লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খুলনায় দাম্পত্য কলহে ফাঁস হলো ইজিবাইক চালক হত্যার ঘটনা

খুলনা নগরের হরিণটানা এলাকায় দাম্পত্য কলহের জেরে এক ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। গত রমজান মাসের মাঝামাঝি সময়ে ঘটা এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি এতদিন গোপন থাকলেও, সম্প্রতি ওই দম্পতির নিজেদের মধ্যে ঝগড়ার এক পর্যায়ে স্ত্রী থানায় গিয়ে পুলিশকে সব খুলে বলেন। স্ত্রীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই আজ সোমবার দুপুরে পুলিশ ওই দম্পতির বাড়ির উঠান খুঁড়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।

নিহত ব্যক্তির পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। সোনাডাঙ্গা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. হুমায়ুন কবির জানান, ওই বাড়ির ৩০ বছর বয়সী মালিক ও তার ২২ বছর বয়সী স্ত্রীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, রমজান মাসের মাঝামাঝি সময়ে ঘটনাটি ঘটলেও এতদিন তা সামনে আসেনি। মরদেহটি মাটির সাথে অনেকটা মিশে গেছে। বর্তমানে পুলিশের পাশাপাশি পিবিআই ও সিআইডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে কাজ করছেন। নিহত ব্যক্তি নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ ছিল না বলেও পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ ও প্রাথমিক তদন্তের তথ্যানুযায়ী, নিহত ব্যক্তি একজন ইজিবাইকচালক ছিলেন। তিনি ইজিবাইক নিয়ে ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন। সেখানে খাবারের সঙ্গে কিছু মিশিয়ে তাকে অচেতন করার পর ওই দম্পতি মিলে গলা টিপে হত্যা করেন। এরপর মরদেহ বাড়ির উঠানে পুঁতে রাখা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর স্বামী ইজিবাইকটির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ খুলে আলাদা করে বিক্রি করে দেন। হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হেলাল উদ্দিন জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে ইজিবাইকের একটি নম্বর প্লেট পাওয়া গেছে। সিটি করপোরেশনের তথ্যমতে, ইজিবাইকটি প্রায় চার বছর আগে মোস্তফা নামের এক ব্যক্তি বিক্রি করে দিয়েছিলেন। নিহত ব্যক্তি মারুফ নামে কেউ হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে আরও জানা গেছে, নিহত ব্যক্তির একটি পা ছিল না।

স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, এলাকাটি বেশ নির্জন হওয়ায় ওই দম্পতির কর্মকাণ্ড কারো নজরে পড়েনি। তারা ওই দম্পতির সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন না, তবে প্রায়ই তাদের মধ্যে ঝগড়াঝাটির শব্দ শোনা যেত। পুলিশের তথ্যমতে, ওই নারী আগে থেকেই যৌনকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং কয়েক মাস আগে ওই বাড়ির মালিকের সঙ্গে পরিচয়ের পর তারা বিয়ে করেন। বিয়ের পরও স্বামীর সহযোগিতায় নারী তার আগের পেশায় যুক্ত ছিলেন এবং সেই সূত্রেই নিহত ব্যক্তিকে বাড়িতে ডেকে আনা হয়েছিল।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউনিলিভার বিজমায়েস্ট্রোজ ২০২৬-এর চ্যাম্পিয়ন ‘সোপ-আর-স্টারস’

খুলনায় দাম্পত্য কলহে ফাঁস হলো ইজিবাইক চালক হত্যার ঘটনা

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:৪৬:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

খুলনা নগরের হরিণটানা এলাকায় দাম্পত্য কলহের জেরে এক ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। গত রমজান মাসের মাঝামাঝি সময়ে ঘটা এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি এতদিন গোপন থাকলেও, সম্প্রতি ওই দম্পতির নিজেদের মধ্যে ঝগড়ার এক পর্যায়ে স্ত্রী থানায় গিয়ে পুলিশকে সব খুলে বলেন। স্ত্রীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই আজ সোমবার দুপুরে পুলিশ ওই দম্পতির বাড়ির উঠান খুঁড়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।

নিহত ব্যক্তির পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। সোনাডাঙ্গা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. হুমায়ুন কবির জানান, ওই বাড়ির ৩০ বছর বয়সী মালিক ও তার ২২ বছর বয়সী স্ত্রীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, রমজান মাসের মাঝামাঝি সময়ে ঘটনাটি ঘটলেও এতদিন তা সামনে আসেনি। মরদেহটি মাটির সাথে অনেকটা মিশে গেছে। বর্তমানে পুলিশের পাশাপাশি পিবিআই ও সিআইডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে কাজ করছেন। নিহত ব্যক্তি নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ ছিল না বলেও পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ ও প্রাথমিক তদন্তের তথ্যানুযায়ী, নিহত ব্যক্তি একজন ইজিবাইকচালক ছিলেন। তিনি ইজিবাইক নিয়ে ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন। সেখানে খাবারের সঙ্গে কিছু মিশিয়ে তাকে অচেতন করার পর ওই দম্পতি মিলে গলা টিপে হত্যা করেন। এরপর মরদেহ বাড়ির উঠানে পুঁতে রাখা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর স্বামী ইজিবাইকটির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ খুলে আলাদা করে বিক্রি করে দেন। হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হেলাল উদ্দিন জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে ইজিবাইকের একটি নম্বর প্লেট পাওয়া গেছে। সিটি করপোরেশনের তথ্যমতে, ইজিবাইকটি প্রায় চার বছর আগে মোস্তফা নামের এক ব্যক্তি বিক্রি করে দিয়েছিলেন। নিহত ব্যক্তি মারুফ নামে কেউ হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে আরও জানা গেছে, নিহত ব্যক্তির একটি পা ছিল না।

স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, এলাকাটি বেশ নির্জন হওয়ায় ওই দম্পতির কর্মকাণ্ড কারো নজরে পড়েনি। তারা ওই দম্পতির সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন না, তবে প্রায়ই তাদের মধ্যে ঝগড়াঝাটির শব্দ শোনা যেত। পুলিশের তথ্যমতে, ওই নারী আগে থেকেই যৌনকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং কয়েক মাস আগে ওই বাড়ির মালিকের সঙ্গে পরিচয়ের পর তারা বিয়ে করেন। বিয়ের পরও স্বামীর সহযোগিতায় নারী তার আগের পেশায় যুক্ত ছিলেন এবং সেই সূত্রেই নিহত ব্যক্তিকে বাড়িতে ডেকে আনা হয়েছিল।