লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নাটোরের নলডাঙ্গায় ৪০০ বক ও শালিক জবাই, ভিডিও ভাইরাল

নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার একটি বিলে বিপুলসংখ্যক বক ও শালিক পাখি শিকারের পর জবাই করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সপ্তাহখানেক আগে উপজেলার খাজুরা ইউনিয়নের হাটবিলা গ্রামের একটি বিলে এই ঘটনা ঘটে। সেখানে অন্তত ৪০০টি পাখি শিকার করে জবাই করা হয়েছে।

গত শনিবার সকাল থেকে ফেসবুকে ২০ ও ২৭ সেকেন্ডের দুটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বিল এলাকায় ফাঁদ পেতে ধরা বক ও শালিক পাখি জবাই করে একটি তালগাছের নিচে জড়ো করে রাখা হয়েছে। চারজন ব্যক্তি এই পাখিগুলো শিকার ও জবাইয়ের সাথে সরাসরি জড়িত ছিলেন। ঘটনাস্থলে আরও কিছু উৎসুক মানুষ উপস্থিত থাকলেও কেউ শিকারিদের বাধা দেননি। ফাঁস জাল দিয়ে ধরা এই পাখিগুলো পরে জড়িত ব্যক্তিরা নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেন।

হাটবিলা গ্রামের বাসিন্দা মহির উদ্দিন জানান, গত রোববার হাটবিলা বিল থেকে এই ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছিল, যা শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। একটি সংঘবদ্ধ চক্র প্রকাশ্যে এতগুলো পাখি মারলেও এখন পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, গত ১৯ জুলাই পাখি হত্যার এই ঘটনাটি ঘটে। পাখি শিকারের সময় সেখানে হাটবিলা গ্রামের বিপ্লব তালুকদার, আশিক হোসেন, ইসলাম হোসেন ও সজিব হোসেন উপস্থিত ছিলেন। সেখানে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০টি পাখি জবাই করে বিভিন্ন স্থানে সরিয়ে ফেলা হয়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে বিপ্লব তালুকদার ও আশিক হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই পাখি হত্যার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনরা তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করছেন। অনেকেই মন্তব্য করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এবং পাখি শিকারিদের দেশের শত্রু হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

এ বিষয়ে নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল এমরান খাঁন জানান, তিনি পাখি শিকারের ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার খবর শুনেছেন। তবে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ না পাওয়ায় এখনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। প্রশাসন পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

রাজশাহীর বন্য প্রাণী পরিদর্শক এবং বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর কবির বলেন, শালিক ও বক প্রকৃতির পরম বন্ধু। এই ধরনের বন্য পাখি হত্যা করা আইনত দণ্ডনীয় ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তিনি জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

সিটি ব্যাংকে ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার পদে নিয়োগ, আবেদন ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত

নাটোরের নলডাঙ্গায় ৪০০ বক ও শালিক জবাই, ভিডিও ভাইরাল

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:০৩:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার একটি বিলে বিপুলসংখ্যক বক ও শালিক পাখি শিকারের পর জবাই করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সপ্তাহখানেক আগে উপজেলার খাজুরা ইউনিয়নের হাটবিলা গ্রামের একটি বিলে এই ঘটনা ঘটে। সেখানে অন্তত ৪০০টি পাখি শিকার করে জবাই করা হয়েছে।

গত শনিবার সকাল থেকে ফেসবুকে ২০ ও ২৭ সেকেন্ডের দুটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বিল এলাকায় ফাঁদ পেতে ধরা বক ও শালিক পাখি জবাই করে একটি তালগাছের নিচে জড়ো করে রাখা হয়েছে। চারজন ব্যক্তি এই পাখিগুলো শিকার ও জবাইয়ের সাথে সরাসরি জড়িত ছিলেন। ঘটনাস্থলে আরও কিছু উৎসুক মানুষ উপস্থিত থাকলেও কেউ শিকারিদের বাধা দেননি। ফাঁস জাল দিয়ে ধরা এই পাখিগুলো পরে জড়িত ব্যক্তিরা নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেন।

হাটবিলা গ্রামের বাসিন্দা মহির উদ্দিন জানান, গত রোববার হাটবিলা বিল থেকে এই ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছিল, যা শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। একটি সংঘবদ্ধ চক্র প্রকাশ্যে এতগুলো পাখি মারলেও এখন পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, গত ১৯ জুলাই পাখি হত্যার এই ঘটনাটি ঘটে। পাখি শিকারের সময় সেখানে হাটবিলা গ্রামের বিপ্লব তালুকদার, আশিক হোসেন, ইসলাম হোসেন ও সজিব হোসেন উপস্থিত ছিলেন। সেখানে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০টি পাখি জবাই করে বিভিন্ন স্থানে সরিয়ে ফেলা হয়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে বিপ্লব তালুকদার ও আশিক হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই পাখি হত্যার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনরা তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করছেন। অনেকেই মন্তব্য করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এবং পাখি শিকারিদের দেশের শত্রু হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

এ বিষয়ে নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল এমরান খাঁন জানান, তিনি পাখি শিকারের ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার খবর শুনেছেন। তবে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ না পাওয়ায় এখনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। প্রশাসন পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

রাজশাহীর বন্য প্রাণী পরিদর্শক এবং বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর কবির বলেন, শালিক ও বক প্রকৃতির পরম বন্ধু। এই ধরনের বন্য পাখি হত্যা করা আইনত দণ্ডনীয় ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তিনি জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দেন।