লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২০২৪ সালের ২০ জুলাই: কারফিউ ও সেনা মোতায়েনে উত্তপ্ত বাংলাদেশ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ২০২৪ সালের ২০ জুলাই বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম উত্তপ্ত দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। ভয়াবহ সহিংসতা ও প্রাণহানির প্রেক্ষাপটে সরকার সেদিন দেশজুড়ে কারফিউ জারি করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী মাঠে নামায়। একই সঙ্গে ২১ ও ২২ জুলাই সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়।

বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০ জুলাই পর্যন্ত দেশজুড়ে নিহতের সংখ্যা ১৪৮ জনে পৌঁছায়। তবে বিএনপি দাবি করেছে, কোটা সংস্কার আন্দোলন দমনে দুই শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় সঠিক তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে ব্যাপক বাধার সম্মুখীন হতে হয়। ২০ জুলাই রাত ১২টা থেকে প্রথম দফার কারফিউ শুরু হয়, যা দুপুর ১২টা পর্যন্ত কার্যকর ছিল। দুই ঘণ্টার বিরতির পর পুনরায় কারফিউ শুরু হয়ে ২১ জুলাই বিকেল পর্যন্ত বহাল রাখার ঘোষণা দেয় সরকার।

কারফিউ চলাকালীন জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হওয়ার জন্য ডিএমপির বিশেষ কারফিউ পাসের বাধ্যবাধকতা ছিল। রাজধানীসহ সারা দেশে ইন্টারনেট সেবা তিন দিন ধরে বন্ধ থাকায় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ে। যাত্রাবাড়ী, মিরপুর, উত্তরা, নিউমার্কেট, সায়েন্সল্যাব, বাড্ডা, রামপুরা, ভাটারা, ধানমন্ডি, আজিমপুর ও সাভারের মতো এলাকায় বিক্ষোভকারী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ার গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও গুলি ব্যবহার করে।

সহিংসতার সময় মিরপুরের কাজীপাড়া মেট্রোরেল স্টেশনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। জননিরাপত্তার স্বার্থে সরকার মেট্রোরেল, এক্সপ্রেসওয়ে এবং যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান ফ্লাইওভার সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। এছাড়া সিদ্ধিরগঞ্জে হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আটকে পড়া ব্যক্তিদের সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব ও পুলিশের সমন্বিত অভিযানে উদ্ধার করা হয়। রাজধানীজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা, কারাগার ও মন্ত্রালয়ের নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং র‍্যাবের হেলিকপ্টার টহল অব্যাহত থাকে।

রাজনৈতিক অঙ্গনেও অস্থিরতা ছিল তুঙ্গে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং নজরুল ইসলাম খান ও রুহুল কবির রিজভীকে রিমান্ডে নেওয়া হয়। এছাড়া অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী ও নুরুল হক নুরকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তুলে নিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এর বিপরীতে, রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের বৈঠকে আট দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। তৎকালীন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক দাবি করেন, আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। তবে সরকার বিএনপি-জামায়াতকে সহিংসতার জন্য দায়ী করলেও সমন্বয়করা সরকারি স্থাপনায় ভাঙচুরের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

সব ফ্রন্টে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি ইসরাইলি সেনাবাহিনীর

২০২৪ সালের ২০ জুলাই: কারফিউ ও সেনা মোতায়েনে উত্তপ্ত বাংলাদেশ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:০১:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ২০২৪ সালের ২০ জুলাই বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম উত্তপ্ত দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। ভয়াবহ সহিংসতা ও প্রাণহানির প্রেক্ষাপটে সরকার সেদিন দেশজুড়ে কারফিউ জারি করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী মাঠে নামায়। একই সঙ্গে ২১ ও ২২ জুলাই সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়।

বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০ জুলাই পর্যন্ত দেশজুড়ে নিহতের সংখ্যা ১৪৮ জনে পৌঁছায়। তবে বিএনপি দাবি করেছে, কোটা সংস্কার আন্দোলন দমনে দুই শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় সঠিক তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে ব্যাপক বাধার সম্মুখীন হতে হয়। ২০ জুলাই রাত ১২টা থেকে প্রথম দফার কারফিউ শুরু হয়, যা দুপুর ১২টা পর্যন্ত কার্যকর ছিল। দুই ঘণ্টার বিরতির পর পুনরায় কারফিউ শুরু হয়ে ২১ জুলাই বিকেল পর্যন্ত বহাল রাখার ঘোষণা দেয় সরকার।

কারফিউ চলাকালীন জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হওয়ার জন্য ডিএমপির বিশেষ কারফিউ পাসের বাধ্যবাধকতা ছিল। রাজধানীসহ সারা দেশে ইন্টারনেট সেবা তিন দিন ধরে বন্ধ থাকায় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ে। যাত্রাবাড়ী, মিরপুর, উত্তরা, নিউমার্কেট, সায়েন্সল্যাব, বাড্ডা, রামপুরা, ভাটারা, ধানমন্ডি, আজিমপুর ও সাভারের মতো এলাকায় বিক্ষোভকারী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ার গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও গুলি ব্যবহার করে।

সহিংসতার সময় মিরপুরের কাজীপাড়া মেট্রোরেল স্টেশনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। জননিরাপত্তার স্বার্থে সরকার মেট্রোরেল, এক্সপ্রেসওয়ে এবং যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান ফ্লাইওভার সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। এছাড়া সিদ্ধিরগঞ্জে হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আটকে পড়া ব্যক্তিদের সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব ও পুলিশের সমন্বিত অভিযানে উদ্ধার করা হয়। রাজধানীজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা, কারাগার ও মন্ত্রালয়ের নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং র‍্যাবের হেলিকপ্টার টহল অব্যাহত থাকে।

রাজনৈতিক অঙ্গনেও অস্থিরতা ছিল তুঙ্গে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং নজরুল ইসলাম খান ও রুহুল কবির রিজভীকে রিমান্ডে নেওয়া হয়। এছাড়া অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী ও নুরুল হক নুরকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তুলে নিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এর বিপরীতে, রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের বৈঠকে আট দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। তৎকালীন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক দাবি করেন, আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। তবে সরকার বিএনপি-জামায়াতকে সহিংসতার জন্য দায়ী করলেও সমন্বয়করা সরকারি স্থাপনায় ভাঙচুরের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেন।