লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্ববাজারে তীব্র হচ্ছে ডিজেল সংকট, লাফিয়ে বাড়ছে দাম

রাশিয়া এবং উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি সরবরাহ হ্রাস পাওয়ায় বিশ্বজুড়ে ডিজেল বাজারে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। এর ফলে আমদানির ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোতে ডিজেলের দাম যেমন বাড়ছে, তেমনি তেল শোধনাগারগুলোর মুনাফাও রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তুর্কি সংবাদমাধ্যম ডেইলি সাবাহর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ার জ্বালানি খাতের আয় সংকুচিত করার উদ্দেশ্যে দেশটির তেল শোধনাগার ও রপ্তানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে তীব্র আক্রমণ চালায় ইউক্রেন। এতে রাশিয়ার নিজস্ব তেল শোধন প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। একই সময়ে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য রপ্তানিতে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ায় বিশ্ববাজারে ডিজেলের সামগ্রিক সরবরাহ কমে যায়, যা দাম ও শোধনাগারের মুনাফাকে ঊর্ধ্বমুখী করে তুলেছে।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের দিন জার্মানি ও ফ্রান্সে প্রতি লিটার ডিজেলের মূল্য ছিল প্রায় ১.৮০ ইউরো বা ২.০৭ ডলার। সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে এসে সেই দাম দাঁড়িয়েছে প্রায় ২.৪০ ইউরোতে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রতি গ্যালন ডিজেল বিক্রি হয়েছিল প্রায় ৩.৭৫ ডলারে, যা গত ১১ সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো রেকর্ড ৬ ডলার ছাড়িয়ে যায়। এমনকি খোদ রাশিয়াতেও ডিজেলের দাম বেড়েছে। ২৭ ফেব্রুয়ারির আগে দেশটিতে প্রতি লিটার ডিজেল যেখানে ছিল প্রায় ৭৭ রুবল (৯১ সেন্ট), সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে তা বেড়ে ৮২ থেকে ৮৩ রুবলে ঠেকেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান বিরোধের নিষ্পত্তি না হওয়ায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি ডিজেল বাজারের সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে। কারণ, এই অচলাবস্থার কারণে কেবল অপরিশোধিত তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে না, বরং ডিজেল, জেট ফুয়েল ও এলএনজির মতো পরিশোধিত পণ্যের সংকটও তীব্র আকার ধারণ করছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের শোধনাগারগুলোতে উৎপাদিত ডিজেল ও গ্যাসঅয়েলের একটি বড় অংশ সমুদ্রপথে এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকার বাজারে পাঠানো হয়। ফলে হরমুজ প্রণালিতে যেকোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিশ্ববাজারে পরিশোধিত ডিজেলের প্রাপ্যতার ওপর।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) সেপ্টেম্বর মাসের প্রতিবেদন অনুসারে, গত আগস্ট মাসে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে ডিজেল ও গ্যাস-অয়েলের নিট রপ্তানি ছিল দৈনিক গড়ে ৩ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেল। হরমুজ প্রণালিতে পণ্য পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার কারণে এই রপ্তানির পরিমাণ যুদ্ধ-পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় মাত্র এক-চতুর্থাংশের সামান্য বেশি ছিল। গত ফেব্রুয়ারির তুলনায় আগস্টে উপসাগরীয় অঞ্চল ও রাশিয়া থেকে ডিজেল ও গ্যাস-অয়েলের সম্মিলিত নিট রপ্তানি দৈনিক ১৬ লাখ ব্যারেল হ্রাস পেয়েছে। অথচ গত ফেব্রুয়ারি মাসেও বিশ্বব্যাপী সমুদ্রপথে পেট্রোলিয়াম পণ্য বাণিজ্যের প্রায় ৪৫ শতাংশ আসত এই দুটি অঞ্চল থেকেই।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ডিজেল ও জেট ফুয়েলের মতো ডিস্টিলেট শোধন থেকে অর্জিত মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। অন্যদিকে গ্যাসোলিন শোধন থেকে মুনাফা বৃদ্ধির হার ছিল প্রায় ৬০ শতাংশ। আইইএ আরও জানিয়েছে, আগস্ট মাসে আটলান্টিক অঞ্চলে তেল শোধন থেকে রেকর্ড পরিমাণ মুনাফা অর্জনের পেছনে ডিজেল 'ক্র্যাক স্প্রেড' বা অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত ডিজেলের দামের ব্যবধান বৃদ্ধি পাওয়াটাই ছিল প্রধান প্রভাবক।

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদ্রিদ ডার্বিতে মরিনহোর রিয়ালকে হারিয়ে জয়ের ধারায় অ্যাটলেটিকো

বিশ্ববাজারে তীব্র হচ্ছে ডিজেল সংকট, লাফিয়ে বাড়ছে দাম

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:০২:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাশিয়া এবং উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি সরবরাহ হ্রাস পাওয়ায় বিশ্বজুড়ে ডিজেল বাজারে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। এর ফলে আমদানির ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোতে ডিজেলের দাম যেমন বাড়ছে, তেমনি তেল শোধনাগারগুলোর মুনাফাও রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তুর্কি সংবাদমাধ্যম ডেইলি সাবাহর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ার জ্বালানি খাতের আয় সংকুচিত করার উদ্দেশ্যে দেশটির তেল শোধনাগার ও রপ্তানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে তীব্র আক্রমণ চালায় ইউক্রেন। এতে রাশিয়ার নিজস্ব তেল শোধন প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। একই সময়ে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য রপ্তানিতে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ায় বিশ্ববাজারে ডিজেলের সামগ্রিক সরবরাহ কমে যায়, যা দাম ও শোধনাগারের মুনাফাকে ঊর্ধ্বমুখী করে তুলেছে।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের দিন জার্মানি ও ফ্রান্সে প্রতি লিটার ডিজেলের মূল্য ছিল প্রায় ১.৮০ ইউরো বা ২.০৭ ডলার। সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে এসে সেই দাম দাঁড়িয়েছে প্রায় ২.৪০ ইউরোতে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রতি গ্যালন ডিজেল বিক্রি হয়েছিল প্রায় ৩.৭৫ ডলারে, যা গত ১১ সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো রেকর্ড ৬ ডলার ছাড়িয়ে যায়। এমনকি খোদ রাশিয়াতেও ডিজেলের দাম বেড়েছে। ২৭ ফেব্রুয়ারির আগে দেশটিতে প্রতি লিটার ডিজেল যেখানে ছিল প্রায় ৭৭ রুবল (৯১ সেন্ট), সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে তা বেড়ে ৮২ থেকে ৮৩ রুবলে ঠেকেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান বিরোধের নিষ্পত্তি না হওয়ায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি ডিজেল বাজারের সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে। কারণ, এই অচলাবস্থার কারণে কেবল অপরিশোধিত তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে না, বরং ডিজেল, জেট ফুয়েল ও এলএনজির মতো পরিশোধিত পণ্যের সংকটও তীব্র আকার ধারণ করছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের শোধনাগারগুলোতে উৎপাদিত ডিজেল ও গ্যাসঅয়েলের একটি বড় অংশ সমুদ্রপথে এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকার বাজারে পাঠানো হয়। ফলে হরমুজ প্রণালিতে যেকোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিশ্ববাজারে পরিশোধিত ডিজেলের প্রাপ্যতার ওপর।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) সেপ্টেম্বর মাসের প্রতিবেদন অনুসারে, গত আগস্ট মাসে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে ডিজেল ও গ্যাস-অয়েলের নিট রপ্তানি ছিল দৈনিক গড়ে ৩ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেল। হরমুজ প্রণালিতে পণ্য পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার কারণে এই রপ্তানির পরিমাণ যুদ্ধ-পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় মাত্র এক-চতুর্থাংশের সামান্য বেশি ছিল। গত ফেব্রুয়ারির তুলনায় আগস্টে উপসাগরীয় অঞ্চল ও রাশিয়া থেকে ডিজেল ও গ্যাস-অয়েলের সম্মিলিত নিট রপ্তানি দৈনিক ১৬ লাখ ব্যারেল হ্রাস পেয়েছে। অথচ গত ফেব্রুয়ারি মাসেও বিশ্বব্যাপী সমুদ্রপথে পেট্রোলিয়াম পণ্য বাণিজ্যের প্রায় ৪৫ শতাংশ আসত এই দুটি অঞ্চল থেকেই।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ডিজেল ও জেট ফুয়েলের মতো ডিস্টিলেট শোধন থেকে অর্জিত মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। অন্যদিকে গ্যাসোলিন শোধন থেকে মুনাফা বৃদ্ধির হার ছিল প্রায় ৬০ শতাংশ। আইইএ আরও জানিয়েছে, আগস্ট মাসে আটলান্টিক অঞ্চলে তেল শোধন থেকে রেকর্ড পরিমাণ মুনাফা অর্জনের পেছনে ডিজেল 'ক্র্যাক স্প্রেড' বা অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত ডিজেলের দামের ব্যবধান বৃদ্ধি পাওয়াটাই ছিল প্রধান প্রভাবক।