লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জনগণের আস্থা অর্জনই পুলিশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ: আইজিপি আলী হোসেন ফকির

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর পুরোপুরি বিশৃঙ্খল হয়ে পড়া এবং মনোবল হারিয়ে ফেলা পুলিশ বাহিনী ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তবে পুলিশের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো জনগণের আস্থা অর্জন করা। সম্প্রতি প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিবেদক নজরুল ইসলামের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, police সংস্কার, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পদায়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলেন।

আইজিপি মনে করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের চেয়ে বর্তমান নির্বাচিত সরকারের আমলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ এক বছরের তুলনায় বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের প্রথম এক বছরে খুন, ডাকাতি, দস্যুতা, দাঙ্গা, নারী ও শিশু নির্যাতন, অপহরণ, পুলিশ আক্রান্ত এবং দ্রুত বিচার আইনের মামলার মতো ১০ ধরনের অপরাধের মধ্যে ৮টিই কমেছে। তবে বর্তমান সরকারের সময়ে গত ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট মামলা হয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৪৮০টি, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১ লাখ ৮ হাজার6৭৮টি। অর্থাৎ মামলা বেড়েছে ১৪ হাজার ৮০২টি। আইজিপি এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন, মানুষ এখন থানায় মামলা করার বেশি সুযোগ পাচ্ছে এবং পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে উদ্ধার তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় মামলার সংখ্যা বেড়েছে।

রাজধানীর মিরপুর, ইসিবি চত্বর, আদাবর ও মোহাম্মদপুরে জমি ও বাড়ি দখলকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাগুলোকে পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বলে জানান আইজিপি। তিনি বলেন, মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলার মামলায় এ পর্যন্ত ১৯ জন এবং ইসিবি চত্বরের কাছে নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলার ঘটনায় ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ crusade আদাবরে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে হওয়া মামলায় ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যানের ঘটনাতেও জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আইজিপি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাবের অজহাতে কেউ জোরপূর্বক দখল বা হামলা করতে পারবে না। অন্যায়ের প্রতিকার করতে গিয়ে নতুন করে আইন ভাঙার কোনো সুযোগ নেই। দায়িত্ব পালনে কোনো পুলিশ সদস্যের অবহেলা প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনার বিষয়ে আইজিপি জানান, পুলিশ এসব অপরাধীদের বেশির ভাগের পরিচয় নিশ্চিত করতে পেরেছে এবং অনেককে ইতিমধ্যে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। যেমন কেরানীগঞ্জের এক মাদ্রাসায় বোমা বিস্ফোরণের পর আরও অনেকগুলো ঘটনা ঘটেছে, যেখানে পুলিশ ১৭-১৮ জনকে গ্রেপ্তার এবং অনেক বোমা ও বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে। এ বিষয়ে আইজিপি বলেন, বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। বিগত স্বৈরাচারী সরকারের ১৭ বছরের শাসন থেকে মুক্ত হওয়া দেশকে অকার্যকর করতে অনলাইনে ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তবে তাদের সেই সক্ষমতা নেই এবং অন্য বাহিনীর সহায়তায় পুলিশ মানবাধিকার রক্ষা করে এসব প্রতিরোধ করতে সক্ষম।

অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ এখন প্রতিক্রিয়াশীল পুলিশিংয়ের চেয়ে প্রতিরোধমূলক পুলিশিংয়ে জোর দিচ্ছে। কমিউনিটি পুলিশিংয়ের আওতায় জন-আস্থা অর্জনে দেশজুড়ে নানা সচেতনতামূলক সভা করা হচ্ছে। এর মধ্যে মাদক প্রতিরোধে ২ হাজার ৪৬৫টি, কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে ৪ হাজার ৫০৪টি, মব সহিংসতা প্রতিরোধে ৫৭৪টি, ইভ টিজিং প্রতিরোধে ৩০৮টি, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ৯৯১টি, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে ১২৮টি, নিখোঁজ শিশু উদ্ধারে ৭৯টি, সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে ৫৪৮টি এবং উগ্রবাদ প্রতিরোধে ৩৭৪টি সভা করা হয়েছে।

৫ আগস্টের পর পুরোপুরি ভেঙে পড়া বাহিনীর মনোবল এখন ফিরে এসেছে বলে দাবি করেন আইজিপি। তিনি জানান, পুড়িয়া যাওয়া থানাগুলোর বেশির ভাগই সংস্কার করে নতুন যানবাহনসহ কার্যক্রম সচল করা হয়েছে। লুট হওয়া অস্ত্রের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ২০০টি অস্ত্র এখনো উদ্ধার করা বাকি রয়েছে। এ ছাড়া বাহিনীতে গত ১৭ বছর ধরে চলা অভ্যন্তরীণ বৈষম্য দূর করা হয়েছে। তবে জনগণের আস্থা ফেরানোর ক্ষেত্রে পুলিশ এখনো ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ সফল হয়েছে এবং বাকিটা কাজের মাধ্যমে অর্জন করতে হবে।

থানাগুলোকে ‘জিরো কমপ্লেন’ বা অভিযোগশূন্য করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হচ্ছে জানিয়ে আইজিপি বলেন, ওসিতে জনবান্ধব হতে বলা হয়েছে। তবে ওসির মামলা যাচাইয়ের ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে তদারকি চালানো হচ্ছে। মডেল থানাগুলোতে আগত সেবাগ্রহীতাদের সন্তুষ্টি প্রকাশের জন্য মন্তব্য লিখে রাখার প্রথা চালু করা হয়েছে।

জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে পুলিশের বলপ্রয়োগ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে আইজিপি বলেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নিরপেক্ষ তদন্ত চলছে। গুম, অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে পুলিশের অন্তত দেড় শ কর্মকর্তাকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। অনেকে কারাগারে আছেন এবং অনেকে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। আইজিপি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৩৫ জন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে, যার মধ্যে ২৫ জনকে চাকরিচ্যুত, ২৭ জনকে অব্যাহতি, ২৭ জনকে বিভিন্ন শাস্তি, ৯ জনকে সাময়িক বরখাস্ত এবং ২২ জনকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

পুলিশে বদলি ও পদায়নে রাজনৈতিক তদবির বন্ধে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদবিরকারীদের নাম এই কমিটির কাছে পাঠানো হয় এবং গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে তথ্য নেওয়া হয়। ওএসপি ও তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাদের জন্য ফিটলিস্ট তৈরি করতে পৃথক কমিটি কাজ করছে। এ ছাড়া জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-কে আরও শক্তিশালী করতে ৫০০টি ওয়ার্কস্টেশনে সম্প্রসারণের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের আবাসনসংকট দূর করতে জেলা পর্যায়ে আবাসিক ভবন নির্মাণের প্রকল্প চলমান রয়েছে। আইজিপি আগামী sechs মাসের মধ্যে জনগণের আস্থা অর্জন, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

বরগুনায় বিশ্ব দৃষ্টি দিবস পালিত: বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা সেবা

জনগণের আস্থা অর্জনই পুলিশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ: আইজিপি আলী হোসেন ফকির

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৩৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর পুরোপুরি বিশৃঙ্খল হয়ে পড়া এবং মনোবল হারিয়ে ফেলা পুলিশ বাহিনী ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তবে পুলিশের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো জনগণের আস্থা অর্জন করা। সম্প্রতি প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিবেদক নজরুল ইসলামের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, police সংস্কার, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পদায়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলেন।

আইজিপি মনে করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের চেয়ে বর্তমান নির্বাচিত সরকারের আমলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ এক বছরের তুলনায় বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের প্রথম এক বছরে খুন, ডাকাতি, দস্যুতা, দাঙ্গা, নারী ও শিশু নির্যাতন, অপহরণ, পুলিশ আক্রান্ত এবং দ্রুত বিচার আইনের মামলার মতো ১০ ধরনের অপরাধের মধ্যে ৮টিই কমেছে। তবে বর্তমান সরকারের সময়ে গত ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট মামলা হয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৪৮০টি, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১ লাখ ৮ হাজার6৭৮টি। অর্থাৎ মামলা বেড়েছে ১৪ হাজার ৮০২টি। আইজিপি এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন, মানুষ এখন থানায় মামলা করার বেশি সুযোগ পাচ্ছে এবং পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে উদ্ধার তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় মামলার সংখ্যা বেড়েছে।

রাজধানীর মিরপুর, ইসিবি চত্বর, আদাবর ও মোহাম্মদপুরে জমি ও বাড়ি দখলকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাগুলোকে পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বলে জানান আইজিপি। তিনি বলেন, মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলার মামলায় এ পর্যন্ত ১৯ জন এবং ইসিবি চত্বরের কাছে নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলার ঘটনায় ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ crusade আদাবরে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে হওয়া মামলায় ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যানের ঘটনাতেও জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আইজিপি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাবের অজহাতে কেউ জোরপূর্বক দখল বা হামলা করতে পারবে না। অন্যায়ের প্রতিকার করতে গিয়ে নতুন করে আইন ভাঙার কোনো সুযোগ নেই। দায়িত্ব পালনে কোনো পুলিশ সদস্যের অবহেলা প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনার বিষয়ে আইজিপি জানান, পুলিশ এসব অপরাধীদের বেশির ভাগের পরিচয় নিশ্চিত করতে পেরেছে এবং অনেককে ইতিমধ্যে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। যেমন কেরানীগঞ্জের এক মাদ্রাসায় বোমা বিস্ফোরণের পর আরও অনেকগুলো ঘটনা ঘটেছে, যেখানে পুলিশ ১৭-১৮ জনকে গ্রেপ্তার এবং অনেক বোমা ও বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে। এ বিষয়ে আইজিপি বলেন, বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। বিগত স্বৈরাচারী সরকারের ১৭ বছরের শাসন থেকে মুক্ত হওয়া দেশকে অকার্যকর করতে অনলাইনে ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তবে তাদের সেই সক্ষমতা নেই এবং অন্য বাহিনীর সহায়তায় পুলিশ মানবাধিকার রক্ষা করে এসব প্রতিরোধ করতে সক্ষম।

অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ এখন প্রতিক্রিয়াশীল পুলিশিংয়ের চেয়ে প্রতিরোধমূলক পুলিশিংয়ে জোর দিচ্ছে। কমিউনিটি পুলিশিংয়ের আওতায় জন-আস্থা অর্জনে দেশজুড়ে নানা সচেতনতামূলক সভা করা হচ্ছে। এর মধ্যে মাদক প্রতিরোধে ২ হাজার ৪৬৫টি, কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে ৪ হাজার ৫০৪টি, মব সহিংসতা প্রতিরোধে ৫৭৪টি, ইভ টিজিং প্রতিরোধে ৩০৮টি, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ৯৯১টি, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে ১২৮টি, নিখোঁজ শিশু উদ্ধারে ৭৯টি, সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে ৫৪৮টি এবং উগ্রবাদ প্রতিরোধে ৩৭৪টি সভা করা হয়েছে।

৫ আগস্টের পর পুরোপুরি ভেঙে পড়া বাহিনীর মনোবল এখন ফিরে এসেছে বলে দাবি করেন আইজিপি। তিনি জানান, পুড়িয়া যাওয়া থানাগুলোর বেশির ভাগই সংস্কার করে নতুন যানবাহনসহ কার্যক্রম সচল করা হয়েছে। লুট হওয়া অস্ত্রের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ২০০টি অস্ত্র এখনো উদ্ধার করা বাকি রয়েছে। এ ছাড়া বাহিনীতে গত ১৭ বছর ধরে চলা অভ্যন্তরীণ বৈষম্য দূর করা হয়েছে। তবে জনগণের আস্থা ফেরানোর ক্ষেত্রে পুলিশ এখনো ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ সফল হয়েছে এবং বাকিটা কাজের মাধ্যমে অর্জন করতে হবে।

থানাগুলোকে ‘জিরো কমপ্লেন’ বা অভিযোগশূন্য করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হচ্ছে জানিয়ে আইজিপি বলেন, ওসিতে জনবান্ধব হতে বলা হয়েছে। তবে ওসির মামলা যাচাইয়ের ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে তদারকি চালানো হচ্ছে। মডেল থানাগুলোতে আগত সেবাগ্রহীতাদের সন্তুষ্টি প্রকাশের জন্য মন্তব্য লিখে রাখার প্রথা চালু করা হয়েছে।

জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে পুলিশের বলপ্রয়োগ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে আইজিপি বলেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নিরপেক্ষ তদন্ত চলছে। গুম, অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে পুলিশের অন্তত দেড় শ কর্মকর্তাকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। অনেকে কারাগারে আছেন এবং অনেকে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। আইজিপি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৩৫ জন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে, যার মধ্যে ২৫ জনকে চাকরিচ্যুত, ২৭ জনকে অব্যাহতি, ২৭ জনকে বিভিন্ন শাস্তি, ৯ জনকে সাময়িক বরখাস্ত এবং ২২ জনকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

পুলিশে বদলি ও পদায়নে রাজনৈতিক তদবির বন্ধে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদবিরকারীদের নাম এই কমিটির কাছে পাঠানো হয় এবং গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে তথ্য নেওয়া হয়। ওএসপি ও তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাদের জন্য ফিটলিস্ট তৈরি করতে পৃথক কমিটি কাজ করছে। এ ছাড়া জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-কে আরও শক্তিশালী করতে ৫০০টি ওয়ার্কস্টেশনে সম্প্রসারণের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের আবাসনসংকট দূর করতে জেলা পর্যায়ে আবাসিক ভবন নির্মাণের প্রকল্প চলমান রয়েছে। আইজিপি আগামী sechs মাসের মধ্যে জনগণের আস্থা অর্জন, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।