লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৫:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাই শহীদদের কবর সংরক্ষণের দাবি স্বজনদের

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত শহীদদের কবর স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন তাদের স্বজনরা। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে ‘শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাবৃন্দ’ ব্যানারে আয়োজিত এক দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠানে এই দাবি তোলা হয়। অনুষ্ঠানে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন হওয়া শহীদদের পরিবারের সদস্য ও জুলাইয়ে আহত ব্যক্তিরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে শহীদ মো. আসাদুল্লাহর স্ত্রী ফারজানা আক্তার কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, তার স্বামীর শেষ চিহ্নটুকু যেন সংরক্ষণ করা হয়। তিনি বলেন, তার ছয় বছরের মেয়ে আরিফা জাহান লিলি বড় হয়ে যেন অন্তত বাবার কবরটা দেখতে পারে। পেশায় গাড়িচালক ৩১ বছর বয়সী আসাদুল্লাহ ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই উত্তরায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে ২৪ জুলাই তাকে রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয়। ফারজানার অভিযোগ, কবর শনাক্ত করা হলেও টানা বৃষ্টিতে সেগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং সংরক্ষণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। আসাদুল্লাহর শেষ ইচ্ছা ছিল তাকে ঘরের পাশে কবর দেওয়া হোক, যা পূরণ হয়নি।

যাত্রাবাড়ীর আন্দোলনে নিহত পোশাক ব্যবসায়ী সোহেল রানার মা রাশেদা বেগম তার ছেলের হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে বলেন, ১৮ জুলাই চা খাওয়ার কথা বলে বের হওয়ার পর তার ছেলে আর ফেরেনি। তিনি বেঁচে থাকতেই খুনিদের বিচার দেখে যেতে চান। একই এলাকায় নিহত রফিকুল ইসলামের বোন জাহেদা করিম তার ভাইয়ের স্মৃতিচারণ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

অনুষ্ঠানে ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগ ছাড়া বর্তমান রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকা ব্যক্তিদের সেখানে পৌঁছানো সম্ভব হতো না। অথচ শহীদদের কবর ও নামফলক অবহেলার শিকার হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, শহীদদের প্রাপ্য সম্মান না দিলে ভবিষ্যতে মানুষ রাজপথে নামার সাহস হারাবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন শহীদ সোহেল রানার ভাই আলভী নাবিল হোসেন, ভয়েস ফর রিফর্মের সংগঠক ফাহিম মাসরুর, বৈষম্যবিরোধী শহীদ-আহত সেলের সদস্য তামিম আহমেদ এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত নাছির খান ও রাহাত আহমেদ। বক্তারা শহীদদের কবর সংরক্ষণ, যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করা এবং হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার দাবি জানান।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা সফরে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত সার্জিও গোর

জুলাই শহীদদের কবর সংরক্ষণের দাবি স্বজনদের

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:৩০:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত শহীদদের কবর স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন তাদের স্বজনরা। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে ‘শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাবৃন্দ’ ব্যানারে আয়োজিত এক দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠানে এই দাবি তোলা হয়। অনুষ্ঠানে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন হওয়া শহীদদের পরিবারের সদস্য ও জুলাইয়ে আহত ব্যক্তিরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে শহীদ মো. আসাদুল্লাহর স্ত্রী ফারজানা আক্তার কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, তার স্বামীর শেষ চিহ্নটুকু যেন সংরক্ষণ করা হয়। তিনি বলেন, তার ছয় বছরের মেয়ে আরিফা জাহান লিলি বড় হয়ে যেন অন্তত বাবার কবরটা দেখতে পারে। পেশায় গাড়িচালক ৩১ বছর বয়সী আসাদুল্লাহ ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই উত্তরায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে ২৪ জুলাই তাকে রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয়। ফারজানার অভিযোগ, কবর শনাক্ত করা হলেও টানা বৃষ্টিতে সেগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং সংরক্ষণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। আসাদুল্লাহর শেষ ইচ্ছা ছিল তাকে ঘরের পাশে কবর দেওয়া হোক, যা পূরণ হয়নি।

যাত্রাবাড়ীর আন্দোলনে নিহত পোশাক ব্যবসায়ী সোহেল রানার মা রাশেদা বেগম তার ছেলের হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে বলেন, ১৮ জুলাই চা খাওয়ার কথা বলে বের হওয়ার পর তার ছেলে আর ফেরেনি। তিনি বেঁচে থাকতেই খুনিদের বিচার দেখে যেতে চান। একই এলাকায় নিহত রফিকুল ইসলামের বোন জাহেদা করিম তার ভাইয়ের স্মৃতিচারণ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

অনুষ্ঠানে ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগ ছাড়া বর্তমান রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকা ব্যক্তিদের সেখানে পৌঁছানো সম্ভব হতো না। অথচ শহীদদের কবর ও নামফলক অবহেলার শিকার হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, শহীদদের প্রাপ্য সম্মান না দিলে ভবিষ্যতে মানুষ রাজপথে নামার সাহস হারাবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন শহীদ সোহেল রানার ভাই আলভী নাবিল হোসেন, ভয়েস ফর রিফর্মের সংগঠক ফাহিম মাসরুর, বৈষম্যবিরোধী শহীদ-আহত সেলের সদস্য তামিম আহমেদ এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত নাছির খান ও রাহাত আহমেদ। বক্তারা শহীদদের কবর সংরক্ষণ, যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করা এবং হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার দাবি জানান।