লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামে বড় দরপতন

বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে বিশ্বজুড়ে নতুন করে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার আরও বাড়াতে পারে—এমন জোরালো বার্তা পাওয়ার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমতে শুরু করেছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববাজারে স্পট গোল্ড বা সরাসরি সোনার দাম ০ দশমিক ৩ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩৩৪ দশমিক ৩১ ডলারে। এর আগে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো সাপ্তাহিক দরপতনের মুখে পড়েছিল এই ধাতু। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে স্বর্ণের ফিউচার বা চুক্তিকালীন দাম ০ দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৭৫ ডলারে নেমে এসেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব অর্থনৈতিক বাজারের চলমান অস্থিরতা ও সুদের হার বৃদ্ধির সংকেত স্বর্ণের মূল্য পতনের প্রধান কারণ। কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার জানান, জ্বালানি পণ্যের ঊর্ধ্বগতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফেড ও জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আসন্ন বৈঠকের আগে নীতিগত সুদের হার বাড়ানোর জোরালো গুঞ্জন রয়েছে। সাধারণত সুদের হার বাড়লে স্থায়ী রিটার্ন না থাকায় বিনিয়োগকারীদের কাছে সোনা বিক্রির প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে ফেডের নীতিনির্ধারণী বৈঠকে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা এখন প্রায় ৮৬ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছেছে। বিশেষ করে আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বৃদ্ধি পাওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ ধরনের কঠোর সিদ্ধান্তের পথ প্রশস্ত হয়েছে।

এদিকে একই দিনে তেলের বাজার ২ শতাংশের বেশি তেতে ওঠায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি হয়েছে। সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় হুতিদের হামলা ও হরমুজ প্রণালি কেন্দ্রিক ইরানের তৎপরতায় বৈশ্বিক সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তেলের এই উল্লম্ফন মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দেওয়ায় স্বর্ণের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও দরপতনের ঢেউ লেগেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে রূপার দাম ০ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৪ দশমিক ০২ ডলারে নেমে এসেছে। এছাড়া প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও বিশ্ববাজারে হ্রাস পেয়ে সর্বনিম্ন পর্যায়ে অবস্থান করছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ-রাশিয়া বিজনেস কাউন্সিল গঠনে আগ্রহী মস্কো

বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামে বড় দরপতন

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:০২:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে বিশ্বজুড়ে নতুন করে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার আরও বাড়াতে পারে—এমন জোরালো বার্তা পাওয়ার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমতে শুরু করেছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববাজারে স্পট গোল্ড বা সরাসরি সোনার দাম ০ দশমিক ৩ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩৩৪ দশমিক ৩১ ডলারে। এর আগে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো সাপ্তাহিক দরপতনের মুখে পড়েছিল এই ধাতু। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে স্বর্ণের ফিউচার বা চুক্তিকালীন দাম ০ দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৭৫ ডলারে নেমে এসেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব অর্থনৈতিক বাজারের চলমান অস্থিরতা ও সুদের হার বৃদ্ধির সংকেত স্বর্ণের মূল্য পতনের প্রধান কারণ। কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার জানান, জ্বালানি পণ্যের ঊর্ধ্বগতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফেড ও জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আসন্ন বৈঠকের আগে নীতিগত সুদের হার বাড়ানোর জোরালো গুঞ্জন রয়েছে। সাধারণত সুদের হার বাড়লে স্থায়ী রিটার্ন না থাকায় বিনিয়োগকারীদের কাছে সোনা বিক্রির প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে ফেডের নীতিনির্ধারণী বৈঠকে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা এখন প্রায় ৮৬ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছেছে। বিশেষ করে আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বৃদ্ধি পাওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ ধরনের কঠোর সিদ্ধান্তের পথ প্রশস্ত হয়েছে।

এদিকে একই দিনে তেলের বাজার ২ শতাংশের বেশি তেতে ওঠায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি হয়েছে। সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় হুতিদের হামলা ও হরমুজ প্রণালি কেন্দ্রিক ইরানের তৎপরতায় বৈশ্বিক সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তেলের এই উল্লম্ফন মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দেওয়ায় স্বর্ণের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও দরপতনের ঢেউ লেগেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে রূপার দাম ০ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৪ দশমিক ০২ ডলারে নেমে এসেছে। এছাড়া প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও বিশ্ববাজারে হ্রাস পেয়ে সর্বনিম্ন পর্যায়ে অবস্থান করছে।