লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাতারবাড়ী ও পটুয়াখালী বিদ্যুৎকেন্দ্রে বকেয়া ৪৬৫১ কোটি টাকা

বিদ্যুৎ খাতে বিশাল আর্থিক দায়ের চাপে পড়েছে সরকার। একদিকে লোডশেডিংয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ, অন্যদিকে মাতারবাড়ী ও পটুয়াখালীর দুটি বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ট্যারিফ ঘাটতি ও বকেয়া পরিশোধ করতে সরকারকে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, শুধুমাত্র মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রেই বকেয়ার পরিমাণ প্রায় ৪ হাজার ৬৫১ কোটি টাকা। উৎপাদন সচল রাখা, ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ এবং বিদেশি ঋণের কিস্তির চাপ সামলাতে এই অর্থ দ্রুত ছাড় করার জন্য অর্থ সচিবকে চিঠি দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

বিদ্যুৎ বিভাগের নথি বিশ্লেষণে দেখা যায়, আরপিসিএল-নরিনকো ইন্টারন্যাশনাল পাওয়ার লিমিটেডের (আরএনপিএল) পটুয়াখালী ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের বাণিজ্যিক উৎপাদন ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ এবং দ্বিতীয় ইউনিটের উৎপাদন ২৮ মে ২০২৬ থেকে ধরা হয়েছে। অন্যদিকে, কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিপিজিসিবিএল) মাতারবাড়ী আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রের (১৩২০ মেগাওয়াট) বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর থেকে ট্যারিফ ঘাটতির হিসাব করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি (পিপিএ) অনুযায়ী, প্রকৃত ক্রয়মূল্য এবং গ্রাহক পর্যায়ে বিক্রয়মূল্যের মধ্যে যে বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে, তা মেটাতে সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (পিডিবি)।

পটুয়াখালী প্রকল্পটির অর্থায়নে চীনের এক্সিম ব্যাংকের নেতৃত্বাধীন ঋণ সিন্ডিকেটের ঋণের ৫০ শতাংশের জন্য বাংলাদেশ সরকার সার্বভৌম গ্যারান্টি দিয়েছে। ঋণের পরবর্তী কিস্তির ১৩৬.১৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিশোধের দায় এখন সরকারের সামনে। বিদ্যুৎ বিভাগ সতর্ক করেছে যে, বিল পরিশোধে বিলম্ব হলে কেন্দ্রটির পরিচালনা ও জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে।

বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির চাপ দীর্ঘদিনের। পিডিবির প্রাক্কলন অনুযায়ী, চলতি বছর এই খাতে ভর্তুকির চাহিদা ৪০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। ফেব্রুয়ারিতে পিডিবি জানিয়েছিল, গড়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে খরচ হয় প্রায় ১২ টাকা ৯৭ পয়সা, অথচ বিক্রয়মূল্য মাত্র ৭ টাকা। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ প্রায় ৫২ হাজার ৬০৮ কোটি টাকা দেওয়ার প্রক্ষেপণ রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদকদের ক্যাপাসিটি চার্জের বিষয়টি পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ ক্রয়ের দায় সাধারণ ভোক্তার ওপর চাপানো হবে না। বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ জানান, বিশেষ আইন বাতিল হলেও আগের চুক্তিগুলো কার্যকর থাকবে এবং সেই অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ করা হচ্ছে। বর্তমানে জ্বালানি ও গ্যাসের সংকট, রক্ষণাবেক্ষণ সীমাবদ্ধতা এবং অর্থনৈতিক চাপের কারণে উৎপাদন সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না, তবুও চুক্তি অনুযায়ী ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধের দায় সরকারের ওপরই থাকছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

যেকোনো সংঘাত মোকাবিলায় প্রস্তুত ইরান, সামরিক শক্তি বৃদ্ধির ঘোষণা

মাতারবাড়ী ও পটুয়াখালী বিদ্যুৎকেন্দ্রে বকেয়া ৪৬৫১ কোটি টাকা

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:৩১:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিদ্যুৎ খাতে বিশাল আর্থিক দায়ের চাপে পড়েছে সরকার। একদিকে লোডশেডিংয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ, অন্যদিকে মাতারবাড়ী ও পটুয়াখালীর দুটি বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ট্যারিফ ঘাটতি ও বকেয়া পরিশোধ করতে সরকারকে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, শুধুমাত্র মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রেই বকেয়ার পরিমাণ প্রায় ৪ হাজার ৬৫১ কোটি টাকা। উৎপাদন সচল রাখা, ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ এবং বিদেশি ঋণের কিস্তির চাপ সামলাতে এই অর্থ দ্রুত ছাড় করার জন্য অর্থ সচিবকে চিঠি দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

বিদ্যুৎ বিভাগের নথি বিশ্লেষণে দেখা যায়, আরপিসিএল-নরিনকো ইন্টারন্যাশনাল পাওয়ার লিমিটেডের (আরএনপিএল) পটুয়াখালী ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের বাণিজ্যিক উৎপাদন ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ এবং দ্বিতীয় ইউনিটের উৎপাদন ২৮ মে ২০২৬ থেকে ধরা হয়েছে। অন্যদিকে, কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিপিজিসিবিএল) মাতারবাড়ী আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রের (১৩২০ মেগাওয়াট) বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর থেকে ট্যারিফ ঘাটতির হিসাব করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি (পিপিএ) অনুযায়ী, প্রকৃত ক্রয়মূল্য এবং গ্রাহক পর্যায়ে বিক্রয়মূল্যের মধ্যে যে বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে, তা মেটাতে সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (পিডিবি)।

পটুয়াখালী প্রকল্পটির অর্থায়নে চীনের এক্সিম ব্যাংকের নেতৃত্বাধীন ঋণ সিন্ডিকেটের ঋণের ৫০ শতাংশের জন্য বাংলাদেশ সরকার সার্বভৌম গ্যারান্টি দিয়েছে। ঋণের পরবর্তী কিস্তির ১৩৬.১৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিশোধের দায় এখন সরকারের সামনে। বিদ্যুৎ বিভাগ সতর্ক করেছে যে, বিল পরিশোধে বিলম্ব হলে কেন্দ্রটির পরিচালনা ও জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে।

বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির চাপ দীর্ঘদিনের। পিডিবির প্রাক্কলন অনুযায়ী, চলতি বছর এই খাতে ভর্তুকির চাহিদা ৪০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। ফেব্রুয়ারিতে পিডিবি জানিয়েছিল, গড়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে খরচ হয় প্রায় ১২ টাকা ৯৭ পয়সা, অথচ বিক্রয়মূল্য মাত্র ৭ টাকা। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ প্রায় ৫২ হাজার ৬০৮ কোটি টাকা দেওয়ার প্রক্ষেপণ রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদকদের ক্যাপাসিটি চার্জের বিষয়টি পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ ক্রয়ের দায় সাধারণ ভোক্তার ওপর চাপানো হবে না। বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ জানান, বিশেষ আইন বাতিল হলেও আগের চুক্তিগুলো কার্যকর থাকবে এবং সেই অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ করা হচ্ছে। বর্তমানে জ্বালানি ও গ্যাসের সংকট, রক্ষণাবেক্ষণ সীমাবদ্ধতা এবং অর্থনৈতিক চাপের কারণে উৎপাদন সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না, তবুও চুক্তি অনুযায়ী ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধের দায় সরকারের ওপরই থাকছে।