লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুই সপ্তাহের মধ্যে বিদ্যুৎ-জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নতির আশ্বাস প্রতিমন্ত্রীর

আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বর্তমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে জনগণের ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই পরিস্থিতিতে মানুষের কষ্টে আমরা সমব্যথী।

প্রতিমন্ত্রী জানান, একটি এফএসআরইউ মেরামতের পর গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা এরই মধ্যে প্রায় ৮৮ শতাংশ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বাকি ১২ শতাংশ সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক করার জন্য কাজ চলছে। বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, রক্ষণাবেক্ষণের কারণে বর্তমানে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিট এবং রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনে নেই। এছাড়া বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য কয়লাবাহী লাইটারেজ জাহাজ আনা যাচ্ছে না। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে কয়লা সরবরাহ সহজ হবে এবং পায়রা ও রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনে ফিরতে পারবে।

তিনি আরও জানান, অতিবৃষ্টির কারণে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রেও কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। সব মিলিয়ে সরকার আশা করছে, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের পর থেকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে। পায়রা ও রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হওয়া এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হলে শিল্পকারখানা ও গৃহস্থালি পর্যায়ে বিদ্যুতের ভোগান্তি কমবে।

সংবাদ সম্মেলনে ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের উদ্যোগের কথাও জানান অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের এক বিলিয়ন ডলার অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এ-সংক্রান্ত চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের ক্রুড অয়েল পরিশোধন সক্ষমতা তিন গুণ বাড়বে এবং বছরে প্রায় ৪৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার ৫০ শতাংশের বেশি মেটানো সম্ভব হবে এবং জ্বালানি নিরাপত্তায় প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ডিপিবি অনুযায়ী ২০৩০ সালে প্রকল্পটি চালুর কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ করার চেষ্টা করা হবে বলে প্রতিমন্ত্রী জানান।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাবার সাফারি স্যুটে বাবার অস্তিত্ব খুঁজছে এক কিশোরী

দুই সপ্তাহের মধ্যে বিদ্যুৎ-জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নতির আশ্বাস প্রতিমন্ত্রীর

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৩১:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বর্তমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে জনগণের ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই পরিস্থিতিতে মানুষের কষ্টে আমরা সমব্যথী।

প্রতিমন্ত্রী জানান, একটি এফএসআরইউ মেরামতের পর গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা এরই মধ্যে প্রায় ৮৮ শতাংশ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বাকি ১২ শতাংশ সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক করার জন্য কাজ চলছে। বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, রক্ষণাবেক্ষণের কারণে বর্তমানে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিট এবং রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনে নেই। এছাড়া বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য কয়লাবাহী লাইটারেজ জাহাজ আনা যাচ্ছে না। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে কয়লা সরবরাহ সহজ হবে এবং পায়রা ও রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনে ফিরতে পারবে।

তিনি আরও জানান, অতিবৃষ্টির কারণে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রেও কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। সব মিলিয়ে সরকার আশা করছে, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের পর থেকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে। পায়রা ও রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হওয়া এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হলে শিল্পকারখানা ও গৃহস্থালি পর্যায়ে বিদ্যুতের ভোগান্তি কমবে।

সংবাদ সম্মেলনে ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের উদ্যোগের কথাও জানান অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের এক বিলিয়ন ডলার অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এ-সংক্রান্ত চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের ক্রুড অয়েল পরিশোধন সক্ষমতা তিন গুণ বাড়বে এবং বছরে প্রায় ৪৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার ৫০ শতাংশের বেশি মেটানো সম্ভব হবে এবং জ্বালানি নিরাপত্তায় প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ডিপিবি অনুযায়ী ২০৩০ সালে প্রকল্পটি চালুর কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ করার চেষ্টা করা হবে বলে প্রতিমন্ত্রী জানান।