লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রোহিঙ্গা সংকটের বোঝা অনির্দিষ্টকাল বহন করবে না বাংলাদেশ

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে কার্যকর এবং নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, বাংলাদেশ আর কতদিন এই সংকটের বোঝা বহন করবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই এবং অনির্দিষ্টকাল তা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। বুধবার (৭ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত ‘অনিশ্চিত প্রত্যাবর্তন : প্রত্যাবাসনের পথে বাধা নিয়ে রোহিঙ্গাদের বক্তব্য’ শীর্ষক জাতীয় নীতি অবহিতকরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগ ও ক্রিমিনোলজি রিসার্চ ফোরাম যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের মূল সমাধান মিয়ানমারেই নিহিত রয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কেবল সমর্থনের মৌখিক প্রতিশ্রুতি না দিয়ে সংকট সমাধানে বাস্তব ও কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে তাদের এগিয়ে আসতে হবে। গবেষণার ফলাফলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারকে নিজেদের আবাসভূমি হিসেবে অস্বীকার করে না, তবে তারা এমন পরিস্থিতিতে ফিরে যেতে আগ্রহী নয়, যে কারণে তারা দেশটি থেকে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছিল।

প্রত্যাবাসনের রূপরেখা তৈরির ক্ষেত্রে আস্থা ও নিরাপত্তার বিষয়টিকে প্রধান ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রত্যাবাসন একটি আস্থার বিষয় এবং রোহিঙ্গারা দয়া নয়, বরং তাদের অধিকার ফিরে পেতে চায়। এ সময় তিনি ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া ভাষণের কথা স্মরণ করেন। ওই ভাষণে টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য বিশ্বাসযোগ্য রূপরেখা তৈরি, সহিংসতার অবসান, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং আন্তর্দেশীয় অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপসহ পাঁচটি জরুরি অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরা হয়েছিল।

কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য ক্রমবর্ধমান অপরাধ ও নিরাপত্তাহীনতার পরিস্থিতিকে ‘নতুন স্বাভাবিক’ হিসেবে মেনে নেওয়া যায় না বলেও মন্তব্য করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে গবেষক দলের পক্ষ থেকে কক্সবাজারের উখিয়ার ১৭টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৮১৬ জনের ওপর চালানো জরিপ এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অংশীজনের ৭২টি একান্ত সাক্ষাৎকারের ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষভাগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগ আয়োজিত রচনা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

জনপ্রিয় সংবাদ

সিইসির পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে বিরোধীদের বড় বিক্ষোভ, যোগ দিচ্ছেন মমতা

রোহিঙ্গা সংকটের বোঝা অনির্দিষ্টকাল বহন করবে না বাংলাদেশ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:০০:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে কার্যকর এবং নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, বাংলাদেশ আর কতদিন এই সংকটের বোঝা বহন করবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই এবং অনির্দিষ্টকাল তা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। বুধবার (৭ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত ‘অনিশ্চিত প্রত্যাবর্তন : প্রত্যাবাসনের পথে বাধা নিয়ে রোহিঙ্গাদের বক্তব্য’ শীর্ষক জাতীয় নীতি অবহিতকরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগ ও ক্রিমিনোলজি রিসার্চ ফোরাম যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের মূল সমাধান মিয়ানমারেই নিহিত রয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কেবল সমর্থনের মৌখিক প্রতিশ্রুতি না দিয়ে সংকট সমাধানে বাস্তব ও কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে তাদের এগিয়ে আসতে হবে। গবেষণার ফলাফলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারকে নিজেদের আবাসভূমি হিসেবে অস্বীকার করে না, তবে তারা এমন পরিস্থিতিতে ফিরে যেতে আগ্রহী নয়, যে কারণে তারা দেশটি থেকে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছিল।

প্রত্যাবাসনের রূপরেখা তৈরির ক্ষেত্রে আস্থা ও নিরাপত্তার বিষয়টিকে প্রধান ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রত্যাবাসন একটি আস্থার বিষয় এবং রোহিঙ্গারা দয়া নয়, বরং তাদের অধিকার ফিরে পেতে চায়। এ সময় তিনি ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া ভাষণের কথা স্মরণ করেন। ওই ভাষণে টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য বিশ্বাসযোগ্য রূপরেখা তৈরি, সহিংসতার অবসান, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং আন্তর্দেশীয় অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপসহ পাঁচটি জরুরি অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরা হয়েছিল।

কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য ক্রমবর্ধমান অপরাধ ও নিরাপত্তাহীনতার পরিস্থিতিকে ‘নতুন স্বাভাবিক’ হিসেবে মেনে নেওয়া যায় না বলেও মন্তব্য করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে গবেষক দলের পক্ষ থেকে কক্সবাজারের উখিয়ার ১৭টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৮১৬ জনের ওপর চালানো জরিপ এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অংশীজনের ৭২টি একান্ত সাক্ষাৎকারের ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানের শেষভাগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগ আয়োজিত রচনা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।