লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আদালতে হেলমেট ছুড়ে হট্টগোল, ১ দিনের রিমান্ডে সাবেক এমপি আখতারুজ্জামান

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক সংসদ সদস্য এবং জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে ১ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। আজ শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীরের আদালত এই আদেশ দেন। তবে আদালতে হাজির করার সময় হেলমেট ছুড়ে ফেলা, স্লোগান দেওয়া এবং শুনানি চলাকালে বিচারককে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন তিনি।

এর আগে গত শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্টের ডিওএইচএসের বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি-সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে ‘আমি কিন্তু পিটাবো ধইরা’, ‘ঘাড় ধরে বের করে দিবো’ বলে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে এই মামলা করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাজেদুল ইসলাম শনিবার তাঁকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জামিন চেয়ে আবেদন করেন।

শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার কিছু পরে আখতারুজ্জামানকে প্রিজন ভ্যানে করে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের সামনে আনা হয়। এ সময় প্রিজন ভ্যানের ভেতর থেকেই সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রের মিস ম্যানেজমেন্ট আর চলতে পারে না। এভাবে রাষ্ট্র চলতে পারে না। এ রকম অবস্থায় কোনো সরকার টিকে থাকতে পারে না।’ এ সময় একজন পুলিশ সদস্য প্রিজন ভ্যানে প্রবেশ করে তাঁর হাত ধরে নামানোর চেষ্টা করলে আখতারুজ্জামান উচ্চস্বরে বলেন, ‘হাত ধরবেন না, সাবধান, ডোন্ট টাচ মি, যা বলবেন মুখে বলবেন।’

প্রিজন ভ্যানের ভেতরেই পুলিশ সদস্যরা আখতারুজ্জামানকে হাতকড়া ও মাথায় হেলমেট পরিয়েছিলেন। তবে ভ্যানের দরজা দিয়ে বের হওয়ার সময় তিনি মাথা থেকে হেলমেট খুলে ছুড়ে ফেলেন এবং বলতে থাকেন, ‘আমি আওয়ামী লীগের না।’ এরপর মাথায় হেলমেট ছাড়াই তাঁকে আদালতে নেওয়া হয়। এজলাসে ওঠার সময় তিনি ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ ও ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ বলে স্লোগান দেন। অন্যদিকে আদালতের বাইরে উপস্থিত জামায়াতের নেতা-কর্মীরা ‘নারায়ে তাকবির’ স্লোগান দিতে থাকেন।

পুলিশের কড়া পাহারায় লিফটে করে তাঁকে আদালত ভবনের ৮ম তলায় নিয়ে যাওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে শুনানি চলাকালে কোনো সাংবাদিককে এজলাসে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। শুনানির বিষয়ে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, আখতারুজ্জামান আদালতে আসার পর থেকেই পুলিশের ওপর ক্ষিপ্ত হন এবং পুলিশ ও সাংবাদিকসহ সবাইকে আদালত কক্ষ থেকে বের করে দিতে বলেন। তিনি আদালত ও প্রসিকিউশন পক্ষের প্রতি বিরূপ ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেন।

পিপি আরও দাবি করেন, শুনানি চলাকালে আখতারুজ্জামান বিচারককে হেয় করে বলেন যে রায় দেওয়ার ক্ষমতা বিচারকের নেই। তখন আদালত তাঁকে শান্ত হতে বলে জানান যে প্রতিবাদ করা তাঁর অধিকার, তবে প্রতিবাদের ভাষা সংযত হতে হবে এবং কাউকে আঘাত করা যাবে না। আদালতের এই জবাবে আখতারুজ্জামান আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন এবং বলেন যে তিনি এভাবেই চলবেন, কে কী করে তা দেখে নেবেন। পিপি ওমর ফারুক ফারুকীর মতে, আখতারুজ্জামান আদালতকে হেয় করেছেন এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন।

তবে আখতারুজ্জামানের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেওয়া আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, আখতারুজ্জামান আদালতে অত্যন্ত সুন্দর বক্তব্য দিয়েছেন এবং কাউকে হেয়প্রতিপন্ন করেননি। বরং পিপি নিজেই আখতারুজ্জামানকে হেয় করে বক্তব্য দিয়েছেন। এই মামলাটিকে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং রাজনৈতিকভাবে হেয় করার চেষ্টা দাবি করে তিনি বলেন, এটি একটি জামিনযোগ্য মামলা।

শুনানি শেষে আদালত ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করার পর আখতারুজ্জামানকে পুনরায় কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে নিচে নামানো হয়। এ সময় তাঁর মাথায় হেলমেট ও হাতে হাতকড়া পরানো ছিল। কাঠগড়ায় হাতকড়া খুলে দেওয়া হলেও বাইরে কেন হেলমেট ও হাতকড়া পরানো হলো—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে আখতারুজ্জামান বলেন, পুলিশ জোর করে তাঁকে এগুলো পরিয়েছে।

আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের উদ্দেশে আখতারুজ্জামান বলেন, ‘রাষ্ট্রকে সঠিক পথে চালানোর জন্য, মানুষের অধিকার বাস্তবায়ন করার জন্য, আমাদের নতুন করে সংগ্রামে নামতে হবে। ইনশা আল্লাহ জামায়াতে ইসলামী সেই সংগ্রাম অব্যাহত রাখবে।’ উল্লেখ্য, কিশোরগঞ্জ-২ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে পরপর দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন আখতারুজ্জামান। তিনি কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতিও ছিলেন। দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ২০২২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তাঁকে পঞ্চমবারের মতো বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর গত ১৩ ডিসেম্বর তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। সম্প্রতি জামায়াতের সমালোচনা করে এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করে অতীতে দেওয়া তাঁর কিছু বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সৌদির আসির ও নাজরানে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা

আদালতে হেলমেট ছুড়ে হট্টগোল, ১ দিনের রিমান্ডে সাবেক এমপি আখতারুজ্জামান

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:৩৪:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক সংসদ সদস্য এবং জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে ১ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। আজ শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীরের আদালত এই আদেশ দেন। তবে আদালতে হাজির করার সময় হেলমেট ছুড়ে ফেলা, স্লোগান দেওয়া এবং শুনানি চলাকালে বিচারককে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন তিনি।

এর আগে গত শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্টের ডিওএইচএসের বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি-সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে ‘আমি কিন্তু পিটাবো ধইরা’, ‘ঘাড় ধরে বের করে দিবো’ বলে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে এই মামলা করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাজেদুল ইসলাম শনিবার তাঁকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জামিন চেয়ে আবেদন করেন।

শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার কিছু পরে আখতারুজ্জামানকে প্রিজন ভ্যানে করে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের সামনে আনা হয়। এ সময় প্রিজন ভ্যানের ভেতর থেকেই সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রের মিস ম্যানেজমেন্ট আর চলতে পারে না। এভাবে রাষ্ট্র চলতে পারে না। এ রকম অবস্থায় কোনো সরকার টিকে থাকতে পারে না।’ এ সময় একজন পুলিশ সদস্য প্রিজন ভ্যানে প্রবেশ করে তাঁর হাত ধরে নামানোর চেষ্টা করলে আখতারুজ্জামান উচ্চস্বরে বলেন, ‘হাত ধরবেন না, সাবধান, ডোন্ট টাচ মি, যা বলবেন মুখে বলবেন।’

প্রিজন ভ্যানের ভেতরেই পুলিশ সদস্যরা আখতারুজ্জামানকে হাতকড়া ও মাথায় হেলমেট পরিয়েছিলেন। তবে ভ্যানের দরজা দিয়ে বের হওয়ার সময় তিনি মাথা থেকে হেলমেট খুলে ছুড়ে ফেলেন এবং বলতে থাকেন, ‘আমি আওয়ামী লীগের না।’ এরপর মাথায় হেলমেট ছাড়াই তাঁকে আদালতে নেওয়া হয়। এজলাসে ওঠার সময় তিনি ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ ও ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ বলে স্লোগান দেন। অন্যদিকে আদালতের বাইরে উপস্থিত জামায়াতের নেতা-কর্মীরা ‘নারায়ে তাকবির’ স্লোগান দিতে থাকেন।

পুলিশের কড়া পাহারায় লিফটে করে তাঁকে আদালত ভবনের ৮ম তলায় নিয়ে যাওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে শুনানি চলাকালে কোনো সাংবাদিককে এজলাসে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। শুনানির বিষয়ে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, আখতারুজ্জামান আদালতে আসার পর থেকেই পুলিশের ওপর ক্ষিপ্ত হন এবং পুলিশ ও সাংবাদিকসহ সবাইকে আদালত কক্ষ থেকে বের করে দিতে বলেন। তিনি আদালত ও প্রসিকিউশন পক্ষের প্রতি বিরূপ ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেন।

পিপি আরও দাবি করেন, শুনানি চলাকালে আখতারুজ্জামান বিচারককে হেয় করে বলেন যে রায় দেওয়ার ক্ষমতা বিচারকের নেই। তখন আদালত তাঁকে শান্ত হতে বলে জানান যে প্রতিবাদ করা তাঁর অধিকার, তবে প্রতিবাদের ভাষা সংযত হতে হবে এবং কাউকে আঘাত করা যাবে না। আদালতের এই জবাবে আখতারুজ্জামান আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন এবং বলেন যে তিনি এভাবেই চলবেন, কে কী করে তা দেখে নেবেন। পিপি ওমর ফারুক ফারুকীর মতে, আখতারুজ্জামান আদালতকে হেয় করেছেন এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন।

তবে আখতারুজ্জামানের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেওয়া আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, আখতারুজ্জামান আদালতে অত্যন্ত সুন্দর বক্তব্য দিয়েছেন এবং কাউকে হেয়প্রতিপন্ন করেননি। বরং পিপি নিজেই আখতারুজ্জামানকে হেয় করে বক্তব্য দিয়েছেন। এই মামলাটিকে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং রাজনৈতিকভাবে হেয় করার চেষ্টা দাবি করে তিনি বলেন, এটি একটি জামিনযোগ্য মামলা।

শুনানি শেষে আদালত ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করার পর আখতারুজ্জামানকে পুনরায় কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে নিচে নামানো হয়। এ সময় তাঁর মাথায় হেলমেট ও হাতে হাতকড়া পরানো ছিল। কাঠগড়ায় হাতকড়া খুলে দেওয়া হলেও বাইরে কেন হেলমেট ও হাতকড়া পরানো হলো—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে আখতারুজ্জামান বলেন, পুলিশ জোর করে তাঁকে এগুলো পরিয়েছে।

আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের উদ্দেশে আখতারুজ্জামান বলেন, ‘রাষ্ট্রকে সঠিক পথে চালানোর জন্য, মানুষের অধিকার বাস্তবায়ন করার জন্য, আমাদের নতুন করে সংগ্রামে নামতে হবে। ইনশা আল্লাহ জামায়াতে ইসলামী সেই সংগ্রাম অব্যাহত রাখবে।’ উল্লেখ্য, কিশোরগঞ্জ-২ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে পরপর দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন আখতারুজ্জামান। তিনি কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতিও ছিলেন। দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ২০২২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তাঁকে পঞ্চমবারের মতো বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর গত ১৩ ডিসেম্বর তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। সম্প্রতি জামায়াতের সমালোচনা করে এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করে অতীতে দেওয়া তাঁর কিছু বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।