লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাজীপুরে যমুনার ভাঙনে বিলীন অর্ধশত বিঘা ফসলি জমি

সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলাজুড়ে যমুনা নদীর ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। পূর্ব দিকে যমুনা আর পশ্চিম দিকে ইছামতি নদীবেষ্টিত এই উপজেলার মানচিত্র প্রতি বছরই ছোট হয়ে আসছে। বর্ষা মৌসুমের শেষে এসে যমুনার ভাঙন নতুন করে তীব্র হয়েছে। চলতি বছরের আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত উপজেলার চরাঞ্চলের চরগিরিশ ও ভেটুয়া গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন শুরু হয়। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানেই প্রায় ২০ বিঘা তিন ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সব মিলিয়ে চলতি মৌসুমে এ পর্যন্ত অন্তত অর্ধশত বিঘা ফসলি জমি যমুনার পেটে চলে গেছে।

নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের অভিযোগ, যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তিত হচ্ছে, যা ভাঙনকে আরও ত্বরান্বিত করছে। ভেটুয়া গ্রামের বাসিন্দা আজিবার আলী জানান, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে তৈরি হওয়া গর্তের কারণে মাটি আলগা হয়ে যাচ্ছে। তার নিজের সাত পাখি জমি নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে এবং এ বছর তিনি কোনো ফসল আবাদ করতে পারেননি। একই অভিযোগ করেছেন বিলচতল গ্রামের হারুন অর রশিদ এবং নতুন মাইজবাড়ী এলাকার আব্দুর রাজ্জাক। হারুন অর রশিদ জানান, মাটি নিচ থেকে আলগা হয়ে যাওয়ায় স্রোত সহজেই মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে, যা তাদের শেষ সম্বলটুকু কেড়ে নিচ্ছে। আব্দুর রাজ্জাক জানান, তার ১৩ বিঘা ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে এবং এ বছরই তার আরও ২ পাখি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে।

ভাঙনের কবলে পড়ে এখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গ্রামীণ সড়ক, ব্রিজ ও বসতবাড়িসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঝুঁকির মুখে রয়েছে। খাসরাজবাড়ী, নাটুয়ারপাড়া, তেকানী, নিশ্চিন্তপুর, মনসুর নগর, চরগিরিশ ইউনিয়নসহ মোট ১০টি ইউনিয়নে প্রতি বছরই ভাঙন দেখা দেয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বিষয়টি জানানো হলেও ভাঙন রোধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, এমনকি প্রাথমিক সুরক্ষার জন্য বালু ভর্তি জিও ব্যাগও ফেলা হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসন যেন জরুরি ভিত্তিতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করে এবং নদীর তীর স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সাজ্জাদ হোসেন জানান, কাজীপুরের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে ভাঙন রোধে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন। সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

লক্ষ্মীপুরে পিডিবি প্রকৌশলীর ঘুষ চাওয়ার ভিডিও ভাইরাল

কাজীপুরে যমুনার ভাঙনে বিলীন অর্ধশত বিঘা ফসলি জমি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:০৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলাজুড়ে যমুনা নদীর ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। পূর্ব দিকে যমুনা আর পশ্চিম দিকে ইছামতি নদীবেষ্টিত এই উপজেলার মানচিত্র প্রতি বছরই ছোট হয়ে আসছে। বর্ষা মৌসুমের শেষে এসে যমুনার ভাঙন নতুন করে তীব্র হয়েছে। চলতি বছরের আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত উপজেলার চরাঞ্চলের চরগিরিশ ও ভেটুয়া গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন শুরু হয়। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানেই প্রায় ২০ বিঘা তিন ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সব মিলিয়ে চলতি মৌসুমে এ পর্যন্ত অন্তত অর্ধশত বিঘা ফসলি জমি যমুনার পেটে চলে গেছে।

নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের অভিযোগ, যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তিত হচ্ছে, যা ভাঙনকে আরও ত্বরান্বিত করছে। ভেটুয়া গ্রামের বাসিন্দা আজিবার আলী জানান, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে তৈরি হওয়া গর্তের কারণে মাটি আলগা হয়ে যাচ্ছে। তার নিজের সাত পাখি জমি নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে এবং এ বছর তিনি কোনো ফসল আবাদ করতে পারেননি। একই অভিযোগ করেছেন বিলচতল গ্রামের হারুন অর রশিদ এবং নতুন মাইজবাড়ী এলাকার আব্দুর রাজ্জাক। হারুন অর রশিদ জানান, মাটি নিচ থেকে আলগা হয়ে যাওয়ায় স্রোত সহজেই মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে, যা তাদের শেষ সম্বলটুকু কেড়ে নিচ্ছে। আব্দুর রাজ্জাক জানান, তার ১৩ বিঘা ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে এবং এ বছরই তার আরও ২ পাখি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে।

ভাঙনের কবলে পড়ে এখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গ্রামীণ সড়ক, ব্রিজ ও বসতবাড়িসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঝুঁকির মুখে রয়েছে। খাসরাজবাড়ী, নাটুয়ারপাড়া, তেকানী, নিশ্চিন্তপুর, মনসুর নগর, চরগিরিশ ইউনিয়নসহ মোট ১০টি ইউনিয়নে প্রতি বছরই ভাঙন দেখা দেয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বিষয়টি জানানো হলেও ভাঙন রোধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, এমনকি প্রাথমিক সুরক্ষার জন্য বালু ভর্তি জিও ব্যাগও ফেলা হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসন যেন জরুরি ভিত্তিতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করে এবং নদীর তীর স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সাজ্জাদ হোসেন জানান, কাজীপুরের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে ভাঙন রোধে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন। সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।