লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভূমধ্যসাগরে ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু, নিখোঁজ সুনামগঞ্জের ৫ যুবক

ভূমধ্যসাগরে দীর্ঘ ১১ দিন খাবার ও পানি ছাড়া ভাসমান অবস্থায় থাকার পর গ্রিসগামী একটি রাবারের নৌকায় অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে নয়জনই বাংলাদেশি নাগরিক বলে জানা গেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাঁচ যুবকের এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

মিশরের কায়রোতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি (শ্রম) মো. জাকির হোসেন গণমাধ্যমকে এ মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। মিশরে চিকিৎসাধীন শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া গ্রামের বেঁচে যাওয়া যাত্রী আবদুল করিমের বরাত দিয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

জানা গেছে, গত ৩ আগস্ট লিবিয়া থেকে ৪২ জন যাত্রী নিয়ে রাবারের নৌকাটি গ্রিসের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। কিন্তু পথিমধ্যে নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায় এবং জ্বালানি শেষ হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ ১১ দিন সাগরে ভাসতে ভাসতে গত ১৩ আগস্ট মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলে পৌঁছায় নৌকাটি।

বেঁচে যাওয়া যাত্রী আবদুল করিম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে জানান, নৌকাটিতে ৩৮ জন বাংলাদেশি এবং চারজন সুদানের নাগরিক ছিলেন। ধারণক্ষমতা সর্বোচ্চ ২৫ জন হলেও অতিরিক্ত মুনাফার লোভে ৪২ জনকে তোলা হয়েছিল এবং নৌকাটিতে ছিল মাত্র একটি ইঞ্জিন। দীর্ঘ সময় খাবার ও পানি ছাড়া প্রচণ্ড গরম এবং পানিশূন্যতায় তার চোখের সামনেই প্রথমে নয়জন বাংলাদেশি এবং পরে আরও দুজনের মৃত্যু হয়। বাধ্য হয়ে মৃতদেহগুলো সাগরে ফেলে দেওয়া হয়। দীর্ঘ সময় লবণাক্ত পানিতে থাকার কারণে বেঁচে যাওয়াদের শরীরে পচন ধরে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে।

মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলে স্থানীয় লোকজন নৌকাটি দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দিলে প্রায় ২৯ থেকে ৩০ জনকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃতদের অনেকে অচেতন ছিলেন এবং তাদের দুটি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে।

শান্তিগঞ্জের স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, নিখোঁজ পাঁচ যুবক হলেন—পাগলা শত্রুমর্দান গ্রামের হৃদয় পাল, চিকরকান্দি গ্রামের এনামুল খান, রিপন মিয়া ও মামুন খান এবং রানসি গ্রামের মো. তালহা। নিখোঁজ হৃদয়ের চাচা কানন পাল জানান, গত ৩১ জুলাই হৃদয়ের সঙ্গে তার শেষ কথা হয়, যখন তিনি ৩ আগস্ট গ্রিসের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। ওই দিন দুটি নৌকা ছেড়েছিল এবং প্রথম নৌকার এক যাত্রী জানান যে হৃদয় দ্বিতীয় নৌকায় ছিলেন। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

এই বিষয়ে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সুজন সরকার জানান, পুলিশকে এখন পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। তবে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজের সত্যতা খতিয়ে দেখা হবে। উল্লেখ্য, এর আগে গত মার্চ মাসেও লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে ১৮ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছিল, যাদের মধ্যে ১২ জনই ছিলেন সুনামগঞ্জের বাসিন্দা।

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে ১১৭ ডলার ছাড়াল

ভূমধ্যসাগরে ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু, নিখোঁজ সুনামগঞ্জের ৫ যুবক

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:২৮:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

ভূমধ্যসাগরে দীর্ঘ ১১ দিন খাবার ও পানি ছাড়া ভাসমান অবস্থায় থাকার পর গ্রিসগামী একটি রাবারের নৌকায় অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে নয়জনই বাংলাদেশি নাগরিক বলে জানা গেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাঁচ যুবকের এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

মিশরের কায়রোতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি (শ্রম) মো. জাকির হোসেন গণমাধ্যমকে এ মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। মিশরে চিকিৎসাধীন শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া গ্রামের বেঁচে যাওয়া যাত্রী আবদুল করিমের বরাত দিয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

জানা গেছে, গত ৩ আগস্ট লিবিয়া থেকে ৪২ জন যাত্রী নিয়ে রাবারের নৌকাটি গ্রিসের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। কিন্তু পথিমধ্যে নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায় এবং জ্বালানি শেষ হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ ১১ দিন সাগরে ভাসতে ভাসতে গত ১৩ আগস্ট মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলে পৌঁছায় নৌকাটি।

বেঁচে যাওয়া যাত্রী আবদুল করিম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে জানান, নৌকাটিতে ৩৮ জন বাংলাদেশি এবং চারজন সুদানের নাগরিক ছিলেন। ধারণক্ষমতা সর্বোচ্চ ২৫ জন হলেও অতিরিক্ত মুনাফার লোভে ৪২ জনকে তোলা হয়েছিল এবং নৌকাটিতে ছিল মাত্র একটি ইঞ্জিন। দীর্ঘ সময় খাবার ও পানি ছাড়া প্রচণ্ড গরম এবং পানিশূন্যতায় তার চোখের সামনেই প্রথমে নয়জন বাংলাদেশি এবং পরে আরও দুজনের মৃত্যু হয়। বাধ্য হয়ে মৃতদেহগুলো সাগরে ফেলে দেওয়া হয়। দীর্ঘ সময় লবণাক্ত পানিতে থাকার কারণে বেঁচে যাওয়াদের শরীরে পচন ধরে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে।

মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলে স্থানীয় লোকজন নৌকাটি দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দিলে প্রায় ২৯ থেকে ৩০ জনকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃতদের অনেকে অচেতন ছিলেন এবং তাদের দুটি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে।

শান্তিগঞ্জের স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, নিখোঁজ পাঁচ যুবক হলেন—পাগলা শত্রুমর্দান গ্রামের হৃদয় পাল, চিকরকান্দি গ্রামের এনামুল খান, রিপন মিয়া ও মামুন খান এবং রানসি গ্রামের মো. তালহা। নিখোঁজ হৃদয়ের চাচা কানন পাল জানান, গত ৩১ জুলাই হৃদয়ের সঙ্গে তার শেষ কথা হয়, যখন তিনি ৩ আগস্ট গ্রিসের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। ওই দিন দুটি নৌকা ছেড়েছিল এবং প্রথম নৌকার এক যাত্রী জানান যে হৃদয় দ্বিতীয় নৌকায় ছিলেন। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

এই বিষয়ে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সুজন সরকার জানান, পুলিশকে এখন পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। তবে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজের সত্যতা খতিয়ে দেখা হবে। উল্লেখ্য, এর আগে গত মার্চ মাসেও লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে ১৮ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছিল, যাদের মধ্যে ১২ জনই ছিলেন সুনামগঞ্জের বাসিন্দা।