লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৫:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাই জাদুঘরের নিদর্শন নষ্ট করলে ১০ বছরের জেল

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের স্থাবর নিদর্শনের ক্ষতিসাধন করলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে, জাদুঘরের কোনো অস্থাবর নিদর্শন চুরি, পাচার বা নষ্ট করার অপরাধে অনধিক পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের ইতিহাস ও স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণের লক্ষ্যে 'জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আইন- ২০২৬' প্রণয়ন করা হয়েছে। আইনটি ২০২৬ সালের ১০ এপ্রিল কার্যকর হয়। গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই জাদুঘরটি উদ্বোধন করেন এবং পরদিন থেকে এটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

আইনের ৪ ধারা অনুযায়ী, ঢাকার গণভবনে জাদুঘরের প্রধান কার্যালয় স্থাপিত হবে। এছাড়া ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত ফ্যাসিস্ট সরকারের শাসনামলে যেসব গোপন কারাগারে মানবতাবিরোধী অপরাধ হয়েছে, সেগুলো জাদুঘরের অধীনে শাখা জাদুঘর হিসেবে সংরক্ষণের অধিকার থাকবে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো এসব কারাগার জাদুঘরের কাছে হস্তান্তর করতে বাধ্য থাকবে।

জাদুঘরের কার্যাবলির মধ্যে রয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন, ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ এবং গণতন্ত্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের স্মৃতিচিহ্ন ও দলিল অনুসন্ধান, সংগ্রহ ও প্রদর্শন। ১৫ ধারা অনুযায়ী, পর্ষদের সুপারিশ ও সরকারি অনুমোদনে জাতীয় জাদুঘর বা অন্য কারো সঙ্গে নিদর্শন বিনিময় বা উপহার আদান-প্রদান করা যাবে, তবে এক্ষেত্রে চুক্তি সম্পাদন বাধ্যতামূলক।

১৬ ধারা অনুযায়ী, মহাপরিচালক বা তার ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলাই অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট নিদর্শন কারো কাছে আছে বলে সন্দেহ করলে সেই স্থান পরিদর্শন ও যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারবেন। ১৭ ধারা অনুযায়ী, পর্ষদ নির্ধারিত প্রবেশ মূল্যের বিনিময়ে দর্শনার্থীরা জাদুঘরে প্রবেশের সুযোগ পাবেন।

জাদুঘরের কোনো নিদর্শনের ওপর খোদাই, লিখন বা স্বাক্ষর করলে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া ২৫ ধারা অনুযায়ী, জাদুঘরের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী অপরাধে জড়িয়ে পড়লে সাধারণ দণ্ডের পাশাপাশি বিভাগীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়েও অভিযুক্ত হবেন।

আইনের ৫ ধারায় বলা হয়েছে, এই জাদুঘরের কার্যাবলির মধ্যে রয়েছে- জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ও পলায়ন সংশ্লিষ্ট ঐতিহাসিক নিদর্শন ও স্মৃতিচিহ্ন, পূর্ববঙ্গের ইতিহাস, ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ সংশ্লিষ্ট নিদর্শন, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারবিরোধী কার্যক্রম ও ফ্যাসিবাদের উত্থান সংক্রান্ত স্মৃতিচিহ্ন, প্রামাণ্য দলিল, সংশ্লিষ্ট বস্তু ও নিদর্শন অনুসন্ধান, সংগ্রহ, সংরক্ষণ, গবেষণা ও প্রদর্শন।

জনপ্রিয় সংবাদ

নওগাঁয় বাসা ভাড়া নিয়ে জাল নোটের কারবার, আটক ১

জুলাই জাদুঘরের নিদর্শন নষ্ট করলে ১০ বছরের জেল

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:৩০:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের স্থাবর নিদর্শনের ক্ষতিসাধন করলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে, জাদুঘরের কোনো অস্থাবর নিদর্শন চুরি, পাচার বা নষ্ট করার অপরাধে অনধিক পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের ইতিহাস ও স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণের লক্ষ্যে 'জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আইন- ২০২৬' প্রণয়ন করা হয়েছে। আইনটি ২০২৬ সালের ১০ এপ্রিল কার্যকর হয়। গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই জাদুঘরটি উদ্বোধন করেন এবং পরদিন থেকে এটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

আইনের ৪ ধারা অনুযায়ী, ঢাকার গণভবনে জাদুঘরের প্রধান কার্যালয় স্থাপিত হবে। এছাড়া ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত ফ্যাসিস্ট সরকারের শাসনামলে যেসব গোপন কারাগারে মানবতাবিরোধী অপরাধ হয়েছে, সেগুলো জাদুঘরের অধীনে শাখা জাদুঘর হিসেবে সংরক্ষণের অধিকার থাকবে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো এসব কারাগার জাদুঘরের কাছে হস্তান্তর করতে বাধ্য থাকবে।

জাদুঘরের কার্যাবলির মধ্যে রয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন, ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ এবং গণতন্ত্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের স্মৃতিচিহ্ন ও দলিল অনুসন্ধান, সংগ্রহ ও প্রদর্শন। ১৫ ধারা অনুযায়ী, পর্ষদের সুপারিশ ও সরকারি অনুমোদনে জাতীয় জাদুঘর বা অন্য কারো সঙ্গে নিদর্শন বিনিময় বা উপহার আদান-প্রদান করা যাবে, তবে এক্ষেত্রে চুক্তি সম্পাদন বাধ্যতামূলক।

১৬ ধারা অনুযায়ী, মহাপরিচালক বা তার ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলাই অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট নিদর্শন কারো কাছে আছে বলে সন্দেহ করলে সেই স্থান পরিদর্শন ও যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারবেন। ১৭ ধারা অনুযায়ী, পর্ষদ নির্ধারিত প্রবেশ মূল্যের বিনিময়ে দর্শনার্থীরা জাদুঘরে প্রবেশের সুযোগ পাবেন।

জাদুঘরের কোনো নিদর্শনের ওপর খোদাই, লিখন বা স্বাক্ষর করলে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া ২৫ ধারা অনুযায়ী, জাদুঘরের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী অপরাধে জড়িয়ে পড়লে সাধারণ দণ্ডের পাশাপাশি বিভাগীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়েও অভিযুক্ত হবেন।

আইনের ৫ ধারায় বলা হয়েছে, এই জাদুঘরের কার্যাবলির মধ্যে রয়েছে- জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ও পলায়ন সংশ্লিষ্ট ঐতিহাসিক নিদর্শন ও স্মৃতিচিহ্ন, পূর্ববঙ্গের ইতিহাস, ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ সংশ্লিষ্ট নিদর্শন, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারবিরোধী কার্যক্রম ও ফ্যাসিবাদের উত্থান সংক্রান্ত স্মৃতিচিহ্ন, প্রামাণ্য দলিল, সংশ্লিষ্ট বস্তু ও নিদর্শন অনুসন্ধান, সংগ্রহ, সংরক্ষণ, গবেষণা ও প্রদর্শন।