লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসরায়েলি নির্বাচনে সমানে-সমান লড়াই, সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে বুথফেরত জরিপে (এক্সিট পোল) গভীর রাতে বড় ধরনের নাটকীয় পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই বিরোধী জোট এগিয়ে থাকার আভাস পাওয়া গেলেও, সর্বশেষ আপডেটে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট বেশ শক্তিশালী অবস্থানে ফিরে এসেছে। দেশটির প্রধান দুটি গণমাধ্যমের সংশোধিত জরিপ অনুযায়ী, ১২০ আসনের পার্লামেন্টে (নেসেট) নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট এবং গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট—উভয় শিবিরই এখন ৫১টি করে আসন পেয়ে সমানে-সমান অবস্থানে রয়েছে। এর ফলে কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা বা ৬১টি আসন নিশ্চিত করতে পারছে না।

ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ‘কান ১১’ এবং টেলিভিশন ‘চ্যানেল ১৩’-এর সবশেষ আপডেট অনুযায়ী, উভয় পক্ষই ৫১টি করে আসন পাচ্ছে। তবে ‘চ্যানেল ১২’-এর জরিপে আইজেনকোটের জোটকে ৫২–৫০ আসনে সামান্য এগিয়ে রাখা হয়েছে। এই জরিপে সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি, যারা আগের অনুমানের চেয়ে আসন বাড়িয়ে এককভাবে সর্বোচ্চ ২৭টি আসনে পৌঁছাচ্ছে। অন্যদিকে আইজেনকোটের দল ‘ইয়াশার’ পাচ্ছে ২১টি আসন।

‘কান ১১’-এর নতুন হিসাব অনুযায়ী, লিকুদ পার্টি দুটি আসন বাড়ালেও তাদের মিত্র উগ্র ডানপন্থী ওতজমা ইয়েহুদিত একটি আসন হারিয়ে ৬টিতে নেমেছে। এছাড়া বিরোধী শিবিরের বামপন্থী ডেমোক্র্যাট দল একটি আসন হারিয়ে ৯টিতে নেমে এসেছে। তবে ফিলিস্তিনি-ইসরায়েলি বা আরবদের নেতৃত্বাধীন দলগুলো তাদের ১৮টি আসন অটুট রেখেছে। এই নতুন ফলের পর জেরুজালেমে লিকুদ পার্টির প্রধান কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। জ্বালানিমন্ত্রী এলি কোহেন এবং প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আমিচাই চিকলি সেখানে উপস্থিত হয়েছেন এবং ধারণা করা হচ্ছে, নেতানিয়াহু শীঘ্রই জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। তিনি আগে থেকেই জোর দিয়ে আসছেন যে তার দল নির্বাচনে হারেনি।

অন্যদিকে বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোট তার দলীয় কার্যালয়ে সমর্থকদের উদ্দেশে বলেছেন, দেশের মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে এবং নেতানিয়াহুর ব্যর্থ শাসনের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে। তিনি নেতানিয়াহুকে রাজনীতি থেকে বিদায় নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নতুন করে নির্বাচন দেওয়াটা বড় ভুল হবে। আইজেনকোট আরও বলেন, তিনি সবার জন্য সামরিক সেবা বাধ্যতামূলক করা এবং হামাসকে নির্মূল করার লক্ষ্যে একটি দায়িত্বশীল জায়োনিস্ট সরকার গঠনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। তিনি নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা প্রধানদের কোনো ব্যক্তির স্বার্থে নয়, বরং রাষ্ট্রের স্বার্থে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

দুই জোটের এই ৫১–৫১ আসনের সমতা ইসরায়েলের রাজনৈতিক সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। আরব দলগুলো নেতানিয়াহুর ঘোর বিরোধী হওয়ায় তার পক্ষে ৬১ আসনে পৌঁছানো অসম্ভব। একইভাবে আরব দলগুলোর সরাসরি অংশগ্রহণ ছাড়া আইজেনকোটের পক্ষেও জোট গড়া সহজ নয়। শেষ পর্যন্ত সমঝোতা না হলে দেশটিকে আবারও নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যেতে হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, দুই নেতাই এখন প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে সরকার গঠনের ম্যান্ডেট চাইবেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

যাত্রাবাড়ীতে দুর্বৃত্তের গুলিতে প্রাণ গেল ২০ বছর বয়সী যুবকের

ইসরায়েলি নির্বাচনে সমানে-সমান লড়াই, সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:৩০:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে বুথফেরত জরিপে (এক্সিট পোল) গভীর রাতে বড় ধরনের নাটকীয় পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই বিরোধী জোট এগিয়ে থাকার আভাস পাওয়া গেলেও, সর্বশেষ আপডেটে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট বেশ শক্তিশালী অবস্থানে ফিরে এসেছে। দেশটির প্রধান দুটি গণমাধ্যমের সংশোধিত জরিপ অনুযায়ী, ১২০ আসনের পার্লামেন্টে (নেসেট) নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট এবং গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট—উভয় শিবিরই এখন ৫১টি করে আসন পেয়ে সমানে-সমান অবস্থানে রয়েছে। এর ফলে কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা বা ৬১টি আসন নিশ্চিত করতে পারছে না।

ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ‘কান ১১’ এবং টেলিভিশন ‘চ্যানেল ১৩’-এর সবশেষ আপডেট অনুযায়ী, উভয় পক্ষই ৫১টি করে আসন পাচ্ছে। তবে ‘চ্যানেল ১২’-এর জরিপে আইজেনকোটের জোটকে ৫২–৫০ আসনে সামান্য এগিয়ে রাখা হয়েছে। এই জরিপে সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি, যারা আগের অনুমানের চেয়ে আসন বাড়িয়ে এককভাবে সর্বোচ্চ ২৭টি আসনে পৌঁছাচ্ছে। অন্যদিকে আইজেনকোটের দল ‘ইয়াশার’ পাচ্ছে ২১টি আসন।

‘কান ১১’-এর নতুন হিসাব অনুযায়ী, লিকুদ পার্টি দুটি আসন বাড়ালেও তাদের মিত্র উগ্র ডানপন্থী ওতজমা ইয়েহুদিত একটি আসন হারিয়ে ৬টিতে নেমেছে। এছাড়া বিরোধী শিবিরের বামপন্থী ডেমোক্র্যাট দল একটি আসন হারিয়ে ৯টিতে নেমে এসেছে। তবে ফিলিস্তিনি-ইসরায়েলি বা আরবদের নেতৃত্বাধীন দলগুলো তাদের ১৮টি আসন অটুট রেখেছে। এই নতুন ফলের পর জেরুজালেমে লিকুদ পার্টির প্রধান কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। জ্বালানিমন্ত্রী এলি কোহেন এবং প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আমিচাই চিকলি সেখানে উপস্থিত হয়েছেন এবং ধারণা করা হচ্ছে, নেতানিয়াহু শীঘ্রই জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। তিনি আগে থেকেই জোর দিয়ে আসছেন যে তার দল নির্বাচনে হারেনি।

অন্যদিকে বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোট তার দলীয় কার্যালয়ে সমর্থকদের উদ্দেশে বলেছেন, দেশের মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে এবং নেতানিয়াহুর ব্যর্থ শাসনের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে। তিনি নেতানিয়াহুকে রাজনীতি থেকে বিদায় নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নতুন করে নির্বাচন দেওয়াটা বড় ভুল হবে। আইজেনকোট আরও বলেন, তিনি সবার জন্য সামরিক সেবা বাধ্যতামূলক করা এবং হামাসকে নির্মূল করার লক্ষ্যে একটি দায়িত্বশীল জায়োনিস্ট সরকার গঠনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। তিনি নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা প্রধানদের কোনো ব্যক্তির স্বার্থে নয়, বরং রাষ্ট্রের স্বার্থে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

দুই জোটের এই ৫১–৫১ আসনের সমতা ইসরায়েলের রাজনৈতিক সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। আরব দলগুলো নেতানিয়াহুর ঘোর বিরোধী হওয়ায় তার পক্ষে ৬১ আসনে পৌঁছানো অসম্ভব। একইভাবে আরব দলগুলোর সরাসরি অংশগ্রহণ ছাড়া আইজেনকোটের পক্ষেও জোট গড়া সহজ নয়। শেষ পর্যন্ত সমঝোতা না হলে দেশটিকে আবারও নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যেতে হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, দুই নেতাই এখন প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে সরকার গঠনের ম্যান্ডেট চাইবেন।