লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউপি নির্বাচনে একক প্রার্থী বাছাইয়ে বড় পরীক্ষার মুখে বিএনপি

জাতীয় নির্বাচনে ভূমিধস জয়ের পর এবার তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তির পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়েছে বিএনপি। নির্বাচন কমিশন সোমবার ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করার পর থেকেই দলটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একক প্রার্থী নিশ্চিত করার কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই নির্বাচনকে 'ছোট ভোটে বড় পরীক্ষা' হিসেবে অভিহিত করছেন। আগামী ২১ জানুয়ারি প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হতে যাওয়া এই নির্বাচনকে ঘিরে দলটি প্রতিটি এলাকায় দলীয় ঐক্য ধরে রাখার পরিকল্পনা করছে।

তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সামনে তৃণমূলের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সামলানো, স্থানীয় নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা এবং দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক বিরোধ মেটানোর মতো বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব চারটি মানদণ্ডের ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাইয়ের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে—যার মধ্যে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি, জনসমর্থন, দলের প্রতি অবদান ও ত্যাগ এবং নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনাকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।

প্রার্থী বাছাই ও নির্বাচন তদারকির জন্য বিএনপি একটি চার সদস্যের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটিতে রয়েছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মৃধা। প্রয়োজনে এই কমিটির পরিধি বাড়ানোর সুযোগও রাখা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনা, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করে তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। প্রাথমিক তালিকা জেলা পর্যায়ে যাচাইয়ের পর অসংগতি থাকলে তা বিভাগীয় পর্যায়ে পর্যালোচনা এবং অমীমাংসিত বিষয় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে পাঠানোর কথা রয়েছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দৈনিক এদিনকে জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকায় প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা, গণমানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং দলীয় নেতা-কর্মীদের সমর্থনকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই এলাকায় যাতে একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করেন, সে বিষয়ে স্থানীয় নেতাদের সতর্ক করা হয়েছে। তবে স্থানীয় পর্যায়ে মনোনয়নবঞ্চিতদের সামলানো এবং দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঝুঁকি দলটির জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল জানিয়েছেন, কোনো কারণে মনোনয়নপত্র বাতিল হলে বিকল্প প্রার্থীর প্রস্তুতি রাখা রাজনৈতিক কৌশলের অংশ। তবে মাঠপর্যায়ে জরিপ ও স্থানীয় মতামতের ভিত্তিতে প্রার্থী চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়াটি নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ। এছাড়া দলটির ৮২টি সাংগঠনিক কমিটির মধ্যে ৭২টিরই মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠন ও প্রার্থী বাছাইয়ের মধ্যে সমন্বয় করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্থানীয় পর্যায় থেকেই গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করে কেন্দ্রকে পাঠানোর নির্দেশনা দিয়েছেন। বৈঠক পরবর্তী সময়ে প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো চাঁদাবাজ বা ভূমি দখলকারীর জায়গা হবে না এবং ঐকমত্যের ভিত্তিতে একক প্রার্থী বাছাইয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এখন এই নির্দেশনা তৃণমূলের বাস্তবতায় কতটা সফলভাবে প্রয়োগ করা যায়, তা-ই হবে বিএনপির সাংগঠনিক সক্ষমতা যাচাইয়ের প্রধান মাপকাঠি।

জনপ্রিয় সংবাদ

উপাচার্যের চেয়ারে ছাত্রসংগঠনের আধিপত্য ও অস্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া

ইউপি নির্বাচনে একক প্রার্থী বাছাইয়ে বড় পরীক্ষার মুখে বিএনপি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:৪১:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

জাতীয় নির্বাচনে ভূমিধস জয়ের পর এবার তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তির পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়েছে বিএনপি। নির্বাচন কমিশন সোমবার ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করার পর থেকেই দলটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একক প্রার্থী নিশ্চিত করার কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই নির্বাচনকে 'ছোট ভোটে বড় পরীক্ষা' হিসেবে অভিহিত করছেন। আগামী ২১ জানুয়ারি প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হতে যাওয়া এই নির্বাচনকে ঘিরে দলটি প্রতিটি এলাকায় দলীয় ঐক্য ধরে রাখার পরিকল্পনা করছে।

তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সামনে তৃণমূলের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সামলানো, স্থানীয় নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা এবং দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক বিরোধ মেটানোর মতো বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব চারটি মানদণ্ডের ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাইয়ের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে—যার মধ্যে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি, জনসমর্থন, দলের প্রতি অবদান ও ত্যাগ এবং নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনাকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।

প্রার্থী বাছাই ও নির্বাচন তদারকির জন্য বিএনপি একটি চার সদস্যের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটিতে রয়েছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মৃধা। প্রয়োজনে এই কমিটির পরিধি বাড়ানোর সুযোগও রাখা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনা, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করে তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। প্রাথমিক তালিকা জেলা পর্যায়ে যাচাইয়ের পর অসংগতি থাকলে তা বিভাগীয় পর্যায়ে পর্যালোচনা এবং অমীমাংসিত বিষয় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে পাঠানোর কথা রয়েছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দৈনিক এদিনকে জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকায় প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা, গণমানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং দলীয় নেতা-কর্মীদের সমর্থনকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই এলাকায় যাতে একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করেন, সে বিষয়ে স্থানীয় নেতাদের সতর্ক করা হয়েছে। তবে স্থানীয় পর্যায়ে মনোনয়নবঞ্চিতদের সামলানো এবং দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঝুঁকি দলটির জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল জানিয়েছেন, কোনো কারণে মনোনয়নপত্র বাতিল হলে বিকল্প প্রার্থীর প্রস্তুতি রাখা রাজনৈতিক কৌশলের অংশ। তবে মাঠপর্যায়ে জরিপ ও স্থানীয় মতামতের ভিত্তিতে প্রার্থী চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়াটি নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ। এছাড়া দলটির ৮২টি সাংগঠনিক কমিটির মধ্যে ৭২টিরই মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠন ও প্রার্থী বাছাইয়ের মধ্যে সমন্বয় করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্থানীয় পর্যায় থেকেই গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করে কেন্দ্রকে পাঠানোর নির্দেশনা দিয়েছেন। বৈঠক পরবর্তী সময়ে প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো চাঁদাবাজ বা ভূমি দখলকারীর জায়গা হবে না এবং ঐকমত্যের ভিত্তিতে একক প্রার্থী বাছাইয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এখন এই নির্দেশনা তৃণমূলের বাস্তবতায় কতটা সফলভাবে প্রয়োগ করা যায়, তা-ই হবে বিএনপির সাংগঠনিক সক্ষমতা যাচাইয়ের প্রধান মাপকাঠি।