লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দিল্লিতে আন্দোলনে সমর্থন বাড়ছে, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগে অনড় শিক্ষার্থীরা

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও বিরোধী রাজনীতিবিদদের সংঘাত বুধবার আরও তীব্র রূপ নিয়েছে। সংসদের উভয় কক্ষের অধিবেশন টানা তৃতীয় দিনের মতো ভন্ডুল হয়ে গেছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিটি দাবিকে সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, গত এক দশকে ১৫৪টি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটলেও একজনও অপরাধী সাব্যস্ত হয়নি। তিনি শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে দুর্নীতিগ্রস্ত ও অযোগ্য আখ্যা দিয়ে তাঁর পদত্যাগ দাবি করেন। সেই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ওপর হওয়া নির্যাতনের বিচার এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার দাবিও জানান রাহুল।

দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ধরনা স্থলটিতে গতকাল বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাজার হাজার শিক্ষার্থী জড়ো হন। শুরুতে দিল্লি পুলিশ যন্তর মন্তরের বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে এবং খাদ্য-পানীয় প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষ শিক্ষার্থীদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। বিভিন্ন পেশার মানুষ সুইগি, জোম্যাটো ও ফুড পান্ডার মতো ডেলিভারি সার্ভিসের মাধ্যমে খাবার ও পানীয় পাঠাচ্ছেন। এছাড়া অনেকে ব্যক্তিগতভাবে চা, রান্না করা খাবার ও ফল নিয়ে এসে বিনা পয়সায় শিক্ষার্থীদের মাঝে বিলি করছেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, আন্দোলনকারী নেতারা সামাজিক মাধ্যমে অতিরিক্ত খাবার না পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছেন। কোনো আন্দোলন ঘিরে দিল্লিতে এমন স্বতঃস্ফূর্ত জনসমর্থন অতীতে দেখা যায়নি, যাকে অনেকে বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার যুব আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা করছেন। গুজরাটের আহমেদাবাদেও এই আন্দোলনের সমর্থনে বিক্ষোভ হয়েছে, যেখানে শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।

সংসদ ভবন চত্বরে শিক্ষামন্ত্রীর অপসারণের দাবিতে অনড় থাকায় সরকার ও বিরোধী নেতাদের মধ্যে অচলাবস্থা কাটেনি। মুলতবি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় লোকসভা ও রাজ্যসভা সারা দিনের জন্য অচল হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিনিধিদের আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে ছাত্রনেতারা মন্ত্রীদের বাসভবনে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, সরকার আলোচনায় রাজি থাকলে যেন যন্তর মন্তরে এসে কথা বলে। সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাংকা জানিয়েছেন, দাবি না মানা হলে লাখ লাখ মানুষ দিল্লি আসার অপেক্ষায় রয়েছেন। তাঁরা সরকারকে সতর্ক করে বলেন, ২০ জুলাই যা হয়েছে তা কেবল একটি ট্রেলার মাত্র।

এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে কংগ্রেস নেতাদের ধরনা চলাকালে মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং আলোচনার প্রস্তাব দিলেও বিরোধীরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনড় থাকেন। গতকাল রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ বিরোধী নেতারা কালো পোশাক পরে সংসদ চত্বরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এদিকে সরকারি সূত্র বলছে, সরকার আলোচনায় প্রস্তুত থাকলেও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি মানবে না। অন্যদিকে বিজেপি নেতারা এই আন্দোলনের পেছনে পাকিস্তান, খালিস্তান বা জর্জ সোরসের মতো বিদেশি চক্রান্তের অভিযোগ তুলছেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন, রাজনৈতিক স্বার্থে যুবকদের ব্যবহার করা উদ্বেগজনক।

দিল্লি হাইকোর্ট গতকাল পুলিশকে ভর্ৎসনা করে নির্দেশ দিয়েছেন যে, পুলিশি নির্যাতনের যাবতীয় সিসিটিভি ফুটেজ ও নথি যেন অক্ষত রাখা হয়। আদালত মন্তব্য করেন, এই অত্যাচার গোটা দেশের বিবেক নাড়িয়ে দিয়েছে। আন্দোলনের মাঝেই আন্দোলনকারী ছাত্রনেতারা অনশনরত সোনম ওয়াংচুককে আন্দোলন প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছেন। এছাড়া মেট্রো কর্তৃপক্ষ ১৬টি স্টেশন বন্ধ রাখায় সাধারণ যাত্রীরা ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। বিজেপিও পাল্টা কর্মসূচি হিসেবে রাজ্যে রাজ্যে কংগ্রেস অফিসের সামনে বিক্ষোভের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আঙুলের শব্দে আম্পায়ার বিভ্রান্ত, ইংল্যান্ডের ক্রিকেটে প্রতারণার নজির

দিল্লিতে আন্দোলনে সমর্থন বাড়ছে, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগে অনড় শিক্ষার্থীরা

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:২৭:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও বিরোধী রাজনীতিবিদদের সংঘাত বুধবার আরও তীব্র রূপ নিয়েছে। সংসদের উভয় কক্ষের অধিবেশন টানা তৃতীয় দিনের মতো ভন্ডুল হয়ে গেছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিটি দাবিকে সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, গত এক দশকে ১৫৪টি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটলেও একজনও অপরাধী সাব্যস্ত হয়নি। তিনি শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে দুর্নীতিগ্রস্ত ও অযোগ্য আখ্যা দিয়ে তাঁর পদত্যাগ দাবি করেন। সেই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ওপর হওয়া নির্যাতনের বিচার এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার দাবিও জানান রাহুল।

দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ধরনা স্থলটিতে গতকাল বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাজার হাজার শিক্ষার্থী জড়ো হন। শুরুতে দিল্লি পুলিশ যন্তর মন্তরের বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে এবং খাদ্য-পানীয় প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষ শিক্ষার্থীদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। বিভিন্ন পেশার মানুষ সুইগি, জোম্যাটো ও ফুড পান্ডার মতো ডেলিভারি সার্ভিসের মাধ্যমে খাবার ও পানীয় পাঠাচ্ছেন। এছাড়া অনেকে ব্যক্তিগতভাবে চা, রান্না করা খাবার ও ফল নিয়ে এসে বিনা পয়সায় শিক্ষার্থীদের মাঝে বিলি করছেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, আন্দোলনকারী নেতারা সামাজিক মাধ্যমে অতিরিক্ত খাবার না পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছেন। কোনো আন্দোলন ঘিরে দিল্লিতে এমন স্বতঃস্ফূর্ত জনসমর্থন অতীতে দেখা যায়নি, যাকে অনেকে বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার যুব আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা করছেন। গুজরাটের আহমেদাবাদেও এই আন্দোলনের সমর্থনে বিক্ষোভ হয়েছে, যেখানে শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।

সংসদ ভবন চত্বরে শিক্ষামন্ত্রীর অপসারণের দাবিতে অনড় থাকায় সরকার ও বিরোধী নেতাদের মধ্যে অচলাবস্থা কাটেনি। মুলতবি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় লোকসভা ও রাজ্যসভা সারা দিনের জন্য অচল হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিনিধিদের আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে ছাত্রনেতারা মন্ত্রীদের বাসভবনে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, সরকার আলোচনায় রাজি থাকলে যেন যন্তর মন্তরে এসে কথা বলে। সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাংকা জানিয়েছেন, দাবি না মানা হলে লাখ লাখ মানুষ দিল্লি আসার অপেক্ষায় রয়েছেন। তাঁরা সরকারকে সতর্ক করে বলেন, ২০ জুলাই যা হয়েছে তা কেবল একটি ট্রেলার মাত্র।

এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে কংগ্রেস নেতাদের ধরনা চলাকালে মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং আলোচনার প্রস্তাব দিলেও বিরোধীরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনড় থাকেন। গতকাল রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ বিরোধী নেতারা কালো পোশাক পরে সংসদ চত্বরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এদিকে সরকারি সূত্র বলছে, সরকার আলোচনায় প্রস্তুত থাকলেও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি মানবে না। অন্যদিকে বিজেপি নেতারা এই আন্দোলনের পেছনে পাকিস্তান, খালিস্তান বা জর্জ সোরসের মতো বিদেশি চক্রান্তের অভিযোগ তুলছেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন, রাজনৈতিক স্বার্থে যুবকদের ব্যবহার করা উদ্বেগজনক।

দিল্লি হাইকোর্ট গতকাল পুলিশকে ভর্ৎসনা করে নির্দেশ দিয়েছেন যে, পুলিশি নির্যাতনের যাবতীয় সিসিটিভি ফুটেজ ও নথি যেন অক্ষত রাখা হয়। আদালত মন্তব্য করেন, এই অত্যাচার গোটা দেশের বিবেক নাড়িয়ে দিয়েছে। আন্দোলনের মাঝেই আন্দোলনকারী ছাত্রনেতারা অনশনরত সোনম ওয়াংচুককে আন্দোলন প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছেন। এছাড়া মেট্রো কর্তৃপক্ষ ১৬টি স্টেশন বন্ধ রাখায় সাধারণ যাত্রীরা ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। বিজেপিও পাল্টা কর্মসূচি হিসেবে রাজ্যে রাজ্যে কংগ্রেস অফিসের সামনে বিক্ষোভের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।