লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৬:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা কারখানায় বিষাক্ত গ্যাসে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে একটি জাহাজভাঙা কারখানায় স্ক্র্যাপ জাহাজের সিলিন্ডার থেকে ছড়িয়ে পড়া বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে ৯ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে ভাটিয়ারী ইউনিয়নের স্টেশন রোড এলাকায় অবস্থিত ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ড ও রিসাইক্লিং কারখানায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতদের মধ্যে চারজনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন—সানি জলদাস, পলাশ জলদাস এবং দুই ভাই মনসুর আলী ও নাসির উদ্দিন। তারা সবাই স্থানীয় ভাটিয়ারী এলাকার বাসিন্দা। দুর্ঘটনার পর জাহাজের ভেতরে শ্রমিকদের মরদেহ পড়ে থাকার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ হয়ে কারখানায় প্রবেশ করে ভাঙচুর চালান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকালে হঠাৎ কারখানার ভেতর থেকে শ্রমিকদের চিৎকার শুনতে পাওয়া যায়। এরপর স্থানীয়রা সেখানে গিয়ে অসুস্থ শ্রমিকদের গাড়িতে করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেখেন। কারখানা মালিকের প্রতিনিধি মো. মহিউদ্দিন জানান, তিনি ঘটনার সময় কারখানার বাইরে ছিলেন। তবে কারখানা থেকে তাকে জানানো হয়েছে যে, অসতর্কতাবশত জাহাজে থাকা ছয় থেকে আটজন কর্মী বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ইশতিয়াক রহমান জানিয়েছেন, ওই কারখানা থেকে দুই দফায় মোট সাতজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাদের মধ্যে ছয়জনকে মৃত অবস্থায় আনা হয় এবং বর্তমানে তাদের লাশ মর্গে রাখা হয়েছে। বাকি একজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলমগীর জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাস্থলে আরও দুজনের লাশ রয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম জানান, সকালে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। তিনি জানান, ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে যে জাহাজটি কাটা হচ্ছিল, সেটি মূলত একটি এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) বহনকারী জাহাজ ছিল। নিয়ম অনুযায়ী, এ ধরনের জাহাজ কাটার আগে সম্পূর্ণ গ্যাসমুক্ত করতে হয়। এসব জাহাজের ট্যাংকে ফ্লোরিন, কার্বন মনোক্সাইড ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের মতো মারাত্মক গ্যাস জমে থাকতে পারে। কারখানা কর্তৃপক্ষ ট্যাংকটি গ্যাসমুক্ত না করেই কাটার কাজ শুরু করার কারণে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

গোপন চুক্তিতে বিয়ের পিঁড়িতে রোনালদো ও জর্জিনা

সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা কারখানায় বিষাক্ত গ্যাসে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু

প্রকাশিত হয়েছে: ১০:১৪:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে একটি জাহাজভাঙা কারখানায় স্ক্র্যাপ জাহাজের সিলিন্ডার থেকে ছড়িয়ে পড়া বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে ৯ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে ভাটিয়ারী ইউনিয়নের স্টেশন রোড এলাকায় অবস্থিত ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ড ও রিসাইক্লিং কারখানায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতদের মধ্যে চারজনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন—সানি জলদাস, পলাশ জলদাস এবং দুই ভাই মনসুর আলী ও নাসির উদ্দিন। তারা সবাই স্থানীয় ভাটিয়ারী এলাকার বাসিন্দা। দুর্ঘটনার পর জাহাজের ভেতরে শ্রমিকদের মরদেহ পড়ে থাকার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ হয়ে কারখানায় প্রবেশ করে ভাঙচুর চালান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকালে হঠাৎ কারখানার ভেতর থেকে শ্রমিকদের চিৎকার শুনতে পাওয়া যায়। এরপর স্থানীয়রা সেখানে গিয়ে অসুস্থ শ্রমিকদের গাড়িতে করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেখেন। কারখানা মালিকের প্রতিনিধি মো. মহিউদ্দিন জানান, তিনি ঘটনার সময় কারখানার বাইরে ছিলেন। তবে কারখানা থেকে তাকে জানানো হয়েছে যে, অসতর্কতাবশত জাহাজে থাকা ছয় থেকে আটজন কর্মী বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ইশতিয়াক রহমান জানিয়েছেন, ওই কারখানা থেকে দুই দফায় মোট সাতজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাদের মধ্যে ছয়জনকে মৃত অবস্থায় আনা হয় এবং বর্তমানে তাদের লাশ মর্গে রাখা হয়েছে। বাকি একজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলমগীর জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাস্থলে আরও দুজনের লাশ রয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম জানান, সকালে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। তিনি জানান, ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে যে জাহাজটি কাটা হচ্ছিল, সেটি মূলত একটি এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) বহনকারী জাহাজ ছিল। নিয়ম অনুযায়ী, এ ধরনের জাহাজ কাটার আগে সম্পূর্ণ গ্যাসমুক্ত করতে হয়। এসব জাহাজের ট্যাংকে ফ্লোরিন, কার্বন মনোক্সাইড ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের মতো মারাত্মক গ্যাস জমে থাকতে পারে। কারখানা কর্তৃপক্ষ ট্যাংকটি গ্যাসমুক্ত না করেই কাটার কাজ শুরু করার কারণে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।