লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের প্রস্তুতি ও পরবর্তী উত্তরসূরি নিয়ে জল্পনা

প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করছেন। তার এই পদত্যাগের মধ্যদিয়ে নতুন প্রেসিডেন্টের জন্য বঙ্গভবনের দুয়ার খুলছে। পদত্যাগের পর নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় নতুন প্রেসিডেন্ট পেতে কিছু সময় লাগতে পারে। সে পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন। মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় এখন নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে—কে হচ্ছেন বঙ্গভবনের নতুন বাসিন্দা। দায়িত্ব গ্রহণের সোয়া তিন বছরের মাথায় পদত্যাগ করছেন মো. সাহাবুদ্দিন।

২০২৪ সালের ৫ই আগস্টে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর সাহাবুদ্দিনকে অপসারণের জোর দাবি উঠে। তাকে অপসারণ ও গ্রেপ্তারের দাবিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বঙ্গভবন ঘেরাওসহ নানা কর্মসূচি পালন করে। কিন্তু অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পরামর্শে প্রেসিডেন্ট পদে পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়নি অন্তর্বর্তী সরকার। তবে প্রেসিডেন্ট সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে ছিলেন। গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর প্রেসিডেন্ট পদে পরিবর্তনের ফের আলোচনা শুরু হলেও বিএনপি’র নেতৃত্ব দেখে শুনে ব্যবস্থা নেয়ার পথে হাঁটে। দেড় বছর মেয়াদ থাকায় প্রেসিডেন্ট পদে পরিবর্তনে তাড়াহুড়ো ছিল না এতদিন। কিন্তু সাহাবুদ্দিন নিজেই পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছেন।

গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, গত ৯ থেকে ১৮ই মে চিকিৎসার জন্য লন্ডন সফরের সময় তিনি দিল্লিতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। অনেকে বলছেন, অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার এই যোগাযোগ সরাসরি শপথ ভঙ্গের মধ্যে পড়ে। এ ছাড়া তার এই যোগাযোগ প্রমাণ করে তিনি ফ্যাসিস্টদের পক্ষে এখনো কাজ করছেন। এ কারণে তাকে এই পদে রাখার আর কোনো সুযোগ নেই। শেখ হাসিনার সঙ্গে সাহাবুদ্দিনের যোগাযোগের বিষয়ে তথ্য পাওয়ার পরই সরকারের পক্ষ থেকে বঙ্গভবনে বিশেষ বার্তা দেয়া হয়। তাকে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়। জুলাই মাসের মধ্যেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সরকারি ইচ্ছার বিষয়টিও তাকে অবহিত করা হয়। সরকারি সূত্রের দাবি, আপাতত সরে যাওয়ার বিষয়ে প্রেসিডেন্টকে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে। তিনি নিজে থেকে পদত্যাগ করবেন। সেক্ষেত্রে স্বাস্থ্যগত বা পারিবারিক কারণ দেখিয়ে তিনি পদত্যাগ করতে পারেন। আজ বা কালের মধ্যেই স্পিকার বরাবর পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেবেন বলে বঙ্গভবন সূত্র জানিয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ আজই সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন। তিনি দেশে আসার পর আজ বা আগামীকালই প্রেসিডেন্ট পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে প্রেসিডেন্টের প্রেস সচিব মো. সারওয়ার আলম জানান, প্রেসিডেন্ট পদত্যাগ করলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো তথ্য নেই। সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্টের পদত্যাগপত্র স্পিকার বরাবর পাঠানোর মধ্য দিয়েই শেষ হবে বঙ্গভবনে সাহাবুদ্দিন অধ্যায়। দেশের বাইশতম প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি তিন বছর তিন মাস এই ভবনের বাসিন্দা হিসেবে আছেন। সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করলেও পদটি শূন্য হবে না। নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম এ পদে দায়িত্ব পালন করবেন। সংবিধান অনুযায়ী পদত্যাগের পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন করতে হবে। জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশন বসবে দুই মাস পর। তখন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবে। তবে সরকার চাইলে জরুরি অধিবেশন ডেকে তার আগেও এই নির্বাচন হতে পারে।

ওদিকে বঙ্গভবনে সাহাবুদ্দিনের উত্তরসূরি কে হচ্ছেন এ নিয়ে আলোচনা রাজনৈতিক অঙ্গনে। বিভিন্ন মাধ্যমে আলোচনায় এসেছে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি প্রেসিডেন্ট পদে পছন্দের তালিকায় আছেন। বিষয়টি প্রথম সামনে আসে প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের এক ফেসবুক পোস্ট ঘিরে। তবে নাসিমুল গনি বিএনপি আমলের প্রভাবশালী আমলা ও জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাকে পুনরায় চাকরিতে ফিরিয়ে আনে। বিধিসম্মতভাবে নাসিমুল গনির নিয়োগ সম্ভব নয় কারণ মন্ত্রিপরিষদ সচিব চাকরিরত থাকায় সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য নন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হতে গেলে তাকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচন করার যোগ্যতা থাকতে হয়।

বিএনপি’র নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, দলের সিনিয়র একজন নেতাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে বেছে নেয়া হবে—আপাতত এমন সিদ্ধান্ত রয়েছে। দলের বাইরের একজন প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন নানা মাধ্যমে এমন আলোচনা ছড়ালেও সূত্রটি তা নাকচ করে জানিয়েছে একজন রাজনীতিবিদই হচ্ছেন দেশের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছাড়া অরাজনৈতিক কোনো ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতির মতো জাতীয় জনগুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ দলের জন্য অতীতে সুফল বয়ে আনেনি বলেও বিএনপিতে আলোচনা চলছে। এক্ষেত্রে অনেকে প্রফেসর ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ এর উদাহরণ সামনে আনছেন। দলের প্রায় সব সিনিয়র নেতা জানিয়েছেন, দলের কোনো সিনিয়র নেতাই যাচ্ছেন বঙ্গভবনে। কোনো আমলার এ পদে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। দলের ভেতরে এই পদে তালিকায় বেশি আলোচনা হচ্ছে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ড. আব্দুল মঈন খানের নাম। দলীয় সূত্রের দাবি এই তিনজন থেকেই একজনকে বেছে নেয়া হতে পারে দেশের তেইশতম প্রেসিডেন্ট। আরেক সিনিয়র নেতা নজরুল ইসলাম খানের নামও কেউ কেউ বলছেন। এ বিষয়ে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানান, তিনি এ বিষয়ে কিছু অবগত নন। মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক শেষে স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, শুক্রবার পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। প্রেসিডেন্ট পদত্যাগ করলে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নিয়ে আলোচনা শুরু হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন।

জনপ্রিয় সংবাদ

কেরানীগঞ্জে সেলুনে ঢুকে যুবককে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা

প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের প্রস্তুতি ও পরবর্তী উত্তরসূরি নিয়ে জল্পনা

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:০২:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করছেন। তার এই পদত্যাগের মধ্যদিয়ে নতুন প্রেসিডেন্টের জন্য বঙ্গভবনের দুয়ার খুলছে। পদত্যাগের পর নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় নতুন প্রেসিডেন্ট পেতে কিছু সময় লাগতে পারে। সে পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন। মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় এখন নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে—কে হচ্ছেন বঙ্গভবনের নতুন বাসিন্দা। দায়িত্ব গ্রহণের সোয়া তিন বছরের মাথায় পদত্যাগ করছেন মো. সাহাবুদ্দিন।

২০২৪ সালের ৫ই আগস্টে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর সাহাবুদ্দিনকে অপসারণের জোর দাবি উঠে। তাকে অপসারণ ও গ্রেপ্তারের দাবিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বঙ্গভবন ঘেরাওসহ নানা কর্মসূচি পালন করে। কিন্তু অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পরামর্শে প্রেসিডেন্ট পদে পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়নি অন্তর্বর্তী সরকার। তবে প্রেসিডেন্ট সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে ছিলেন। গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর প্রেসিডেন্ট পদে পরিবর্তনের ফের আলোচনা শুরু হলেও বিএনপি’র নেতৃত্ব দেখে শুনে ব্যবস্থা নেয়ার পথে হাঁটে। দেড় বছর মেয়াদ থাকায় প্রেসিডেন্ট পদে পরিবর্তনে তাড়াহুড়ো ছিল না এতদিন। কিন্তু সাহাবুদ্দিন নিজেই পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছেন।

গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, গত ৯ থেকে ১৮ই মে চিকিৎসার জন্য লন্ডন সফরের সময় তিনি দিল্লিতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। অনেকে বলছেন, অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার এই যোগাযোগ সরাসরি শপথ ভঙ্গের মধ্যে পড়ে। এ ছাড়া তার এই যোগাযোগ প্রমাণ করে তিনি ফ্যাসিস্টদের পক্ষে এখনো কাজ করছেন। এ কারণে তাকে এই পদে রাখার আর কোনো সুযোগ নেই। শেখ হাসিনার সঙ্গে সাহাবুদ্দিনের যোগাযোগের বিষয়ে তথ্য পাওয়ার পরই সরকারের পক্ষ থেকে বঙ্গভবনে বিশেষ বার্তা দেয়া হয়। তাকে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়। জুলাই মাসের মধ্যেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সরকারি ইচ্ছার বিষয়টিও তাকে অবহিত করা হয়। সরকারি সূত্রের দাবি, আপাতত সরে যাওয়ার বিষয়ে প্রেসিডেন্টকে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে। তিনি নিজে থেকে পদত্যাগ করবেন। সেক্ষেত্রে স্বাস্থ্যগত বা পারিবারিক কারণ দেখিয়ে তিনি পদত্যাগ করতে পারেন। আজ বা কালের মধ্যেই স্পিকার বরাবর পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেবেন বলে বঙ্গভবন সূত্র জানিয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ আজই সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন। তিনি দেশে আসার পর আজ বা আগামীকালই প্রেসিডেন্ট পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে প্রেসিডেন্টের প্রেস সচিব মো. সারওয়ার আলম জানান, প্রেসিডেন্ট পদত্যাগ করলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো তথ্য নেই। সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্টের পদত্যাগপত্র স্পিকার বরাবর পাঠানোর মধ্য দিয়েই শেষ হবে বঙ্গভবনে সাহাবুদ্দিন অধ্যায়। দেশের বাইশতম প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি তিন বছর তিন মাস এই ভবনের বাসিন্দা হিসেবে আছেন। সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করলেও পদটি শূন্য হবে না। নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম এ পদে দায়িত্ব পালন করবেন। সংবিধান অনুযায়ী পদত্যাগের পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন করতে হবে। জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশন বসবে দুই মাস পর। তখন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবে। তবে সরকার চাইলে জরুরি অধিবেশন ডেকে তার আগেও এই নির্বাচন হতে পারে।

ওদিকে বঙ্গভবনে সাহাবুদ্দিনের উত্তরসূরি কে হচ্ছেন এ নিয়ে আলোচনা রাজনৈতিক অঙ্গনে। বিভিন্ন মাধ্যমে আলোচনায় এসেছে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি প্রেসিডেন্ট পদে পছন্দের তালিকায় আছেন। বিষয়টি প্রথম সামনে আসে প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের এক ফেসবুক পোস্ট ঘিরে। তবে নাসিমুল গনি বিএনপি আমলের প্রভাবশালী আমলা ও জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাকে পুনরায় চাকরিতে ফিরিয়ে আনে। বিধিসম্মতভাবে নাসিমুল গনির নিয়োগ সম্ভব নয় কারণ মন্ত্রিপরিষদ সচিব চাকরিরত থাকায় সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য নন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হতে গেলে তাকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচন করার যোগ্যতা থাকতে হয়।

বিএনপি’র নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, দলের সিনিয়র একজন নেতাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে বেছে নেয়া হবে—আপাতত এমন সিদ্ধান্ত রয়েছে। দলের বাইরের একজন প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন নানা মাধ্যমে এমন আলোচনা ছড়ালেও সূত্রটি তা নাকচ করে জানিয়েছে একজন রাজনীতিবিদই হচ্ছেন দেশের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছাড়া অরাজনৈতিক কোনো ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতির মতো জাতীয় জনগুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ দলের জন্য অতীতে সুফল বয়ে আনেনি বলেও বিএনপিতে আলোচনা চলছে। এক্ষেত্রে অনেকে প্রফেসর ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ এর উদাহরণ সামনে আনছেন। দলের প্রায় সব সিনিয়র নেতা জানিয়েছেন, দলের কোনো সিনিয়র নেতাই যাচ্ছেন বঙ্গভবনে। কোনো আমলার এ পদে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। দলের ভেতরে এই পদে তালিকায় বেশি আলোচনা হচ্ছে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ড. আব্দুল মঈন খানের নাম। দলীয় সূত্রের দাবি এই তিনজন থেকেই একজনকে বেছে নেয়া হতে পারে দেশের তেইশতম প্রেসিডেন্ট। আরেক সিনিয়র নেতা নজরুল ইসলাম খানের নামও কেউ কেউ বলছেন। এ বিষয়ে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানান, তিনি এ বিষয়ে কিছু অবগত নন। মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক শেষে স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, শুক্রবার পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। প্রেসিডেন্ট পদত্যাগ করলে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নিয়ে আলোচনা শুরু হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন।