লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটে ফের উৎপাদন শুরু

বাগেরহাটের রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটে আট দিন বন্ধ থাকার পর আবারও বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শেষ করে রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে ইউনিটটি পুনরায় চালু করা হয়। এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ১১টার দিকে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, যার ফলে কেন্দ্রটির দৈনিক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে।

রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মানবসম্পদ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আনোয়ারুল আজিম জানান, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ থাকায় কেন্দ্রটি কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য কর্তৃপক্ষ সবসময় তৎপর থাকে। তিনি উল্লেখ করেন, বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে মাঝেমধ্যে কোনো একটি ইউনিট সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়া স্বাভাবিক এবং ত্রুটি দেখা দিলে দ্রুত তা সমাধানের চেষ্টা করা হয়। বর্তমানে কেন্দ্রটির দুটি ইউনিটই পূর্ণ সক্ষমতায় চালু রয়েছে এবং পর্যাপ্ত কয়লার মজুতও নিশ্চিত করা হয়েছে।

রক্ষণাবেক্ষণের পর চালুর প্রাথমিক পর্যায়ে দ্বিতীয় ইউনিট থেকে ৩৬৮ দশমিক ৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চাহিদা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে উৎপাদন বাড়িয়ে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। বর্তমানে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট থেকে ৬৫৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। দুটি ইউনিটই সচল হওয়ায় এখন চাহিদা অনুযায়ী জাতীয় গ্রিডে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে ২০১০ সালে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১২ সালের ২৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) এবং ভারতের ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার করপোরেশন (এনটিপিসি)-এর মধ্যে চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফপিসিএল) গঠন করা হয়। বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার রাজনগর ও গৌরম্ভা ইউনিয়নের সাপমারী-কৈগরদাসকাঠি মৌজায় ১ হাজার ৩৪ একর জমিতে প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রজেক্টের নির্মাণকাজ শুরু হয়। দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর ২০২২ সালের ২৩ ডিসেম্বর ৬৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিট এবং পরের বছর ২৪ অক্টোবর দ্বিতীয় ইউনিটের পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হয়েছিল। কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট হলেও স্বাভাবিক অবস্থায় দুটি ইউনিট মিলে ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়ে থাকে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদ্রিদ ডার্বিতে মরিনহোর রিয়ালকে হারিয়ে জয়ের ধারায় অ্যাটলেটিকো

রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটে ফের উৎপাদন শুরু

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:৩০:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাগেরহাটের রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটে আট দিন বন্ধ থাকার পর আবারও বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শেষ করে রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে ইউনিটটি পুনরায় চালু করা হয়। এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ১১টার দিকে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, যার ফলে কেন্দ্রটির দৈনিক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে।

রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মানবসম্পদ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আনোয়ারুল আজিম জানান, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ থাকায় কেন্দ্রটি কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য কর্তৃপক্ষ সবসময় তৎপর থাকে। তিনি উল্লেখ করেন, বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে মাঝেমধ্যে কোনো একটি ইউনিট সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়া স্বাভাবিক এবং ত্রুটি দেখা দিলে দ্রুত তা সমাধানের চেষ্টা করা হয়। বর্তমানে কেন্দ্রটির দুটি ইউনিটই পূর্ণ সক্ষমতায় চালু রয়েছে এবং পর্যাপ্ত কয়লার মজুতও নিশ্চিত করা হয়েছে।

রক্ষণাবেক্ষণের পর চালুর প্রাথমিক পর্যায়ে দ্বিতীয় ইউনিট থেকে ৩৬৮ দশমিক ৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চাহিদা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে উৎপাদন বাড়িয়ে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। বর্তমানে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট থেকে ৬৫৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। দুটি ইউনিটই সচল হওয়ায় এখন চাহিদা অনুযায়ী জাতীয় গ্রিডে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে ২০১০ সালে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১২ সালের ২৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) এবং ভারতের ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার করপোরেশন (এনটিপিসি)-এর মধ্যে চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফপিসিএল) গঠন করা হয়। বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার রাজনগর ও গৌরম্ভা ইউনিয়নের সাপমারী-কৈগরদাসকাঠি মৌজায় ১ হাজার ৩৪ একর জমিতে প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রজেক্টের নির্মাণকাজ শুরু হয়। দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর ২০২২ সালের ২৩ ডিসেম্বর ৬৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিট এবং পরের বছর ২৪ অক্টোবর দ্বিতীয় ইউনিটের পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হয়েছিল। কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট হলেও স্বাভাবিক অবস্থায় দুটি ইউনিট মিলে ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়ে থাকে।