লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জান্নাত পাওয়ার সহজ ও মহামূল্যবান একটি দোয়া

মানবজীবনের ক্ষণস্থায়ী এই সময় মূলত একটি পরীক্ষাকেন্দ্রের মতো। পরকালের চূড়ান্ত সাফল্য হলো মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও চিরশান্তির জান্নাত অর্জন করা। প্রতিটি মুমিনের জীবনেই জান্নাত লাভ করার সুপ্ত আকাঙ্ক্ষা থাকে এবং এই লক্ষ্যে তারা প্রতিনিয়ত সৎকাজ ও বিভিন্ন আমল করে থাকেন। বিশ্বাসীদের এই পথকে সুগম করতে রাসুলুল্লাহ (সা.) অত্যন্ত প্রজ্ঞাপূর্ণ ও চমৎকার একটি দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন। এই দোয়াটি মুখে উচ্চারণ করা যেমন সহজ, এর অর্থ ও তাৎপর্য তেমনি গভীর এবং হৃদয়ে প্রশান্তি এনে দেওয়ার মতো।

হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি বলে, “রজীতু বিল্লাহি রব্বান, ওয়া বিল-ইসলামি দীনান, ওয়া বি-মুহাম্মাদিন রসূলান”—তার জন্য জান্নাত সুনিশ্চিত হয়ে যায়।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৫২৯)

এই মূল্যবান দোয়াটির অর্থ হলো: ‘আমি সন্তুষ্টচিত্তে আল্লাহকে আমার প্রতিপালক, ইসলামকে আমার ধর্ম এবং মুহাম্মদকে আমার রাসুল হিসেবে গ্রহণ করেছি।’

মাত্র তিনটি ছোট বাক্যের এই দোয়ার পেছনে লুকিয়ে রয়েছে এক বিশাল সুসংবাদ। এই মহাসৌভাগ্য অর্জনের জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) কোনো কঠিন শারীরিক সাধনা, বিপুল ধন-সম্পদ কিংবা উচ্চ সামাজিক মর্যাদার শর্ত নির্ধারণ করেননি। এখানে একমাত্র শর্ত হলো অন্তরের গভীর একনিষ্ঠতা ও পরম সন্তুষ্টি। এই ছোট দোয়ার মধ্যে মূলত ইসলামি জীবনদর্শনের তিনটি প্রধান স্তম্ভ নিহিত রয়েছে:

আল্লাহকে রব হিসেবে মেনে নেওয়া: এর মূল কথা হলো, সৃষ্টিকর্তা হিসেবে মহান আল্লাহর প্রতিটি সিদ্ধান্ত, ফয়সালা, হেদায়েত এবং নিজের তাকদিরের ওপর পূর্ণ সন্তুষ্ট থাকা। জীবনের সুখের সময় কিংবা কঠিন পরীক্ষার মুহূর্তেও কোনো অভিযোগ না করে স্রষ্টার করুণার ওপর অবিচল আস্থা রাখাই হলো আল্লাহকে ‘রব’ মানার প্রকৃত প্রমাণ।ইসলামকে জীবনবিধান হিসেবে গ্রহণ করা: ইসলাম কেবল কিছু সামাজিক রীতিনীতির সমষ্টি নয়, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলামের নির্দেশনাকে সানন্দে গ্রহণ করা এবং এর বিধান মেনে চলার মধ্যে আত্মিক প্রশান্তি খুঁজে পাওয়াই হলো ‘ইসলামকে ধর্ম হিসেবে পাওয়ার সন্তুষ্টি’। দোয়া কবুলের বিশেষ ১০ সময় রয়েছে, যার মধ্যে আজানের সময়টি অন্যতম।৩. নবীজিকে রাসুল হিসেবে জানা: এর অর্থ হলো, মহানবী (সা.)-এর প্রদর্শিত পথই জীবন পরিচালনার একমাত্র ও সর্বোত্তম মাধ্যম—তা অন্তরে বিশ্বাস করা এবং নিজের জীবনে তাঁর সুন্নাহ বা আদর্শ বাস্তবায়নের মাধ্যমে আনন্দ লাভ করা।এই দোয়াটি পাঠ করার জন্য বিশেষ কিছু সময়ের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। হাদিস অনুযায়ী, আজান শোনার পর এই বাক্যটি পাঠ করলে গুনাহ মাফ হওয়ার সুসংবাদ রয়েছে (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৩৮৬)। এছাড়াও সকাল ও সন্ধ্যার জিকিরের মধ্যেও এটি পাঠ করার মহান ফজিলত রয়েছে।

নবীজি (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি সকাল ও সন্ধ্যায় তিনবার এই দোয়াটি পাঠ করবে, কেয়ামতের দিন তাকে সন্তুষ্ট করা মহান আল্লাহর দায়িত্ব হয়ে যায়। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৫০৭২)

তাই প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে এবং সন্ধ্যায় দিনের কাজ শেষে তিনবার করে এই দোয়া পাঠের অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত কল্যাণকর। এছাড়াও শেষ রাতে কিংবা আজান ও একামতের মধ্যবর্তী সময়ে, যখন দোয়া কবুলের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে, তখনও এই দোয়াটি পাঠ করা যেতে পারে।

সংক্ষেপে এটি বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় কেন এই দোয়াটি এত শক্তিশালী:১.

জীবনে সুখ আসুক বা কঠিন পরীক্ষা আসুক, কোনো অবস্থাতেই স্রষ্টার ওপর অনুযোগ না করে তাঁর করুণার ওপর আস্থা রাখাই হলো আল্লাহকে ‘রব’ হিসেবে মেনে নেওয়ার আসল প্রমাণ।২.

জনপ্রিয় সংবাদ

জান্নাত পাওয়ার সহজ ও মহামূল্যবান একটি দোয়া

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:৪৩:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

মানবজীবনের ক্ষণস্থায়ী এই সময় মূলত একটি পরীক্ষাকেন্দ্রের মতো। পরকালের চূড়ান্ত সাফল্য হলো মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও চিরশান্তির জান্নাত অর্জন করা। প্রতিটি মুমিনের জীবনেই জান্নাত লাভ করার সুপ্ত আকাঙ্ক্ষা থাকে এবং এই লক্ষ্যে তারা প্রতিনিয়ত সৎকাজ ও বিভিন্ন আমল করে থাকেন। বিশ্বাসীদের এই পথকে সুগম করতে রাসুলুল্লাহ (সা.) অত্যন্ত প্রজ্ঞাপূর্ণ ও চমৎকার একটি দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন। এই দোয়াটি মুখে উচ্চারণ করা যেমন সহজ, এর অর্থ ও তাৎপর্য তেমনি গভীর এবং হৃদয়ে প্রশান্তি এনে দেওয়ার মতো।

হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি বলে, “রজীতু বিল্লাহি রব্বান, ওয়া বিল-ইসলামি দীনান, ওয়া বি-মুহাম্মাদিন রসূলান”—তার জন্য জান্নাত সুনিশ্চিত হয়ে যায়।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৫২৯)

এই মূল্যবান দোয়াটির অর্থ হলো: ‘আমি সন্তুষ্টচিত্তে আল্লাহকে আমার প্রতিপালক, ইসলামকে আমার ধর্ম এবং মুহাম্মদকে আমার রাসুল হিসেবে গ্রহণ করেছি।’

মাত্র তিনটি ছোট বাক্যের এই দোয়ার পেছনে লুকিয়ে রয়েছে এক বিশাল সুসংবাদ। এই মহাসৌভাগ্য অর্জনের জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) কোনো কঠিন শারীরিক সাধনা, বিপুল ধন-সম্পদ কিংবা উচ্চ সামাজিক মর্যাদার শর্ত নির্ধারণ করেননি। এখানে একমাত্র শর্ত হলো অন্তরের গভীর একনিষ্ঠতা ও পরম সন্তুষ্টি। এই ছোট দোয়ার মধ্যে মূলত ইসলামি জীবনদর্শনের তিনটি প্রধান স্তম্ভ নিহিত রয়েছে:

আল্লাহকে রব হিসেবে মেনে নেওয়া: এর মূল কথা হলো, সৃষ্টিকর্তা হিসেবে মহান আল্লাহর প্রতিটি সিদ্ধান্ত, ফয়সালা, হেদায়েত এবং নিজের তাকদিরের ওপর পূর্ণ সন্তুষ্ট থাকা। জীবনের সুখের সময় কিংবা কঠিন পরীক্ষার মুহূর্তেও কোনো অভিযোগ না করে স্রষ্টার করুণার ওপর অবিচল আস্থা রাখাই হলো আল্লাহকে ‘রব’ মানার প্রকৃত প্রমাণ।ইসলামকে জীবনবিধান হিসেবে গ্রহণ করা: ইসলাম কেবল কিছু সামাজিক রীতিনীতির সমষ্টি নয়, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলামের নির্দেশনাকে সানন্দে গ্রহণ করা এবং এর বিধান মেনে চলার মধ্যে আত্মিক প্রশান্তি খুঁজে পাওয়াই হলো ‘ইসলামকে ধর্ম হিসেবে পাওয়ার সন্তুষ্টি’। দোয়া কবুলের বিশেষ ১০ সময় রয়েছে, যার মধ্যে আজানের সময়টি অন্যতম।৩. নবীজিকে রাসুল হিসেবে জানা: এর অর্থ হলো, মহানবী (সা.)-এর প্রদর্শিত পথই জীবন পরিচালনার একমাত্র ও সর্বোত্তম মাধ্যম—তা অন্তরে বিশ্বাস করা এবং নিজের জীবনে তাঁর সুন্নাহ বা আদর্শ বাস্তবায়নের মাধ্যমে আনন্দ লাভ করা।এই দোয়াটি পাঠ করার জন্য বিশেষ কিছু সময়ের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। হাদিস অনুযায়ী, আজান শোনার পর এই বাক্যটি পাঠ করলে গুনাহ মাফ হওয়ার সুসংবাদ রয়েছে (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৩৮৬)। এছাড়াও সকাল ও সন্ধ্যার জিকিরের মধ্যেও এটি পাঠ করার মহান ফজিলত রয়েছে।

নবীজি (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি সকাল ও সন্ধ্যায় তিনবার এই দোয়াটি পাঠ করবে, কেয়ামতের দিন তাকে সন্তুষ্ট করা মহান আল্লাহর দায়িত্ব হয়ে যায়। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৫০৭২)

তাই প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে এবং সন্ধ্যায় দিনের কাজ শেষে তিনবার করে এই দোয়া পাঠের অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত কল্যাণকর। এছাড়াও শেষ রাতে কিংবা আজান ও একামতের মধ্যবর্তী সময়ে, যখন দোয়া কবুলের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে, তখনও এই দোয়াটি পাঠ করা যেতে পারে।

সংক্ষেপে এটি বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় কেন এই দোয়াটি এত শক্তিশালী:১.

জীবনে সুখ আসুক বা কঠিন পরীক্ষা আসুক, কোনো অবস্থাতেই স্রষ্টার ওপর অনুযোগ না করে তাঁর করুণার ওপর আস্থা রাখাই হলো আল্লাহকে ‘রব’ হিসেবে মেনে নেওয়ার আসল প্রমাণ।২.