লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৬:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চিকিৎসাসেবার মূল ভিত্তি আস্থা ও সহানুভূতি: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের চিকিৎসা সেবার মানোন্নয়নের জন্য চিকিৎসক, রোগী এবং রোগীর স্বজনদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও সহানুভূতির সম্পর্ক বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই তিন পক্ষের মধ্যে আস্থার অভাব থাকলে এবং চিকিৎসকরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগলে হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়ন সত্ত্বেও বিদেশমুখী চিকিৎসা প্রবণতা রোধ করা সম্ভব হবে না।

শনিবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ৫শ’ শয্যাবিশিষ্ট ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতাল’-এর ১৫ তলা বিশিষ্ট নবনির্মিত ‘ভবন-২’ (নিউরোসায়েন্স-২)-এর উদ্বোধন ও ফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার লক্ষ্য শুধু অবকাঠামো বা প্রযুক্তি বাড়ানো নয়, বরং উন্নত প্রযুক্তি, দক্ষ মানবসম্পদ, সুশাসন ও সঠিক নীতির মাধ্যমে মানুষের জন্য সাশ্রয়ী ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করা।

প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কথা স্মরণ করে তারেক রহমান জানান, ২০০৬ সালের ২৩ অক্টোবর তিনি এই হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত নতুন এই ভবনটি স্ট্রোক, এপিলেপসি, পারকিনসন্স, ডিমেনশিয়া ও মেরুদণ্ডের জটিল রোগের চিকিৎসায় নতুন মাইলফলক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। ভবনটিতে সর্বাধুনিক আইসিইউ, অপারেশন থিয়েটার ও ডায়াগনস্টিক সুবিধা রয়েছে।

চিকিৎসকদের মানবিক আচরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তি রোগ শনাক্ত করতে পারে, কিন্তু রোগীর ভয় ও মানসিক কষ্ট বুঝে তাকে আশ্বস্ত করার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের মানবিক আচরণের কোনো বিকল্প নেই। তবে চিকিৎসা পরিবেশ নির্বিঘ্ন রাখার দায়িত্ব শুধু চিকিৎসকের নয়, এটি সবার সম্মিলিত দায়িত্ব বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার ই-হেলথ কার্ডের মাধ্যমে আধুনিক রেফারেল সিস্টেম গড়ে তোলার কাজ শুরু করেছে। প্রতিটি ইউনিয়নে ‘প্রাইমারি হেলথ কেয়ার ইউনিট’ প্রতিষ্ঠা এবং বর্তমান মেয়াদে পর্যায়ক্রমে প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। এছাড়া শিশুদের স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তার সরকারের লক্ষ্য এমন একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়া, যেখানে চিকিৎসার জন্য কাউকে দেশের বাইরে যেতে হবে না বা অর্থাভাবে কেউ সেবা থেকে বঞ্চিত হবে না। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিতসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে বিরোধী দলকে প্রধানমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জ

চিকিৎসাসেবার মূল ভিত্তি আস্থা ও সহানুভূতি: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত হয়েছে: ১০:৩৯:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের চিকিৎসা সেবার মানোন্নয়নের জন্য চিকিৎসক, রোগী এবং রোগীর স্বজনদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও সহানুভূতির সম্পর্ক বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই তিন পক্ষের মধ্যে আস্থার অভাব থাকলে এবং চিকিৎসকরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগলে হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়ন সত্ত্বেও বিদেশমুখী চিকিৎসা প্রবণতা রোধ করা সম্ভব হবে না।

শনিবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ৫শ’ শয্যাবিশিষ্ট ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতাল’-এর ১৫ তলা বিশিষ্ট নবনির্মিত ‘ভবন-২’ (নিউরোসায়েন্স-২)-এর উদ্বোধন ও ফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার লক্ষ্য শুধু অবকাঠামো বা প্রযুক্তি বাড়ানো নয়, বরং উন্নত প্রযুক্তি, দক্ষ মানবসম্পদ, সুশাসন ও সঠিক নীতির মাধ্যমে মানুষের জন্য সাশ্রয়ী ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করা।

প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কথা স্মরণ করে তারেক রহমান জানান, ২০০৬ সালের ২৩ অক্টোবর তিনি এই হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত নতুন এই ভবনটি স্ট্রোক, এপিলেপসি, পারকিনসন্স, ডিমেনশিয়া ও মেরুদণ্ডের জটিল রোগের চিকিৎসায় নতুন মাইলফলক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। ভবনটিতে সর্বাধুনিক আইসিইউ, অপারেশন থিয়েটার ও ডায়াগনস্টিক সুবিধা রয়েছে।

চিকিৎসকদের মানবিক আচরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তি রোগ শনাক্ত করতে পারে, কিন্তু রোগীর ভয় ও মানসিক কষ্ট বুঝে তাকে আশ্বস্ত করার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের মানবিক আচরণের কোনো বিকল্প নেই। তবে চিকিৎসা পরিবেশ নির্বিঘ্ন রাখার দায়িত্ব শুধু চিকিৎসকের নয়, এটি সবার সম্মিলিত দায়িত্ব বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার ই-হেলথ কার্ডের মাধ্যমে আধুনিক রেফারেল সিস্টেম গড়ে তোলার কাজ শুরু করেছে। প্রতিটি ইউনিয়নে ‘প্রাইমারি হেলথ কেয়ার ইউনিট’ প্রতিষ্ঠা এবং বর্তমান মেয়াদে পর্যায়ক্রমে প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। এছাড়া শিশুদের স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তার সরকারের লক্ষ্য এমন একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়া, যেখানে চিকিৎসার জন্য কাউকে দেশের বাইরে যেতে হবে না বা অর্থাভাবে কেউ সেবা থেকে বঞ্চিত হবে না। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিতসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।