক দলটি এই সম্ভাব্য নতুন বস্তুর খোঁজ পেয়েছে।

'এমওএম-বিএইচ*-ওয়ান' নামের এই বস্তুটি পৃথিবী থেকে কোটি কোটি আলোকবর্ষ দূরে 'সিটাস' বা তিমি নক্ষত্রমণ্ডলে অবস্থিত। বিজ্ঞানীদের ধারণা, মহাবিস্ফোরণ বা বিগ ব্যাং-এর মাত্র ৬৬ কোটি বছর পর এটি গঠিত হয়েছিল। অর্থাৎ জেমস ওয়েব টেলিস্কোপে বস্তুটিকে মহাবিশ্বের একেবারে শুরুর দিকের অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। পুরো সৌরজগতের সমান আকৃতির এই বস্তুটি দেখতে বিশাল নক্ষত্রের মতো হলেও এর শক্তি নির্গমনের ধরন প্রচলিত কোনো নক্ষত্রের সঙ্গে মেলে না। এটি পরিচিত যেকোনো নক্ষত্রের চেয়ে প্রায় ১০ হাজার কোটি গুণ বেশি শক্তি নির্গত করে, যা মূলত ব্ল্যাক হোলের শক্তি উৎপাদনের মাত্রার কাছাকাছি।

বিজ্ঞান সাময়িকী 'নেচার'-এ এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন ড. রোহান নাইডু, যিনি ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) কাভলি ইনস্টিটিউট ফর অ্যাস্ট্রোফিজিকস অ্যান্ড স্পেস রিসার্চে থাকাকালীন এই কাজ শুরু করেন এবং বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব হাওয়াইয়ে কর্মরত আছেন। তিনি জানান, নতুন ধরনের এই জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক বস্তুটি ব্ল্যাক হোলের মতো শক্তি নির্গত করার পাশাপাশি নক্ষত্রের বৈশিষ্ট্যও বহন করে।

গবেষকরা মূলত জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ দিয়ে দূরবর্তী গ্যালাক্সি খুঁজছিলেন। এর আগে তারা বিগ ব্যাং-এর মাত্র ২৮ কোটি বছর পরের গ্যালাক্সি 'এমওএম-জেড১৪' শনাক্ত করেছিলেন। এরপর তাদের নজর কাড়ে অত্যন্ত উজ্জ্বল ও অস্বাভাবিক লাল একটি বিন্দু। এটিই টেলিস্কোপের আর্কাইভে থাকা সবচেয়ে লাল বস্তু 'এমওএম-বিএইচ*-ওয়ান'। ড. নাইডুর মতে, এর আলো প্রায় সম্পূর্ণ লাল এবং একটি নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের নিচে গিয়ে হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে যায়, যা অন্য কোনো মহাজাগতিক বস্তুর ক্ষেত্রে দেখা যায় না।

কম্পিউটার সিমুলেশনের মাধ্যমে গবেষকরা ধারণা করছেন, এটি পারমাণবিক সংযোজনের মাধ্যমে শক্তি উৎপাদনকারী সাধারণ নক্ষত্র নয়। মূলত এটি একটি ব্ল্যাক হোল, যা অত্যন্ত ঘন গ্যাসের বিশাল মেঘ দিয়ে ঘেরা। সেই গ্যাসের আবরণ থেকেই নক্ষত্রের মতো উজ্জ্বল আলো বের হচ্ছে। বিজ্ঞানীদের এই ব্যাখ্যা সঠিক হলে জেমস ওয়েব টেলিস্কোপে দেখা যাওয়া অনেক 'লিটল রেড ডট' বা ছোট লাল বিন্দুই আসলে কৃষ্ণগহ্বর নক্ষত্র হতে পারে।

এই আবিষ্কার মহাবিশ্বের প্রাথমিক পর্যায়ে ব্ল্যাক হোল ও গ্যালাক্সির বিবর্তন সম্পর্কে নতুন ধারণা দিতে পারে। ড. নাইডুর মতে, এই ব্ল্যাক হোল স্টারগুলোই হয়তো বর্তমান সময়ের সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোলের প্রাথমিক বীজ, যা গ্যালাক্সির বিবর্তন ও নক্ষত্র তৈরির প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। আর নক্ষত্র গঠনের ওপর এই প্রভাব শেষ পর্যন্ত গ্রহের জন্ম, জীবনের বিকাশ এবং বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভবের মতো মহাজাগতিক ঘটনাগুলোর গতিপথ নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে বস্তুটিকে নিশ্চিতভাবে নতুন শ্রেণির ঘোষণা করতে আরও পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

এইচএসসির খাতা পুনর্মূল্যায়নের আবেদনের সময় বাড়ল শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত

জেমস ওয়েব টেলিস্কোপে মিলল রহস্যময় ‘ব্ল্যাক হোল স্টার’

প্রকাশিত হয়েছে: ১০:০৭:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

মহাবিশ্বে সম্পূর্ণ নতুন এক ধরনের মহাজাগতিক বস্তুর সন্ধান পাওয়ার দাবি করেছেন একদল জ্যোতির্বিজ্ঞানী। 'ব্ল্যাক হোল স্টার' বা 'কৃষ্ণগহ্বর নক্ষত্র' নামের এই রহস্যময় বস্তুটি একই সঙ্গে নক্ষত্রের মতো উজ্জ্বল আলো ছড়ায় এবং ব্ল্যাক হোলের মতো বিপুল পরিমাণ শক্তি নির্গত করে। নাসার জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের সাহায্যে সংগৃহীত আদি মহাবিশ্বের ছবি বিশ্লেষণ করে আন্তর্জাতিক গবেষক দলটি এই সম্ভাব্য নতুন বস্তুর খোঁজ পেয়েছে।

'এমওএম-বিএইচ*-ওয়ান' নামের এই বস্তুটি পৃথিবী থেকে কোটি কোটি আলোকবর্ষ দূরে 'সিটাস' বা তিমি নক্ষত্রমণ্ডলে অবস্থিত। বিজ্ঞানীদের ধারণা, মহাবিস্ফোরণ বা বিগ ব্যাং-এর মাত্র ৬৬ কোটি বছর পর এটি গঠিত হয়েছিল। অর্থাৎ জেমস ওয়েব টেলিস্কোপে বস্তুটিকে মহাবিশ্বের একেবারে শুরুর দিকের অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। পুরো সৌরজগতের সমান আকৃতির এই বস্তুটি দেখতে বিশাল নক্ষত্রের মতো হলেও এর শক্তি নির্গমনের ধরন প্রচলিত কোনো নক্ষত্রের সঙ্গে মেলে না। এটি পরিচিত যেকোনো নক্ষত্রের চেয়ে প্রায় ১০ হাজার কোটি গুণ বেশি শক্তি নির্গত করে, যা মূলত ব্ল্যাক হোলের শক্তি উৎপাদনের মাত্রার কাছাকাছি।

বিজ্ঞান সাময়িকী 'নেচার'-এ এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন ড. রোহান নাইডু, যিনি ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) কাভলি ইনস্টিটিউট ফর অ্যাস্ট্রোফিজিকস অ্যান্ড স্পেস রিসার্চে থাকাকালীন এই কাজ শুরু করেন এবং বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব হাওয়াইয়ে কর্মরত আছেন। তিনি জানান, নতুন ধরনের এই জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক বস্তুটি ব্ল্যাক হোলের মতো শক্তি নির্গত করার পাশাপাশি নক্ষত্রের বৈশিষ্ট্যও বহন করে।

গবেষকরা মূলত জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ দিয়ে দূরবর্তী গ্যালাক্সি খুঁজছিলেন। এর আগে তারা বিগ ব্যাং-এর মাত্র ২৮ কোটি বছর পরের গ্যালাক্সি 'এমওএম-জেড১৪' শনাক্ত করেছিলেন। এরপর তাদের নজর কাড়ে অত্যন্ত উজ্জ্বল ও অস্বাভাবিক লাল একটি বিন্দু। এটিই টেলিস্কোপের আর্কাইভে থাকা সবচেয়ে লাল বস্তু 'এমওএম-বিএইচ*-ওয়ান'। ড. নাইডুর মতে, এর আলো প্রায় সম্পূর্ণ লাল এবং একটি নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের নিচে গিয়ে হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে যায়, যা অন্য কোনো মহাজাগতিক বস্তুর ক্ষেত্রে দেখা যায় না।

কম্পিউটার সিমুলেশনের মাধ্যমে গবেষকরা ধারণা করছেন, এটি পারমাণবিক সংযোজনের মাধ্যমে শক্তি উৎপাদনকারী সাধারণ নক্ষত্র নয়। মূলত এটি একটি ব্ল্যাক হোল, যা অত্যন্ত ঘন গ্যাসের বিশাল মেঘ দিয়ে ঘেরা। সেই গ্যাসের আবরণ থেকেই নক্ষত্রের মতো উজ্জ্বল আলো বের হচ্ছে। বিজ্ঞানীদের এই ব্যাখ্যা সঠিক হলে জেমস ওয়েব টেলিস্কোপে দেখা যাওয়া অনেক 'লিটল রেড ডট' বা ছোট লাল বিন্দুই আসলে কৃষ্ণগহ্বর নক্ষত্র হতে পারে।

এই আবিষ্কার মহাবিশ্বের প্রাথমিক পর্যায়ে ব্ল্যাক হোল ও গ্যালাক্সির বিবর্তন সম্পর্কে নতুন ধারণা দিতে পারে। ড. নাইডুর মতে, এই ব্ল্যাক হোল স্টারগুলোই হয়তো বর্তমান সময়ের সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোলের প্রাথমিক বীজ, যা গ্যালাক্সির বিবর্তন ও নক্ষত্র তৈরির প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। আর নক্ষত্র গঠনের ওপর এই প্রভাব শেষ পর্যন্ত গ্রহের জন্ম, জীবনের বিকাশ এবং বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভবের মতো মহাজাগতিক ঘটনাগুলোর গতিপথ নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে বস্তুটিকে নিশ্চিতভাবে নতুন শ্রেণির ঘোষণা করতে আরও পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।