লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কঙ্গোর গহীন অরণ্যে নতুন প্রজাতির বানর শনাক্ত

গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর ঘন চিরহরিৎ বনাঞ্চলে এক নতুন প্রজাতির বানরের সন্ধান পেয়েছেন একদল বিজ্ঞানী। গত ৭৫ বছরে আফ্রিকায় আবিষ্কৃত এটি বানরের পঞ্চম নতুন প্রজাতি। গোলাপি-কমলা রঙের আকর্ষণীয় ঠোঁট ও কুচকুচে কালো মুখের এই প্রাণীটিকে বিজ্ঞানীরা লাতিন ভাষায় ‘কলোবাস কঙ্গোয়েনসিস’ নাম দিয়েছেন, তবে স্থানীয়রা এটিকে ‘লিকুয়েলি’ নামে চেনে। এই বানরগুলো মূলত দেশটির মধ্যাঞ্চলের লোমামি ন্যাশনাল পার্কের সুউচ্চ গাছের মগডালে বসবাস করে।

২০০৮ সালে বন্য প্রাণী সংরক্ষণবাদীরা প্রথমবার এই অদ্ভুত চেহারার প্রাণীর অস্তিত্ব টের পেয়েছিলেন, তবে তখন কেবল একটি অস্পষ্ট ছবিই সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ১০ বছর পর ২০১৮ সালে প্রাণীটি আবারও গবেষকদের নজরে আসে। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা আটলান্টিক ইউনিভার্সিটির পিএইচডি শিক্ষার্থী জুনিয়র আম্বোকোর নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো, যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির একটি আন্তর্জাতিক গবেষক দল প্রাণীটির খোঁজে দীর্ঘ অনুসন্ধান চালায়। অডিও রেকর্ডিং, ছবি ও ডিএনএ বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই নতুন প্রজাতিটির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর গবেষণার ফলাফল বিখ্যাত পিএলওএস ওয়ান বিজ্ঞান সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষক জুনিয়র আম্বোকো জানান, বানরগুলো অত্যন্ত লাজুক স্বভাবের এবং সাধারণত বনের অনেক উঁচুতে লুকিয়ে থাকে। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে তারা ৫২টি গ্রামের মানুষের সঙ্গে কথা বলেছিলেন, যার মধ্যে মাত্র আটটি গ্রামের মানুষ এই প্রাণী দেখার কথা জানিয়েছেন। ফ্লোরিডা আটলান্টিক ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক কেট ডেটউইলার জানান, কলোবাস প্রজাতির বানরের বুড়ো আঙুল থাকে না। এই নিরামিষাশী প্রাণীরা বনে বীজ ছড়ানো ও উদ্ভিদের অঙ্কুরোদ্‌গমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, বানরগুলোর উজ্জ্বল ঠোঁট ও মুখের বিশেষ দাগ তাদের দলের সদস্যদের চিনতে বা সঙ্গী আকর্ষণে সাহায্য করে।

তবে এই বিরল ও শান্ত প্রাণীদের অস্তিত্ব বর্তমানে হুমকির মুখে। স্থানীয়ভাবে মাংসের জন্য এদের শিকার করা হয়। গবেষকরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, নতুন প্রজাতি হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাওয়ার পর প্রশাসন এই বিরল প্রাণীকে রক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

দাঁড়িয়ে খাবার খাওয়ার অভ্যাস শরীরের জন্য কতটা ক্ষতিকর?

কঙ্গোর গহীন অরণ্যে নতুন প্রজাতির বানর শনাক্ত

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:০১:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর ঘন চিরহরিৎ বনাঞ্চলে এক নতুন প্রজাতির বানরের সন্ধান পেয়েছেন একদল বিজ্ঞানী। গত ৭৫ বছরে আফ্রিকায় আবিষ্কৃত এটি বানরের পঞ্চম নতুন প্রজাতি। গোলাপি-কমলা রঙের আকর্ষণীয় ঠোঁট ও কুচকুচে কালো মুখের এই প্রাণীটিকে বিজ্ঞানীরা লাতিন ভাষায় ‘কলোবাস কঙ্গোয়েনসিস’ নাম দিয়েছেন, তবে স্থানীয়রা এটিকে ‘লিকুয়েলি’ নামে চেনে। এই বানরগুলো মূলত দেশটির মধ্যাঞ্চলের লোমামি ন্যাশনাল পার্কের সুউচ্চ গাছের মগডালে বসবাস করে।

২০০৮ সালে বন্য প্রাণী সংরক্ষণবাদীরা প্রথমবার এই অদ্ভুত চেহারার প্রাণীর অস্তিত্ব টের পেয়েছিলেন, তবে তখন কেবল একটি অস্পষ্ট ছবিই সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ১০ বছর পর ২০১৮ সালে প্রাণীটি আবারও গবেষকদের নজরে আসে। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা আটলান্টিক ইউনিভার্সিটির পিএইচডি শিক্ষার্থী জুনিয়র আম্বোকোর নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো, যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির একটি আন্তর্জাতিক গবেষক দল প্রাণীটির খোঁজে দীর্ঘ অনুসন্ধান চালায়। অডিও রেকর্ডিং, ছবি ও ডিএনএ বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই নতুন প্রজাতিটির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর গবেষণার ফলাফল বিখ্যাত পিএলওএস ওয়ান বিজ্ঞান সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষক জুনিয়র আম্বোকো জানান, বানরগুলো অত্যন্ত লাজুক স্বভাবের এবং সাধারণত বনের অনেক উঁচুতে লুকিয়ে থাকে। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে তারা ৫২টি গ্রামের মানুষের সঙ্গে কথা বলেছিলেন, যার মধ্যে মাত্র আটটি গ্রামের মানুষ এই প্রাণী দেখার কথা জানিয়েছেন। ফ্লোরিডা আটলান্টিক ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক কেট ডেটউইলার জানান, কলোবাস প্রজাতির বানরের বুড়ো আঙুল থাকে না। এই নিরামিষাশী প্রাণীরা বনে বীজ ছড়ানো ও উদ্ভিদের অঙ্কুরোদ্‌গমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, বানরগুলোর উজ্জ্বল ঠোঁট ও মুখের বিশেষ দাগ তাদের দলের সদস্যদের চিনতে বা সঙ্গী আকর্ষণে সাহায্য করে।

তবে এই বিরল ও শান্ত প্রাণীদের অস্তিত্ব বর্তমানে হুমকির মুখে। স্থানীয়ভাবে মাংসের জন্য এদের শিকার করা হয়। গবেষকরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, নতুন প্রজাতি হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাওয়ার পর প্রশাসন এই বিরল প্রাণীকে রক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।