লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নামাজে একাগ্রতা ও চোখের দৃষ্টি রাখার সুন্নাহসম্মত নিয়মাবলি

নামাজে আল্লাহকে কাছে পাওয়ার সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হলো একনিষ্ঠ ও একাগ্রতার সঙ্গে নামাজ আদায় করা। এই একাগ্রতা অর্জনের অন্যতম শর্ত হলো দৃষ্টি সংযত রাখা। দাঁড়ানো অবস্থায় সিজদার জায়গায় দৃষ্টি রাখা জরুরি, যা নামাজের পূর্ণ একাগ্রতা নিশ্চিত করে।

সুন্নাহ অনুযায়ী, নামাজের বিভিন্ন অবস্থায় দৃষ্টি রাখার নির্দিষ্ট স্থান রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) নামাজে দাঁড়ানো ও রুকু অবস্থায় সিজদার জায়গায় দৃষ্টি রাখতেন এবং বসা অবস্থায় শাহাদাত আঙুলের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করতেন। এ বিষয়ে নাসায়ি হাদিস গ্রন্থে (১১৬০ ও ১২৭৫ নম্বর) বর্ণনা পাওয়া যায়। এছাড়া আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে উল্লেখ আছে যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) নামাজে দাঁড়ানোর সময় মাথা নিচু করে ঝুঁকিয়ে রাখতেন এবং জমিনের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করতেন (মুসতাদরাকে হাকেম : ১/৪৭৯)।

দৃষ্টি রাখার স্থান নিয়ে ইমামদের মধ্যে কিছু মতপার্থক্য রয়েছে। ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, নামাজের সময় দাঁড়ানো অবস্থায় দৃষ্টি সিজদার দিকে থাকবে, রুকু অবস্থায় দুই পায়ের মাঝখানে, বসা অবস্থায় কোলের দিকে এবং সিজদা অবস্থায় নাকের দিকে থাকবে (কিতাবুল মাবসুত, ১/২৮)। তবে অন্য কোনো কোনো ইমামের মতে, পুরো নামাজের সময় দৃষ্টি সিজদার দিকে রাখাই উত্তম।

নামাজে এদিক-সেদিক তাকানো থেকে বিরত থাকতে হবে, কারণ এটি একাগ্রতা নষ্ট করে। আয়েশা (রা.)-এর বর্ণনায় এসেছে, নামাজে এদিক-সেদিক তাকানোর ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, এটি হলো শয়তানের ছোঁ মারা, যা দিয়ে শয়তান আল্লাহর বান্দাদের নামাজ থেকে অমনোযোগী ও উদাসীন করে ফেলে (বোখারি : ৭১৮)। তবে কোনোভাবে কারও দৃষ্টি এদিক-সেদিক চলে গেলে নামাজ ভঙ্গ হবে না (আদ দুররুল মুখতার, ১/৪৪৭)।

নামাজের সময় চোখ বন্ধ রাখা মাকরুহ। আল্লামা ইবনে হুমাম (রহ.)-এর মতে, রাসুলুল্লাহ (সা.) চোখ বন্ধ করে নামাজ পড়তে নিষেধ করেছেন। সিজদার স্থানের দিকে তাকিয়ে নামাজ পড়াই সুন্নাত, আর চোখ বন্ধ রাখলে এই সুন্নাত ছুটে যায় (বাদায়েউস সানায়ে, ১/২১৬)।

জনপ্রিয় সংবাদ

নামাজে একাগ্রতা ও চোখের দৃষ্টি রাখার সুন্নাহসম্মত নিয়মাবলি

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:২০:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

নামাজে আল্লাহকে কাছে পাওয়ার সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হলো একনিষ্ঠ ও একাগ্রতার সঙ্গে নামাজ আদায় করা। এই একাগ্রতা অর্জনের অন্যতম শর্ত হলো দৃষ্টি সংযত রাখা। দাঁড়ানো অবস্থায় সিজদার জায়গায় দৃষ্টি রাখা জরুরি, যা নামাজের পূর্ণ একাগ্রতা নিশ্চিত করে।

সুন্নাহ অনুযায়ী, নামাজের বিভিন্ন অবস্থায় দৃষ্টি রাখার নির্দিষ্ট স্থান রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) নামাজে দাঁড়ানো ও রুকু অবস্থায় সিজদার জায়গায় দৃষ্টি রাখতেন এবং বসা অবস্থায় শাহাদাত আঙুলের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করতেন। এ বিষয়ে নাসায়ি হাদিস গ্রন্থে (১১৬০ ও ১২৭৫ নম্বর) বর্ণনা পাওয়া যায়। এছাড়া আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে উল্লেখ আছে যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) নামাজে দাঁড়ানোর সময় মাথা নিচু করে ঝুঁকিয়ে রাখতেন এবং জমিনের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করতেন (মুসতাদরাকে হাকেম : ১/৪৭৯)।

দৃষ্টি রাখার স্থান নিয়ে ইমামদের মধ্যে কিছু মতপার্থক্য রয়েছে। ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, নামাজের সময় দাঁড়ানো অবস্থায় দৃষ্টি সিজদার দিকে থাকবে, রুকু অবস্থায় দুই পায়ের মাঝখানে, বসা অবস্থায় কোলের দিকে এবং সিজদা অবস্থায় নাকের দিকে থাকবে (কিতাবুল মাবসুত, ১/২৮)। তবে অন্য কোনো কোনো ইমামের মতে, পুরো নামাজের সময় দৃষ্টি সিজদার দিকে রাখাই উত্তম।

নামাজে এদিক-সেদিক তাকানো থেকে বিরত থাকতে হবে, কারণ এটি একাগ্রতা নষ্ট করে। আয়েশা (রা.)-এর বর্ণনায় এসেছে, নামাজে এদিক-সেদিক তাকানোর ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, এটি হলো শয়তানের ছোঁ মারা, যা দিয়ে শয়তান আল্লাহর বান্দাদের নামাজ থেকে অমনোযোগী ও উদাসীন করে ফেলে (বোখারি : ৭১৮)। তবে কোনোভাবে কারও দৃষ্টি এদিক-সেদিক চলে গেলে নামাজ ভঙ্গ হবে না (আদ দুররুল মুখতার, ১/৪৪৭)।

নামাজের সময় চোখ বন্ধ রাখা মাকরুহ। আল্লামা ইবনে হুমাম (রহ.)-এর মতে, রাসুলুল্লাহ (সা.) চোখ বন্ধ করে নামাজ পড়তে নিষেধ করেছেন। সিজদার স্থানের দিকে তাকিয়ে নামাজ পড়াই সুন্নাত, আর চোখ বন্ধ রাখলে এই সুন্নাত ছুটে যায় (বাদায়েউস সানায়ে, ১/২১৬)।