লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খুলনায় মেস থেকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে শিক্ষার্থীকে হত্যার অভিযোগ

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ব পাশের সীমানাপ্রাচীরের বাইরের রাস্তাটি ‘হল রোড’ নামে পরিচিত। এই রাস্তার পাশে ইসলামনগর এলাকায় অবস্থিত একটি চারতলা ভবন, যার পুরোটাই ছাত্রদের মেস। এখানেই বেসরকারি নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আজমুল হোসেন থাকতেন। গত শুক্রবার দিবাগত রাতে ওই মেসে চুরির অভিযোগ তুলে তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

নিহত আজমুলের বাবা কুতুব উদ্দিন জানান, শুক্রবার রাতে আজমুল তাঁকে ফোন করে জানায় যে, মেসে তার বিরুদ্ধে ভাত ও কিছু টাকা চুরির অভিযোগ তুলে এক লাখ টাকা দাবি করা হচ্ছে। আজমুলকে মারধর করে ছাদে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কুতুব উদ্দিন আরও বলেন, ‘আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ওখানে কে আছে? আজমুল বলল, ওরা সবাই আছে। আমি বললাম, দে তো। তখন ওরা বলছে, চাচা, আপনার ছেলে এমন করেছে, আপনি এক লাখ টাকা নিয়ে চলে আসেন।’ পরে খুলনায় এসে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ছেলের লাশ খুঁজে পান তিনি।

আজ রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মেসটিতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। চারতলা ভবনের প্রতিটি কক্ষ তালাবদ্ধ ছিল। করিডরে শিক্ষার্থীদের ব্যবহৃত জামাকাপড় ও জুতা-স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখা গেলেও বাসিন্দারা সবাই আত্মগোপনে রয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ এ বিষয়ে মুখ খুলতে রাজি নন, অধিকাংশই ‘আমি জানি না’ বলে এড়িয়ে যাচ্ছেন। পাশের গলির এক প্রবীণ জানান, এলাকায় স্থানীয়দের চেয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যাই বেশি, তাই ঝামেলায় জড়াতে কেউ চায় না।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বা অন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া কঠিন। তবে শনিবার রাতে স্থানীয় তিনজন ওই ভবন থেকে চিৎকারের শব্দ পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন এবং রাত একটার পর ছাত্রটিকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেখেছিলেন। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ও আশপাশের পরিস্থিতি বর্তমানে মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও মসজিদ গলি এলাকাটি নিরিবিলি। জড়িত ব্যক্তিরা পালিয়ে গেছেন বলে শোনা যাচ্ছে এবং তাঁদের বিচারের দাবিতে ক্যাম্পাসে আন্দোলন চলছে।

এ ঘটনায় নিহত আজমুলের বাবা মো. কুতুব উদ্দিন বাদী হয়ে খুলনার হরিণটানা থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন জানান, মামলায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক চার শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে আজ বেলা পৌনে দুইটা পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। নিহতের বাবা আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমার কোনো অভিযোগ নাই, আল্লাহর কাছে বিচার দিসি।’

দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ভবনটিতে সংবাদকর্মী ছাড়া কোনো শিক্ষার্থী বা বাসিন্দাকে পাওয়া যায়নি।

মামলায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক ৪ শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদ্রিদ ডার্বিতে মরিনহোর রিয়ালকে হারিয়ে জয়ের ধারায় অ্যাটলেটিকো

খুলনায় মেস থেকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে শিক্ষার্থীকে হত্যার অভিযোগ

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:১২:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ব পাশের সীমানাপ্রাচীরের বাইরের রাস্তাটি ‘হল রোড’ নামে পরিচিত। এই রাস্তার পাশে ইসলামনগর এলাকায় অবস্থিত একটি চারতলা ভবন, যার পুরোটাই ছাত্রদের মেস। এখানেই বেসরকারি নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আজমুল হোসেন থাকতেন। গত শুক্রবার দিবাগত রাতে ওই মেসে চুরির অভিযোগ তুলে তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

নিহত আজমুলের বাবা কুতুব উদ্দিন জানান, শুক্রবার রাতে আজমুল তাঁকে ফোন করে জানায় যে, মেসে তার বিরুদ্ধে ভাত ও কিছু টাকা চুরির অভিযোগ তুলে এক লাখ টাকা দাবি করা হচ্ছে। আজমুলকে মারধর করে ছাদে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কুতুব উদ্দিন আরও বলেন, ‘আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ওখানে কে আছে? আজমুল বলল, ওরা সবাই আছে। আমি বললাম, দে তো। তখন ওরা বলছে, চাচা, আপনার ছেলে এমন করেছে, আপনি এক লাখ টাকা নিয়ে চলে আসেন।’ পরে খুলনায় এসে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ছেলের লাশ খুঁজে পান তিনি।

আজ রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মেসটিতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। চারতলা ভবনের প্রতিটি কক্ষ তালাবদ্ধ ছিল। করিডরে শিক্ষার্থীদের ব্যবহৃত জামাকাপড় ও জুতা-স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখা গেলেও বাসিন্দারা সবাই আত্মগোপনে রয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ এ বিষয়ে মুখ খুলতে রাজি নন, অধিকাংশই ‘আমি জানি না’ বলে এড়িয়ে যাচ্ছেন। পাশের গলির এক প্রবীণ জানান, এলাকায় স্থানীয়দের চেয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যাই বেশি, তাই ঝামেলায় জড়াতে কেউ চায় না।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বা অন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া কঠিন। তবে শনিবার রাতে স্থানীয় তিনজন ওই ভবন থেকে চিৎকারের শব্দ পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন এবং রাত একটার পর ছাত্রটিকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেখেছিলেন। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ও আশপাশের পরিস্থিতি বর্তমানে মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও মসজিদ গলি এলাকাটি নিরিবিলি। জড়িত ব্যক্তিরা পালিয়ে গেছেন বলে শোনা যাচ্ছে এবং তাঁদের বিচারের দাবিতে ক্যাম্পাসে আন্দোলন চলছে।

এ ঘটনায় নিহত আজমুলের বাবা মো. কুতুব উদ্দিন বাদী হয়ে খুলনার হরিণটানা থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন জানান, মামলায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক চার শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে আজ বেলা পৌনে দুইটা পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। নিহতের বাবা আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমার কোনো অভিযোগ নাই, আল্লাহর কাছে বিচার দিসি।’

দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ভবনটিতে সংবাদকর্মী ছাড়া কোনো শিক্ষার্থী বা বাসিন্দাকে পাওয়া যায়নি।

মামলায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক ৪ শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন।