লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৪:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জন নিয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, তাকে নিছক ‘গুঞ্জন’ বলে অভিহিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বা এ নিয়ে সরকারের কোনো বক্তব্য নেই।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে যে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, তা কেবলই গুঞ্জন। এটি যদি বাস্তবে রূপ নেয়, তবেই সরকার তা দেখবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, স্বাস্থ্যগত বা অন্য কোনো কারণে রাষ্ট্রপতি যদি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিতে চান, তবে সংবিধান অনুযায়ী সেই সুযোগ রয়েছে। তবে রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই বলে তিনি জানান।

বিদেশে থাকাকালীন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোনো ফোনালাপ হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এ বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই। তবে ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সাহাবুদ্দিন বলেছিলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে তিনি পদত্যাগ করতে চান। সেই সময় তিনি আরও বলেন, মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আচরণে তিনি অপমানিত বোধ করেছেন।

সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি যদি পদত্যাগ করতে চান, তবে নিয়ম অনুযায়ী তাকে স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে হবে। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদত্যাগ, মৃত্যু বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হয়। সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ক্ষমতাসীন বিএনপির সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত ব্যক্তিরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার কথা। তিনি আরও বলেন, তিনি নিজেও এসব খবর সংবাদমাধ্যমে দেখছেন, তবে সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা বা আলোচনা নেই।

উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়া এই রাষ্ট্রপতির মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে রাষ্ট্রপতির অপসারণের বিষয়টি রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে সাহাবুদ্দিন নিজে পদত্যাগের ইঙ্গিত দিলেও অন্তর্বর্তী সরকার বা পরবর্তী রাজনৈতিক দলগুলো এ নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকায় তিন দিনের সফরে মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গর

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জন নিয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন

প্রকাশিত হয়েছে: ১১:০১:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, তাকে নিছক ‘গুঞ্জন’ বলে অভিহিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বা এ নিয়ে সরকারের কোনো বক্তব্য নেই।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে যে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, তা কেবলই গুঞ্জন। এটি যদি বাস্তবে রূপ নেয়, তবেই সরকার তা দেখবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, স্বাস্থ্যগত বা অন্য কোনো কারণে রাষ্ট্রপতি যদি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিতে চান, তবে সংবিধান অনুযায়ী সেই সুযোগ রয়েছে। তবে রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই বলে তিনি জানান।

বিদেশে থাকাকালীন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোনো ফোনালাপ হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এ বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই। তবে ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সাহাবুদ্দিন বলেছিলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে তিনি পদত্যাগ করতে চান। সেই সময় তিনি আরও বলেন, মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আচরণে তিনি অপমানিত বোধ করেছেন।

সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি যদি পদত্যাগ করতে চান, তবে নিয়ম অনুযায়ী তাকে স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে হবে। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদত্যাগ, মৃত্যু বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হয়। সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ক্ষমতাসীন বিএনপির সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত ব্যক্তিরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার কথা। তিনি আরও বলেন, তিনি নিজেও এসব খবর সংবাদমাধ্যমে দেখছেন, তবে সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা বা আলোচনা নেই।

উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়া এই রাষ্ট্রপতির মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে রাষ্ট্রপতির অপসারণের বিষয়টি রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে সাহাবুদ্দিন নিজে পদত্যাগের ইঙ্গিত দিলেও অন্তর্বর্তী সরকার বা পরবর্তী রাজনৈতিক দলগুলো এ নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।