লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক অভিযাত্রা: সংগ্রাম থেকে রাষ্ট্রপতির প্রার্থী

বাংলাদেশের রাজনীতিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক অবিচল নেতৃত্বের নাম। ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ের এক শিক্ষিত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে পড়ার সময় থেকেই তার রাজনৈতিক জীবনের সূচনা। ষাটের দশকে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সক্রিয় নেতা হিসেবে আইয়ুববিরোধী গণআন্দোলনে অংশ নিয়ে তিনি প্রথমবারের মতো কারাবরণ করেন। শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরি ছেড়ে ১৯৮৬ সালে তিনি পূর্ণকালীন রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে তিনি তৃণমূলের রাজনীতিতে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন।

এরশাদবিরোধী আন্দোলনের উত্তাল সময়ে বিএনপিতে যোগ দেওয়া মির্জা ফখরুল ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি কৃষি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ সালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং ২০১৬ সালে মহাসচিবের দায়িত্ব পাওয়ার পর নানা প্রতিকূলতা ও রাজনৈতিক চাপের মুখেও তিনি দলের সাংগঠনিক ঐক্য ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকলেও তিনি দলের নেতা-কর্মীদের মনোবল অটুট রাখার চেষ্টা করেছেন।

২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে পুনরায় বিজয়ী হয়ে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিএনপি তাকে রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করলে তিনি দলীয় পদ ও মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করেন। এই মনোনয়ন তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের এক নতুন বাঁক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের মতে, মির্জা ফখরুল কেবল একজন মহাসচিব নন, তিনি দুঃসময়ের একজন সংগ্রামী সংগঠক। নজরুল ইসলাম খান তার রাজনৈতিক আদর্শ ও ব্যক্তিত্বের প্রশংসা করে বলেন, উত্থান-পতনের প্রতিটি পর্যায়ে তিনি সংযত ও স্থির ছিলেন। আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ও তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দক্ষতার কথা তুলে ধরেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ ও অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ তার তৃণমূল থেকে জাতীয় নেতৃত্বে উঠে আসার সক্ষমতা এবং শান্ত ব্যক্তিত্বকে সমসাময়িক রাজনীতির জন্য অনন্য বলে মন্তব্য করেছেন।

ঠাকুরগাঁওয়ের তৃণমূল নেতা-কর্মীদের কাছে তিনি কেবল শীর্ষ নেতা নন, বরং দীর্ঘদিনের সহযাত্রী ও অভিভাবক। কারাগারে থাকাকালীনও তিনি কর্মীদের খোঁজখবর নিয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানান। নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন সম্পর্কে মির্জা ফখরুল বরাবরই বিনীত। তার মতে, রাজনীতি কেবল ক্ষমতা নয়, বরং মানুষের অধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার দায়িত্ব। রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পাওয়ার পর তিনি নিজের কৃতিত্বের চেয়ে সহযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের ত্যাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তার এই দীর্ঘ পথচলা বাংলাদেশের পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক বাস্তবতার এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারের অব্যবস্থাপনায় বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট চরমে: জামায়াত

মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক অভিযাত্রা: সংগ্রাম থেকে রাষ্ট্রপতির প্রার্থী

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:২৬:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশের রাজনীতিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক অবিচল নেতৃত্বের নাম। ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ের এক শিক্ষিত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে পড়ার সময় থেকেই তার রাজনৈতিক জীবনের সূচনা। ষাটের দশকে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সক্রিয় নেতা হিসেবে আইয়ুববিরোধী গণআন্দোলনে অংশ নিয়ে তিনি প্রথমবারের মতো কারাবরণ করেন। শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরি ছেড়ে ১৯৮৬ সালে তিনি পূর্ণকালীন রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে তিনি তৃণমূলের রাজনীতিতে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন।

এরশাদবিরোধী আন্দোলনের উত্তাল সময়ে বিএনপিতে যোগ দেওয়া মির্জা ফখরুল ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি কৃষি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ সালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং ২০১৬ সালে মহাসচিবের দায়িত্ব পাওয়ার পর নানা প্রতিকূলতা ও রাজনৈতিক চাপের মুখেও তিনি দলের সাংগঠনিক ঐক্য ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকলেও তিনি দলের নেতা-কর্মীদের মনোবল অটুট রাখার চেষ্টা করেছেন।

২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে পুনরায় বিজয়ী হয়ে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিএনপি তাকে রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করলে তিনি দলীয় পদ ও মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করেন। এই মনোনয়ন তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের এক নতুন বাঁক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের মতে, মির্জা ফখরুল কেবল একজন মহাসচিব নন, তিনি দুঃসময়ের একজন সংগ্রামী সংগঠক। নজরুল ইসলাম খান তার রাজনৈতিক আদর্শ ও ব্যক্তিত্বের প্রশংসা করে বলেন, উত্থান-পতনের প্রতিটি পর্যায়ে তিনি সংযত ও স্থির ছিলেন। আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ও তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দক্ষতার কথা তুলে ধরেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ ও অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ তার তৃণমূল থেকে জাতীয় নেতৃত্বে উঠে আসার সক্ষমতা এবং শান্ত ব্যক্তিত্বকে সমসাময়িক রাজনীতির জন্য অনন্য বলে মন্তব্য করেছেন।

ঠাকুরগাঁওয়ের তৃণমূল নেতা-কর্মীদের কাছে তিনি কেবল শীর্ষ নেতা নন, বরং দীর্ঘদিনের সহযাত্রী ও অভিভাবক। কারাগারে থাকাকালীনও তিনি কর্মীদের খোঁজখবর নিয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানান। নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন সম্পর্কে মির্জা ফখরুল বরাবরই বিনীত। তার মতে, রাজনীতি কেবল ক্ষমতা নয়, বরং মানুষের অধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার দায়িত্ব। রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পাওয়ার পর তিনি নিজের কৃতিত্বের চেয়ে সহযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের ত্যাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তার এই দীর্ঘ পথচলা বাংলাদেশের পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক বাস্তবতার এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।