লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেলে দেশে ফিরতে প্রস্তুত সাকিব, আইনি লড়াইয়েও রাজি

বিসিবি থেকে অনাপত্তি পত্র (এনওসি) নিয়ে বর্তমানে শ্রীলঙ্কার ফ্র্যাঞ্চাইজি লীগ এলপিএলে খেলছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। বুধবার সেখান থেকেই ভার্চুয়ালি আওয়ামী লীগ সভাপতির এক সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন তিনি। এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সাকিব জানান, সরকার যদি তার নিরাপত্তার নিশ্চয়তা প্রদান করে, তবে তিনি দীর্ঘ দুই বছরের নির্বাসিত জীবনের ইতি টেনে দেশে ফিরতে আগ্রহী। হত্যা মামলাসহ তার বিরুদ্ধে থাকা সব অভিযোগের আইনি মোকাবিলায় তিনি প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন।

রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকিব দাবি করেন, তিনি কোনো অন্যায় করেননি এবং আদালতে গিয়ে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নিজের অবস্থান প্রমাণ করতে চান। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের কোনো সিদ্ধান্ত তিনি নেননি। দেশে ফিরে একটি বিদায়ী সিরিজ খেলার পাশাপাশি ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করাই তার লক্ষ্য। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে সাকিব যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।

সাকিব বলেন, সরকার যদি তাকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয় তবে তিনি সানন্দে দেশে ফিরবেন। এছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণার প্রেক্ষিতে সাকিব জানান, তিনি যত দ্রুত সম্ভব ফিরতে চান। তবে তা সম্ভব না হলে শেখ হাসিনার সঙ্গেই দেশে ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে তার। তিনি বলেন, 'ক্যাপ্টেন যা বলেন আমরা সেটাই অনুসরণ করি। আমার মনে হয় তারাই ভালো সিদ্ধান্ত নেবেন, আর আমরা তাদের নির্দেশনা অনুসরণ করবো।'

সাকিব আরও জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় তিনি আইনজীবীর মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র, আইন ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং পুলিশের কাছে 'বানোয়াট' মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করেছিলেন, কিন্তু কোনো উত্তর পাননি। এছাড়া তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গেও কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। রয়টার্সের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও এ বিষয়ে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

তদন্তের নামে গত দেড় বছর ধরে তার ব্যাংক হিসাব জব্দ রাখার বিষয়টিও তুলে ধরেন এই ক্রিকেটার। সাকিবের ভাষ্যমতে, গত ১০ বছরে দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ করদাতা হওয়া সত্ত্বেও তাকে এই পরিস্থিতির শিকার হতে হয়েছে। এছাড়া গত দুই বছর ধরে তিনি তার মা-বাবার সঙ্গেও দেখা করতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেন।

এদিকে সাকিবের দেশে ফেরার বিষয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তিনি জানান, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সাকিব আল হাসানের স্বাভাবিকভাবে ফেরার সুযোগ নেই। আমিনুল হক বলেন, 'আমরা অনেক নমনীয়, অনেক সহনশীলভাবেই বিষয়টিকে দেখছিলাম। এর পরে আর মনে হয় না যে ওইভাবে চিন্তা করার সুযোগ আছে।' তিনি আরও যোগ করেন, সাকিব যদি দেশে ফেরেন, তবে তাকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই আসতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের পাশাপাশি নৈতিক চরিত্র গঠনে প্রয়োজন জাতীয় অঙ্গীকার

নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেলে দেশে ফিরতে প্রস্তুত সাকিব, আইনি লড়াইয়েও রাজি

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:৩১:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

বিসিবি থেকে অনাপত্তি পত্র (এনওসি) নিয়ে বর্তমানে শ্রীলঙ্কার ফ্র্যাঞ্চাইজি লীগ এলপিএলে খেলছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। বুধবার সেখান থেকেই ভার্চুয়ালি আওয়ামী লীগ সভাপতির এক সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন তিনি। এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সাকিব জানান, সরকার যদি তার নিরাপত্তার নিশ্চয়তা প্রদান করে, তবে তিনি দীর্ঘ দুই বছরের নির্বাসিত জীবনের ইতি টেনে দেশে ফিরতে আগ্রহী। হত্যা মামলাসহ তার বিরুদ্ধে থাকা সব অভিযোগের আইনি মোকাবিলায় তিনি প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন।

রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকিব দাবি করেন, তিনি কোনো অন্যায় করেননি এবং আদালতে গিয়ে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নিজের অবস্থান প্রমাণ করতে চান। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের কোনো সিদ্ধান্ত তিনি নেননি। দেশে ফিরে একটি বিদায়ী সিরিজ খেলার পাশাপাশি ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করাই তার লক্ষ্য। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে সাকিব যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।

সাকিব বলেন, সরকার যদি তাকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয় তবে তিনি সানন্দে দেশে ফিরবেন। এছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণার প্রেক্ষিতে সাকিব জানান, তিনি যত দ্রুত সম্ভব ফিরতে চান। তবে তা সম্ভব না হলে শেখ হাসিনার সঙ্গেই দেশে ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে তার। তিনি বলেন, 'ক্যাপ্টেন যা বলেন আমরা সেটাই অনুসরণ করি। আমার মনে হয় তারাই ভালো সিদ্ধান্ত নেবেন, আর আমরা তাদের নির্দেশনা অনুসরণ করবো।'

সাকিব আরও জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় তিনি আইনজীবীর মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র, আইন ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং পুলিশের কাছে 'বানোয়াট' মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করেছিলেন, কিন্তু কোনো উত্তর পাননি। এছাড়া তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গেও কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। রয়টার্সের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও এ বিষয়ে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

তদন্তের নামে গত দেড় বছর ধরে তার ব্যাংক হিসাব জব্দ রাখার বিষয়টিও তুলে ধরেন এই ক্রিকেটার। সাকিবের ভাষ্যমতে, গত ১০ বছরে দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ করদাতা হওয়া সত্ত্বেও তাকে এই পরিস্থিতির শিকার হতে হয়েছে। এছাড়া গত দুই বছর ধরে তিনি তার মা-বাবার সঙ্গেও দেখা করতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেন।

এদিকে সাকিবের দেশে ফেরার বিষয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তিনি জানান, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সাকিব আল হাসানের স্বাভাবিকভাবে ফেরার সুযোগ নেই। আমিনুল হক বলেন, 'আমরা অনেক নমনীয়, অনেক সহনশীলভাবেই বিষয়টিকে দেখছিলাম। এর পরে আর মনে হয় না যে ওইভাবে চিন্তা করার সুযোগ আছে।' তিনি আরও যোগ করেন, সাকিব যদি দেশে ফেরেন, তবে তাকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই আসতে হবে।