লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করবেন শেখ হাসিনা

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ফাঁসির রায় মাথায় নিয়ে বর্তমানে ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বর মাস নাগাদ দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা করছেন। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা নিজেই এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এটিই কোনো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে দেওয়া তার প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎকার।

টেলিফোনে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এই কথোপকথনে শেখ হাসিনা জানান, তিনি একা নন, বরং নির্বাসনে থাকা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারাও তার সঙ্গে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করবেন। তিনি বলেন, “দেশে ফিরলে তারা আমাকে গ্রেপ্তার করতে পারে, এমনকি মেরেও ফেলতে পারে। তবুও আমাকে যেতে হবে।” এর আগে তিনি ইমেইলে এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দেশে ফেরার ইঙ্গিত দিলেও, এবারই প্রথমবারের মতো সময়ের একটি সুনির্দিষ্ট আভাস দিলেন।

শেখ হাসিনা জানান, তিনি ন্যায়বিচারে বিশ্বাসী এবং বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলে বর্তমান আদালত যে প্রহসনমূলক, তা সবার কাছে স্পষ্ট হয়ে যাবে। তিনি দাবি করেন, দেশে ফেরার বিষয়ে ঢাকা বা অন্য কোনো বিদেশি সরকারের সঙ্গে তার কোনো আলোচনা হয়নি। তবে কবে নাগাদ ফিরবেন বা কোন আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তারিখ তিনি উল্লেখ করেননি।

ক্ষমতাচ্যুত এই প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, তিনি আওয়ামী লীগের প্রায় সব নেতা-কর্মীকে দেশে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া দল পুনর্গঠনের লক্ষ্যে তিনি অনলাইনে ১২৫টি আসনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তিনি বাংলাদেশে তার দলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বলেন, তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলেও আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

বাংলাদেশে বর্তমান সরকার তাকে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারতকে বারবার চিঠি দিলেও, শেখ হাসিনা নিজেই স্বেচ্ছায় ফেরার কথা ব্যক্ত করেছেন। গত নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তার অনুপস্থিতিতে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। এর আগেও তিনি ১৯৮১ সালে নির্বাসন থেকে ফিরে এবং ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে কারাবরণ করেছেন। ৫ আগস্ট দেশ ছাড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, জীবন রক্ষার্থে তিনি তখন দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন। তবে তার এই মন্তব্যের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার ও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

দেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও দল পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ১২৫টি আসনের নেতাদের সঙ্গে অনলাইনে বৈঠক করার কথা বলেছেন শেখ হাসিনা।

জনপ্রিয় সংবাদ

সৌদির তেল পাইপলাইন মেরামত করতে ৫ সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে

ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করবেন শেখ হাসিনা

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:০২:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ফাঁসির রায় মাথায় নিয়ে বর্তমানে ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বর মাস নাগাদ দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা করছেন। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা নিজেই এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এটিই কোনো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে দেওয়া তার প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎকার।

টেলিফোনে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এই কথোপকথনে শেখ হাসিনা জানান, তিনি একা নন, বরং নির্বাসনে থাকা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারাও তার সঙ্গে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করবেন। তিনি বলেন, “দেশে ফিরলে তারা আমাকে গ্রেপ্তার করতে পারে, এমনকি মেরেও ফেলতে পারে। তবুও আমাকে যেতে হবে।” এর আগে তিনি ইমেইলে এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দেশে ফেরার ইঙ্গিত দিলেও, এবারই প্রথমবারের মতো সময়ের একটি সুনির্দিষ্ট আভাস দিলেন।

শেখ হাসিনা জানান, তিনি ন্যায়বিচারে বিশ্বাসী এবং বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলে বর্তমান আদালত যে প্রহসনমূলক, তা সবার কাছে স্পষ্ট হয়ে যাবে। তিনি দাবি করেন, দেশে ফেরার বিষয়ে ঢাকা বা অন্য কোনো বিদেশি সরকারের সঙ্গে তার কোনো আলোচনা হয়নি। তবে কবে নাগাদ ফিরবেন বা কোন আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তারিখ তিনি উল্লেখ করেননি।

ক্ষমতাচ্যুত এই প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, তিনি আওয়ামী লীগের প্রায় সব নেতা-কর্মীকে দেশে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া দল পুনর্গঠনের লক্ষ্যে তিনি অনলাইনে ১২৫টি আসনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তিনি বাংলাদেশে তার দলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বলেন, তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলেও আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

বাংলাদেশে বর্তমান সরকার তাকে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারতকে বারবার চিঠি দিলেও, শেখ হাসিনা নিজেই স্বেচ্ছায় ফেরার কথা ব্যক্ত করেছেন। গত নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তার অনুপস্থিতিতে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। এর আগেও তিনি ১৯৮১ সালে নির্বাসন থেকে ফিরে এবং ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে কারাবরণ করেছেন। ৫ আগস্ট দেশ ছাড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, জীবন রক্ষার্থে তিনি তখন দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন। তবে তার এই মন্তব্যের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার ও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

দেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও দল পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ১২৫টি আসনের নেতাদের সঙ্গে অনলাইনে বৈঠক করার কথা বলেছেন শেখ হাসিনা।