লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আজ পবিত্র আখেরি চাহার সোম্বা: সফর মাসের শেষ বুধবার

আজ বুধবার, ১২ আগস্ট পবিত্র আখেরি চাহার সোম্বা। আরবি ও ফারসি শব্দযোগে গঠিত এই বিশেষ দিনের অর্থ হলো সফর মাসের শেষ বুধবার। ফারসি ‘চাহার’ অর্থ সফর মাস এবং ‘সোম্বা’ অর্থ বুধবার, যা একত্রে সফর মাসের শেষ বুধবারকে নির্দেশ করে।

ঐতিহাসিকভাবে, অনেকে মনে করেন সফর মাসের এই শেষ বুধবারে মহানবী (সা.) দীর্ঘ অসুস্থতা থেকে সুস্থতা অনুভব করেছিলেন। সে সময় সাহাবীরা খুশি হয়ে দান-সদকা ও শুকরিয়া আদায় করেছিলেন বলে বর্ণিত আছে। এই ঘটনাকে স্মরণ করেই অনেক ধর্মপ্রাণ মুসলমান নফল ইবাদত ও দান-সদকার মাধ্যমে দিনটি পালন করেন। বাংলাদেশে এই দিবসটি বার্ষিক সরকারি ছুটির তালিকায় একটি ঐচ্ছিক ছুটি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তবে এই দিবস পালন নিয়ে ইসলামি আলেম ও গবেষকদের মধ্যে যথেষ্ট মতপার্থক্য রয়েছে। অনেক আলেম এই দিবস পালনকে নিরুৎসাহিত করে থাকেন, কারণ মহানবী (সা.)-এর মৃত্যুর পর সাহাবীরা এই দিবস উদযাপন করেননি। যারা এটি পালন করেন, তাদের মতে সপ্তম হিজরিতে জাদুর প্রভাবে অসুস্থ হওয়ার পর অথবা ইন্তিকালের আগে শেষ অসুস্থতা থেকে সুস্থ হওয়ার দিন হিসেবে সফর মাসের শেষ বুধবারকে চিহ্নিত করা হয়। এ প্রসঙ্গে ‘বারো চান্দের ফজিলত’ ও ‘রাহাতুল কুলুব’ বইয়ে হজরত আবু বকর (রা.), ওমর (রা.), ওসমান (রা.) ও আলী (রা.) কর্তৃক বড় অঙ্কের অর্থ ও সম্পদ দান করার বর্ণনা পাওয়া যায়।

অন্যদিকে, ইসলামি পণ্ডিত ও গবেষকগণ এই বর্ণনার ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, মহানবী (সা.)-এর অসুস্থতার দিনক্ষণ নিয়ে ইতিহাসে যথেষ্ট মতভেদ রয়েছে এবং নির্দিষ্ট কোনো দিনকে সুস্থতার দিন হিসেবে শনাক্ত করা কঠিন। ইবনে হিশাম ও ইসলামি বিশ্বকোষের তথ্যমতে, মহানবী (সা.)-এর অসুস্থতার দিন বা তারিখ নিয়ে বিভিন্ন বর্ণনা পাওয়া যায়, যেখানে কোনো নির্দিষ্ট বুধবারের উল্লেখ নেই। এছাড়া জাদুর ঘটনাটি হুদায়বিয়ার সন্ধির পর সপ্তম হিজরির মহররম মাসে ঘটেছিল, যা সফর মাসের শেষ বুধবারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, মহানবী (সা.)-এর অসুস্থতার পর তিনি আরও কয়েকদিন বেঁচে ছিলেন এবং মসজিদে নামাজ আদায় করেছিলেন, যার প্রমাণ হাদিস গ্রন্থে বিদ্যমান।

ইসলামের দৃষ্টিতে, কোনো আমল যদি মহানবী (সা.)-এর নির্দেশিত না হয় এবং তা সওয়াবের আশায় নতুন কোনো পদ্ধতিতে পালন করা হয়, তবে তাকে বিদআত হিসেবে গণ্য করা হয়। এ বিষয়ে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে, এমন কোনো আমল যা কোনো নির্দেশ ছাড়াই করা হয়, তা প্রত্যাখ্যাত।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইন্দোনেশিয়ার সাথে চীনের নৌমহড়ার পরিকল্পনায় তাইওয়ানের তীব্র নিন্দা

আজ পবিত্র আখেরি চাহার সোম্বা: সফর মাসের শেষ বুধবার

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:৫৩:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

আজ বুধবার, ১২ আগস্ট পবিত্র আখেরি চাহার সোম্বা। আরবি ও ফারসি শব্দযোগে গঠিত এই বিশেষ দিনের অর্থ হলো সফর মাসের শেষ বুধবার। ফারসি ‘চাহার’ অর্থ সফর মাস এবং ‘সোম্বা’ অর্থ বুধবার, যা একত্রে সফর মাসের শেষ বুধবারকে নির্দেশ করে।

ঐতিহাসিকভাবে, অনেকে মনে করেন সফর মাসের এই শেষ বুধবারে মহানবী (সা.) দীর্ঘ অসুস্থতা থেকে সুস্থতা অনুভব করেছিলেন। সে সময় সাহাবীরা খুশি হয়ে দান-সদকা ও শুকরিয়া আদায় করেছিলেন বলে বর্ণিত আছে। এই ঘটনাকে স্মরণ করেই অনেক ধর্মপ্রাণ মুসলমান নফল ইবাদত ও দান-সদকার মাধ্যমে দিনটি পালন করেন। বাংলাদেশে এই দিবসটি বার্ষিক সরকারি ছুটির তালিকায় একটি ঐচ্ছিক ছুটি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তবে এই দিবস পালন নিয়ে ইসলামি আলেম ও গবেষকদের মধ্যে যথেষ্ট মতপার্থক্য রয়েছে। অনেক আলেম এই দিবস পালনকে নিরুৎসাহিত করে থাকেন, কারণ মহানবী (সা.)-এর মৃত্যুর পর সাহাবীরা এই দিবস উদযাপন করেননি। যারা এটি পালন করেন, তাদের মতে সপ্তম হিজরিতে জাদুর প্রভাবে অসুস্থ হওয়ার পর অথবা ইন্তিকালের আগে শেষ অসুস্থতা থেকে সুস্থ হওয়ার দিন হিসেবে সফর মাসের শেষ বুধবারকে চিহ্নিত করা হয়। এ প্রসঙ্গে ‘বারো চান্দের ফজিলত’ ও ‘রাহাতুল কুলুব’ বইয়ে হজরত আবু বকর (রা.), ওমর (রা.), ওসমান (রা.) ও আলী (রা.) কর্তৃক বড় অঙ্কের অর্থ ও সম্পদ দান করার বর্ণনা পাওয়া যায়।

অন্যদিকে, ইসলামি পণ্ডিত ও গবেষকগণ এই বর্ণনার ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, মহানবী (সা.)-এর অসুস্থতার দিনক্ষণ নিয়ে ইতিহাসে যথেষ্ট মতভেদ রয়েছে এবং নির্দিষ্ট কোনো দিনকে সুস্থতার দিন হিসেবে শনাক্ত করা কঠিন। ইবনে হিশাম ও ইসলামি বিশ্বকোষের তথ্যমতে, মহানবী (সা.)-এর অসুস্থতার দিন বা তারিখ নিয়ে বিভিন্ন বর্ণনা পাওয়া যায়, যেখানে কোনো নির্দিষ্ট বুধবারের উল্লেখ নেই। এছাড়া জাদুর ঘটনাটি হুদায়বিয়ার সন্ধির পর সপ্তম হিজরির মহররম মাসে ঘটেছিল, যা সফর মাসের শেষ বুধবারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, মহানবী (সা.)-এর অসুস্থতার পর তিনি আরও কয়েকদিন বেঁচে ছিলেন এবং মসজিদে নামাজ আদায় করেছিলেন, যার প্রমাণ হাদিস গ্রন্থে বিদ্যমান।

ইসলামের দৃষ্টিতে, কোনো আমল যদি মহানবী (সা.)-এর নির্দেশিত না হয় এবং তা সওয়াবের আশায় নতুন কোনো পদ্ধতিতে পালন করা হয়, তবে তাকে বিদআত হিসেবে গণ্য করা হয়। এ বিষয়ে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে, এমন কোনো আমল যা কোনো নির্দেশ ছাড়াই করা হয়, তা প্রত্যাখ্যাত।