লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৭:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে নিজের বৈঠক অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে মঙ্গলবার দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, বৈঠকে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার অভিন্ন অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, জাপানে তার এই ঐতিহাসিক সফর বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও কৌশলগত অংশীদারত্বকে আরও সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তিনি স্মরণ করেন যে, তার বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এই সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন এবং তার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও সফরের মাধ্যমে সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছিলেন।

আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল অংশীদারত্বকে বাংলাদেশের জনগণের জন্য বাস্তব সুযোগে রূপান্তর করা। এই লক্ষ্যে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে জাপানের 'পার্টনারশিপ ফর পাওয়ার এশিয়া' উদ্যোগের আওতায় প্রায় ৫ হাজার কোটি জাপানি ইয়েন বা ৩২ কোটি মার্কিন ডলারের জরুরি আর্থিক সহায়তার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া আগামী পাঁচ বছরে জাপানের বেসরকারি খাত থেকে বাংলাদেশে প্রায় ১ লাখ কোটি জাপানি ইয়েন বা ৬৩০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে উৎসাহব্যঞ্জক আলোচনা হয়েছে, যা প্রায় দুই লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিকস ও উন্নত প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতার জন্য একটি বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মহাকাশবিজ্ঞান, স্যাটেলাইট প্রকৌশল এবং ছয়টি প্রধান বিভাগীয় শহরে উচ্চগতির রেল যোগাযোগ ও আধুনিক পরিবহন অবকাঠামো উন্নয়নে জাপানি সহায়তার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকের অন্যতম অর্জন হলো বঙ্গোপসাগরীয় শিল্প প্রবৃদ্ধি বলয় উদ্যোগকে যৌথ সমৃদ্ধির নতুন কাঠামোয় এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার। এর মাধ্যমে জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর ও আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থার সমন্বিত উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, যা দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সংযোগসেতু হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করবে। এছাড়া বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়ন এবং মন্ত্রী পর্যায়ের যৌথ কমিশন গঠনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য জাপানের মানবিক সহায়তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে জাপানের সক্রিয় সম্পৃক্ততার আহ্বান জানান। পরিশেষে তারেক রহমান উল্লেখ করেন, গণতান্ত্রিক নির্বাচনের পর বাংলাদেশ নতুনভাবে এগিয়ে যাচ্ছে এবং তার সরকার বিনিয়োগ, উদ্ভাবন ও অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে শক্তিশালী অর্থনীতি গড়তে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরায়েলি নির্বাচনে সমানে-সমান লড়াই, সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা

জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:০০:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে নিজের বৈঠক অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে মঙ্গলবার দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, বৈঠকে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার অভিন্ন অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, জাপানে তার এই ঐতিহাসিক সফর বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও কৌশলগত অংশীদারত্বকে আরও সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তিনি স্মরণ করেন যে, তার বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এই সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন এবং তার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ ও সফরের মাধ্যমে সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছিলেন।

আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল অংশীদারত্বকে বাংলাদেশের জনগণের জন্য বাস্তব সুযোগে রূপান্তর করা। এই লক্ষ্যে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে জাপানের 'পার্টনারশিপ ফর পাওয়ার এশিয়া' উদ্যোগের আওতায় প্রায় ৫ হাজার কোটি জাপানি ইয়েন বা ৩২ কোটি মার্কিন ডলারের জরুরি আর্থিক সহায়তার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া আগামী পাঁচ বছরে জাপানের বেসরকারি খাত থেকে বাংলাদেশে প্রায় ১ লাখ কোটি জাপানি ইয়েন বা ৬৩০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে উৎসাহব্যঞ্জক আলোচনা হয়েছে, যা প্রায় দুই লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিকস ও উন্নত প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতার জন্য একটি বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মহাকাশবিজ্ঞান, স্যাটেলাইট প্রকৌশল এবং ছয়টি প্রধান বিভাগীয় শহরে উচ্চগতির রেল যোগাযোগ ও আধুনিক পরিবহন অবকাঠামো উন্নয়নে জাপানি সহায়তার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকের অন্যতম অর্জন হলো বঙ্গোপসাগরীয় শিল্প প্রবৃদ্ধি বলয় উদ্যোগকে যৌথ সমৃদ্ধির নতুন কাঠামোয় এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার। এর মাধ্যমে জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর ও আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থার সমন্বিত উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, যা দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সংযোগসেতু হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করবে। এছাড়া বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়ন এবং মন্ত্রী পর্যায়ের যৌথ কমিশন গঠনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য জাপানের মানবিক সহায়তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে জাপানের সক্রিয় সম্পৃক্ততার আহ্বান জানান। পরিশেষে তারেক রহমান উল্লেখ করেন, গণতান্ত্রিক নির্বাচনের পর বাংলাদেশ নতুনভাবে এগিয়ে যাচ্ছে এবং তার সরকার বিনিয়োগ, উদ্ভাবন ও অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে শক্তিশালী অর্থনীতি গড়তে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।