লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে লাশ জিম্মি করে টাকা আদায়ের অভিযোগ

রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক ভয়াবহ অবৈধ অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিটি পর্যায়ে স্বজনদের জিম্মি করে ৭ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। এই চক্রের সঙ্গে মর্গের কর্মচারী ও ফরেনসিক বিভাগের কিছু দায়িত্বশীল ব্যক্তি জড়িত বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, লাশ গ্রহণ থেকে শুরু করে ময়নাতদন্ত, দ্রুত রিপোর্ট প্রদান এবং লাশ এম্বুলেন্সে তোলার প্রতিটি ধাপে অর্থ আদায়ের ফাঁদ পাতা থাকে। সাভারের আশুলিয়ার এক নারী মৃত্যুর ঘটনায় স্বজন মনছুর আলী জানান, লাশ মর্গে নেওয়ার পর জায়গা নেই বা স্যার নেই এমন অজুহাতে টাকা দাবি করা হয়। এছাড়া তাকে দু’টি বাজারের ব্যাগসহ ডিটারজেন্ট, সাবান, আতর ও হ্যান্ড গ্লাভস কিনে আনতে বাধ্য করা হয়। এর পরও ‘ম্যাডামকে প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা দিতে হয়’—এই অজুহাতে আরও ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। শেষ পর্যন্ত ৭ হাজার টাকা দিয়ে তাকে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করতে হয়েছে।

একই ধরনের অভিজ্ঞতার শিকার হয়েছেন কাফরুল ও মোহাম্মদপুরের ঘটনায় নিহতদের স্বজনরা। মোহাম্মদপুরের সুমাইয়ার লাশ ময়নাতদন্তের সময় জীবন নামের এক ব্যক্তি সরাসরি হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, টাকা না দিলে লাশ সেলাই করা হবে না। সেখানেও স্বজনদের ৬ থেকে সাড়ে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত গুনতে হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই পুরো কার্যক্রম জীবন ওরফে জানু লাল এবং সেলিনা নামে এক বহিরাগত নারী নিয়ন্ত্রণ করেন। তাদের দাবি, ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. নাশাত জাবীনকে প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা দিতে হয় বলে তারা এই অর্থ আদায় করেন।

অভিযোগের বিষয়ে ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. নাশাত জাবীন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি এবং হাসপাতালের পরিচালকের অনুমতি ছাড়া কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক নন্দ দুলাল সাহা বিষয়টি ‘স্পর্শকাতর ও মর্মান্তিক’ বলে স্বীকার করেছেন। তবে তিনি দাবি করেন, মর্গটি মেডিকেল কলেজের আওতাধীন হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সেখানে তেমন কিছু করার সুযোগ নেই।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের জোরপূর্বক যুদ্ধে পাঠাচ্ছে রাশিয়া

সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে লাশ জিম্মি করে টাকা আদায়ের অভিযোগ

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:৪৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক ভয়াবহ অবৈধ অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিটি পর্যায়ে স্বজনদের জিম্মি করে ৭ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। এই চক্রের সঙ্গে মর্গের কর্মচারী ও ফরেনসিক বিভাগের কিছু দায়িত্বশীল ব্যক্তি জড়িত বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, লাশ গ্রহণ থেকে শুরু করে ময়নাতদন্ত, দ্রুত রিপোর্ট প্রদান এবং লাশ এম্বুলেন্সে তোলার প্রতিটি ধাপে অর্থ আদায়ের ফাঁদ পাতা থাকে। সাভারের আশুলিয়ার এক নারী মৃত্যুর ঘটনায় স্বজন মনছুর আলী জানান, লাশ মর্গে নেওয়ার পর জায়গা নেই বা স্যার নেই এমন অজুহাতে টাকা দাবি করা হয়। এছাড়া তাকে দু’টি বাজারের ব্যাগসহ ডিটারজেন্ট, সাবান, আতর ও হ্যান্ড গ্লাভস কিনে আনতে বাধ্য করা হয়। এর পরও ‘ম্যাডামকে প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা দিতে হয়’—এই অজুহাতে আরও ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। শেষ পর্যন্ত ৭ হাজার টাকা দিয়ে তাকে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করতে হয়েছে।

একই ধরনের অভিজ্ঞতার শিকার হয়েছেন কাফরুল ও মোহাম্মদপুরের ঘটনায় নিহতদের স্বজনরা। মোহাম্মদপুরের সুমাইয়ার লাশ ময়নাতদন্তের সময় জীবন নামের এক ব্যক্তি সরাসরি হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, টাকা না দিলে লাশ সেলাই করা হবে না। সেখানেও স্বজনদের ৬ থেকে সাড়ে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত গুনতে হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই পুরো কার্যক্রম জীবন ওরফে জানু লাল এবং সেলিনা নামে এক বহিরাগত নারী নিয়ন্ত্রণ করেন। তাদের দাবি, ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. নাশাত জাবীনকে প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা দিতে হয় বলে তারা এই অর্থ আদায় করেন।

অভিযোগের বিষয়ে ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. নাশাত জাবীন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি এবং হাসপাতালের পরিচালকের অনুমতি ছাড়া কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক নন্দ দুলাল সাহা বিষয়টি ‘স্পর্শকাতর ও মর্মান্তিক’ বলে স্বীকার করেছেন। তবে তিনি দাবি করেন, মর্গটি মেডিকেল কলেজের আওতাধীন হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সেখানে তেমন কিছু করার সুযোগ নেই।