লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আগামী সপ্তাহে ভারত সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী সপ্তাহের শেষ দিকে ভারত সফরে যেতে পারেন বলে জানা গেছে। এই সম্ভাব্য সফরকে কেন্দ্র করে ঢাকা ও নয়াদিল্লি উভয় পক্ষই প্রস্তুতি শুরু করেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ঢাকা ও নয়াদিল্লির সূত্রের বরাত দিয়ে আজ শুক্রবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সফরটি চূড়ান্ত হলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি হবে তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর।

দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বর্তমানে বিদ্যমান টানাপোড়েনের সম্পর্ক মেরামতে এই সফরটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠকে বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচনার টেবিলে থাকতে পারে। তবে সফরের বিস্তারিত কর্মসূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই নয়াদিল্লি থেকে তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এছাড়া আগামী সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকসের আউটরিচ অধিবেশনে অংশগ্রহণের জন্যও বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। বিশ্লেষকদের মতে, দুই নেতার এই সম্ভাব্য প্রথম বৈঠকটি উভয় দেশের জন্যই বিশেষ গুরুত্ব বহন করবে, কারণ ঢাকা ও নয়াদিল্লি সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়ায় এটি একটি বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান এবং আগস্টে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। বিশেষ করে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং তাকে ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশের অনুরোধ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। তবে বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ভারতের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। এর আগে গত এপ্রিলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান নয়াদিল্লি সফর করে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরবর্তীতে ১০ আগস্ট ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন, যেখানে সম্পর্ক উন্নয়নের পাশাপাশি শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়টিও আলোচিত হয়।

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ বিষয়টি এই আলোচনার অন্যতম সংবেদনশীল ইস্যু হিসেবে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত ৫ আগস্ট ভারতে অবস্থানের পর থেকে তিনি সেখানেই আছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়ার পর ঢাকা আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে ফেরত চেয়েছে। ভারত জানিয়েছে, তারা আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অনুরোধটি পর্যালোচনা করছে। এছাড়া চলতি মাসে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল বক্তব্য প্রদানের ঘটনা নিয়ে ঢাকা তার অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। এছাড়া ১৯৯৬ সালের গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা থাকায়, পানি ব্যবস্থাপনা নিয়েও দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

যান্ত্রিক ত্রুটিতে ফের বন্ধ বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিট

আগামী সপ্তাহে ভারত সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:০৩:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী সপ্তাহের শেষ দিকে ভারত সফরে যেতে পারেন বলে জানা গেছে। এই সম্ভাব্য সফরকে কেন্দ্র করে ঢাকা ও নয়াদিল্লি উভয় পক্ষই প্রস্তুতি শুরু করেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ঢাকা ও নয়াদিল্লির সূত্রের বরাত দিয়ে আজ শুক্রবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সফরটি চূড়ান্ত হলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি হবে তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর।

দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বর্তমানে বিদ্যমান টানাপোড়েনের সম্পর্ক মেরামতে এই সফরটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠকে বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচনার টেবিলে থাকতে পারে। তবে সফরের বিস্তারিত কর্মসূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই নয়াদিল্লি থেকে তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এছাড়া আগামী সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকসের আউটরিচ অধিবেশনে অংশগ্রহণের জন্যও বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। বিশ্লেষকদের মতে, দুই নেতার এই সম্ভাব্য প্রথম বৈঠকটি উভয় দেশের জন্যই বিশেষ গুরুত্ব বহন করবে, কারণ ঢাকা ও নয়াদিল্লি সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়ায় এটি একটি বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান এবং আগস্টে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। বিশেষ করে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং তাকে ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশের অনুরোধ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। তবে বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ভারতের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। এর আগে গত এপ্রিলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান নয়াদিল্লি সফর করে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরবর্তীতে ১০ আগস্ট ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন, যেখানে সম্পর্ক উন্নয়নের পাশাপাশি শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়টিও আলোচিত হয়।

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ বিষয়টি এই আলোচনার অন্যতম সংবেদনশীল ইস্যু হিসেবে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত ৫ আগস্ট ভারতে অবস্থানের পর থেকে তিনি সেখানেই আছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়ার পর ঢাকা আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে ফেরত চেয়েছে। ভারত জানিয়েছে, তারা আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অনুরোধটি পর্যালোচনা করছে। এছাড়া চলতি মাসে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল বক্তব্য প্রদানের ঘটনা নিয়ে ঢাকা তার অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। এছাড়া ১৯৯৬ সালের গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা থাকায়, পানি ব্যবস্থাপনা নিয়েও দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে।