লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৬:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অপতথ্য রোধে সামাজিক ও রাজনৈতিক সচেতনতা গড়ে তোলা জরুরি: তথ্য উপদেষ্টা

অপতথ্য প্রতিরোধে কেবল আইনি সুরক্ষা যথেষ্ট নয়, বরং এর জন্য সামাজিক ও রাজনৈতিক সচেতনতা গড়ে তোলা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার দুপুরে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

উপদেষ্টা জানান, সরকার নতুন ‘সাইবার সুরক্ষা আইন’-এর আইনি পরিকাঠামো প্রণয়নের কাজ করছে এবং এ বিষয়ে অংশীজনদের নিয়ে মতবিনিময় শুরু হয়েছে। পাশাপাশি দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বর্তমানে অত্যন্ত সক্রিয়। নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় থাকার কারণেই দেশে রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে এবং দেশ নৈরাজ্যের অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসেছে।

সম্প্রতি রাড্ডা এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের প্রতিষ্ঠানে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়ে ডা. জাহেদ বলেন, সেখানে চাঁদাবাজির ঘটনা না ঘটলেও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সময় পুলিশের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজে জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, সালমান মুক্তাদিরের প্রতি সরকারের সহানুভূতি রয়েছে, তবে অপতথ্য ছড়িয়ে পড়ায় তাকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সালমান মুক্তাদিরের প্রাথমিক বক্তব্যের ভিত্তিতে জামায়াতে ইসলামীর আমির এবং এনসিপির নেতারা চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলেছিলেন, যা পরে মিথ্যা প্রমাণিত হলেও সামাজিক মাধ্যমে থেকে গেছে।

তিনি আরও বলেন, সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনায় আপত্তি নেই, কিন্তু উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা ন্যারেটিভ তৈরি করা অপরাধ। এছাড়া জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে সাধারণ মানুষের চাপ কমাতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ৫৫ লাখ পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার কথা তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন। দেশে এলপিজি গ্যাসের কোনো সংকট নেই এবং কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মজুতদারির সুযোগ নেই বলেও তিনি জানান।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বেসরকারি পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার সংক্রান্ত চুক্তি সই হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি ভবিষ্যতে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে নতুন প্রযুক্তির সহযোগিতার পথ প্রসারিত করবে। এছাড়া মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফিরিয়ে এনে বিচারের জন্য সরকার তৎপর রয়েছে বলেও তিনি জানান। ব্রিফিংয়ে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মুহাম্মদ জহুরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প: বিশ্ববাজারে সম্ভাবনা ও উত্তরণের রূপরেখা

অপতথ্য রোধে সামাজিক ও রাজনৈতিক সচেতনতা গড়ে তোলা জরুরি: তথ্য উপদেষ্টা

প্রকাশিত হয়েছে: ১১:৩৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অপতথ্য প্রতিরোধে কেবল আইনি সুরক্ষা যথেষ্ট নয়, বরং এর জন্য সামাজিক ও রাজনৈতিক সচেতনতা গড়ে তোলা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার দুপুরে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

উপদেষ্টা জানান, সরকার নতুন ‘সাইবার সুরক্ষা আইন’-এর আইনি পরিকাঠামো প্রণয়নের কাজ করছে এবং এ বিষয়ে অংশীজনদের নিয়ে মতবিনিময় শুরু হয়েছে। পাশাপাশি দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বর্তমানে অত্যন্ত সক্রিয়। নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় থাকার কারণেই দেশে রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে এবং দেশ নৈরাজ্যের অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসেছে।

সম্প্রতি রাড্ডা এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের প্রতিষ্ঠানে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়ে ডা. জাহেদ বলেন, সেখানে চাঁদাবাজির ঘটনা না ঘটলেও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সময় পুলিশের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজে জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, সালমান মুক্তাদিরের প্রতি সরকারের সহানুভূতি রয়েছে, তবে অপতথ্য ছড়িয়ে পড়ায় তাকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সালমান মুক্তাদিরের প্রাথমিক বক্তব্যের ভিত্তিতে জামায়াতে ইসলামীর আমির এবং এনসিপির নেতারা চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলেছিলেন, যা পরে মিথ্যা প্রমাণিত হলেও সামাজিক মাধ্যমে থেকে গেছে।

তিনি আরও বলেন, সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনায় আপত্তি নেই, কিন্তু উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা ন্যারেটিভ তৈরি করা অপরাধ। এছাড়া জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে সাধারণ মানুষের চাপ কমাতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ৫৫ লাখ পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার কথা তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন। দেশে এলপিজি গ্যাসের কোনো সংকট নেই এবং কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মজুতদারির সুযোগ নেই বলেও তিনি জানান।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বেসরকারি পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার সংক্রান্ত চুক্তি সই হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি ভবিষ্যতে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে নতুন প্রযুক্তির সহযোগিতার পথ প্রসারিত করবে। এছাড়া মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফিরিয়ে এনে বিচারের জন্য সরকার তৎপর রয়েছে বলেও তিনি জানান। ব্রিফিংয়ে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মুহাম্মদ জহুরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।