লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুপারকম্পিউটার বলছে, বিশ্বকাপ জিতবে ফ্রান্স

বিশ্বকাপে ১০০টি ম্যাচ শেষে এখন টুর্নামেন্ট তার শেষ প্রান্তে। ফাইনালসহ বাকি থাকা চারটি ম্যাচে শিরোপা লড়াইয়ে টিকে আছে চারটি দল: আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ড, স্পেন এবং ফ্রান্স। বিশ্বকাপ শুরুর আগে অপটার সুপারকম্পিউটার যে চারটি দলের সেমিফাইনালে খেলার পূর্বাভাস দিয়েছিল, এবার সেই সুপারকম্পিউটারই চ্যাম্পিয়ন দল বাছাইয়ের কাজে নেমেছে।

হিসাব-নিকাশের পর সুপারকম্পিউটারের দেওয়া তথ্যানুসারে, বিশ্বকাপ জয়ের সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা রয়েছে ফ্রান্সের। উত্তর আমেরিকায় দিদিয়ের দেশমের দল এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে দারুণ ছন্দে রয়েছে। কিলিয়ান এমবাপ্পে আক্রমণভাগে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং লিওনেল মেসির সঙ্গে যৌথভাবে ৮ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে আছেন। উসমান দেম্বেলেও করেছেন ৫ গোল। এই দুই তারকার গোলে ফ্রান্স কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে। গত ৫০ বছরে একই বিশ্বকাপে দুই খেলোয়াড়ের ৫ বা তার বেশি গোল করার নজির এবার দ্বিতীয়বারের মতো গড়ল ফ্রান্স। এর আগে ২০০২ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের রোনালদো ৮ গোল এবং রিভালদো ৫ গোল করেছিলেন। তবে এবারের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডও একই কীর্তি গড়েছে, যেখানে হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহাম দুজনেই ৬টি করে গোল করেছেন।

অপটার সুপারকম্পিউটার বাকি ম্যাচগুলো নিয়ে ২৫ হাজার সম্ভাব্য ফলাফল বিশ্লেষণ করেছে। এই বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৫৭.৭ শতাংশ ক্ষেত্রে ফ্রান্স স্পেনকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে উঠবে এবং ৩৪ শতাংশ ক্ষেত্রে শিরোপা জিতবে ফরাসিরা। তবে ফ্রান্সের সামনে স্পেনের মতো কঠিন প্রতিপক্ষ রয়েছে। পারফরম্যান্সের বিচারে ফ্রান্সের পরেই রয়েছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে এগিয়ে যাওয়ার পর এবারের বিশ্বকাপে প্রথম গোল হজম করে স্পেন। ফাবিয়ান রুইজ গোল করে এগিয়ে দিলেও চার্লস ডি কেটেলারের হেডে বেলজিয়াম সমতা ফেরায়। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপে টানা ৬৪৯ মিনিট গোল না খাওয়ার স্পেনের রেকর্ডও ভেঙে যায়। তবে শেষ দিকে মিকেল মেরিনোর গোলে স্পেন ম্যাচটি জিতে নেয়।

শিরোপা জয়ের দৌড়ে ফ্রান্সকে এগিয়ে রাখলেও স্পেনও দারুণ ফর্মে আছে। ২০২৪ সালের মার্চে কলম্বিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে ১-০ গোলে হারের পর থেকে তারা টানা ৩৬ ম্যাচে অপরাজিত। এই সময়ে ২৭টি জয় ও ৯টি ড্র নিয়ে তারা স্পেনের ইতিহাসে দীর্ঘতম অপরাজিত থাকার রেকর্ড গড়েছে। সুপারকম্পিউটারের হিসাবে স্পেনের ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা ৪২.৩ শতাংশ এবং শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা ২৩.৪ শতাংশ। অর্থাৎ, ডালাসে মঙ্গলবারের সেমিফাইনালে বিজয়ী দলেরই বিশ্বকাপ জেতার সম্ভাবনা বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা রানার্সআপ হওয়ার জন্য খেলবে এমনটা নয়। ইংল্যান্ড টুর্নামেন্ট জুড়ে খুব দাপুটে ফুটবল খেলতে না পারলেও, অনেকের মতে এটিই দলটিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলেছে। নরওয়ের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও জয়ের পর ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল স্বীকার করেছিলেন যে তার দল ভালো খেলেনি, কিন্তু প্রয়োজনীয় কাজটি ঠিকই করেছে। জুড বেলিংহাম প্রায় একাই এই কাজটি করেছেন। নরওয়ের বিপক্ষে জোড়া গোল করা বেলিংহাম মেক্সিকোর বিপক্ষেও জোড়া গোল করেছিলেন। এর ফলে ১৯৮৬ বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার পর প্রথম ফুটবলার হিসেবে একই বিশ্বকাপের টানা দুই নকআউট ম্যাচে অন্তত দুটি করে গোল করার কীর্তি গড়লেন তিনি। এই জয়ে বড় টুর্নামেন্টে ইংল্যান্ডের ধারাবাহিক সাফল্যও বজায় থাকল। ২০১৮ সালের পর থেকে বিশ্বকাপ ও ইউরো মিলিয়ে তারা চারবার সেমিফাইনালে উঠেছে।

সুপারকম্পিউটারের হিসাবে, বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনায় ইংল্যান্ড তৃতীয় স্থানে রয়েছে, তাদের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা ২১.৯ শতাংশ। তবে ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনায় তারা সামান্য এগিয়ে, ৫০.৯ শতাংশ।

তবে এই সুবিধা নিয়ে বেশি আত্মতৃপ্তিতে ভোগার সুযোগ নেই, কারণ সেমিফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। এবারের বিশ্বকাপে লিওনেল মেসি প্রথমবার কোনো ম্যাচে গোল করতে পারেননি সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে। তবে তাতে আর্জেন্টিনার অগ্রযাত্রা থেমে যায়নি। ১০ জনের সুইজারল্যান্ডকে অতিরিক্ত সময়ে ৩-১ গোলে হারিয়ে তারা সেমিফাইনালে উঠেছে। এটি ছিল আর্জেন্টিনার রেকর্ড ১৩তম অতিরিক্ত সময়ের ম্যাচ, যার মধ্যে ১১টিতেই তারা জিতেছে। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হলেও শেষ চারে থাকা দলগুলোর মধ্যে ২০২৬ বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা আর্জেন্টিনার সবচেয়ে কম, মাত্র ২০.৬ শতাংশ। তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে তাদের জেতার সম্ভাবনা ৪৯.১ শতাংশ, অর্থাৎ এই লড়াইয়ের ফল যেকোনো দিকেই যেতে পারে।

১০ জনের সুইজারল্যান্ডকে ১২০ মিনিটে ৩–১ গোলে হারিয়ে শেষ পর্যন্ত সেমিফাইনালে উঠেছে তারা।বিশ্বকাপে এটি ছিল আর্জেন্টিনার রেকর্ড ১৩তম অতিরিক্ত সময়ের ম্যাচ।

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাইয়ের ২৭ দিনে আড়াই বিলিয়ন ডলারের বেশি প্রবাসী আয়

সুপারকম্পিউটার বলছে, বিশ্বকাপ জিতবে ফ্রান্স

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:৪৬:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপে ১০০টি ম্যাচ শেষে এখন টুর্নামেন্ট তার শেষ প্রান্তে। ফাইনালসহ বাকি থাকা চারটি ম্যাচে শিরোপা লড়াইয়ে টিকে আছে চারটি দল: আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ড, স্পেন এবং ফ্রান্স। বিশ্বকাপ শুরুর আগে অপটার সুপারকম্পিউটার যে চারটি দলের সেমিফাইনালে খেলার পূর্বাভাস দিয়েছিল, এবার সেই সুপারকম্পিউটারই চ্যাম্পিয়ন দল বাছাইয়ের কাজে নেমেছে।

হিসাব-নিকাশের পর সুপারকম্পিউটারের দেওয়া তথ্যানুসারে, বিশ্বকাপ জয়ের সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা রয়েছে ফ্রান্সের। উত্তর আমেরিকায় দিদিয়ের দেশমের দল এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে দারুণ ছন্দে রয়েছে। কিলিয়ান এমবাপ্পে আক্রমণভাগে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং লিওনেল মেসির সঙ্গে যৌথভাবে ৮ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে আছেন। উসমান দেম্বেলেও করেছেন ৫ গোল। এই দুই তারকার গোলে ফ্রান্স কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে। গত ৫০ বছরে একই বিশ্বকাপে দুই খেলোয়াড়ের ৫ বা তার বেশি গোল করার নজির এবার দ্বিতীয়বারের মতো গড়ল ফ্রান্স। এর আগে ২০০২ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের রোনালদো ৮ গোল এবং রিভালদো ৫ গোল করেছিলেন। তবে এবারের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডও একই কীর্তি গড়েছে, যেখানে হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহাম দুজনেই ৬টি করে গোল করেছেন।

অপটার সুপারকম্পিউটার বাকি ম্যাচগুলো নিয়ে ২৫ হাজার সম্ভাব্য ফলাফল বিশ্লেষণ করেছে। এই বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৫৭.৭ শতাংশ ক্ষেত্রে ফ্রান্স স্পেনকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে উঠবে এবং ৩৪ শতাংশ ক্ষেত্রে শিরোপা জিতবে ফরাসিরা। তবে ফ্রান্সের সামনে স্পেনের মতো কঠিন প্রতিপক্ষ রয়েছে। পারফরম্যান্সের বিচারে ফ্রান্সের পরেই রয়েছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে এগিয়ে যাওয়ার পর এবারের বিশ্বকাপে প্রথম গোল হজম করে স্পেন। ফাবিয়ান রুইজ গোল করে এগিয়ে দিলেও চার্লস ডি কেটেলারের হেডে বেলজিয়াম সমতা ফেরায়। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপে টানা ৬৪৯ মিনিট গোল না খাওয়ার স্পেনের রেকর্ডও ভেঙে যায়। তবে শেষ দিকে মিকেল মেরিনোর গোলে স্পেন ম্যাচটি জিতে নেয়।

শিরোপা জয়ের দৌড়ে ফ্রান্সকে এগিয়ে রাখলেও স্পেনও দারুণ ফর্মে আছে। ২০২৪ সালের মার্চে কলম্বিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে ১-০ গোলে হারের পর থেকে তারা টানা ৩৬ ম্যাচে অপরাজিত। এই সময়ে ২৭টি জয় ও ৯টি ড্র নিয়ে তারা স্পেনের ইতিহাসে দীর্ঘতম অপরাজিত থাকার রেকর্ড গড়েছে। সুপারকম্পিউটারের হিসাবে স্পেনের ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা ৪২.৩ শতাংশ এবং শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা ২৩.৪ শতাংশ। অর্থাৎ, ডালাসে মঙ্গলবারের সেমিফাইনালে বিজয়ী দলেরই বিশ্বকাপ জেতার সম্ভাবনা বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা রানার্সআপ হওয়ার জন্য খেলবে এমনটা নয়। ইংল্যান্ড টুর্নামেন্ট জুড়ে খুব দাপুটে ফুটবল খেলতে না পারলেও, অনেকের মতে এটিই দলটিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলেছে। নরওয়ের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও জয়ের পর ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল স্বীকার করেছিলেন যে তার দল ভালো খেলেনি, কিন্তু প্রয়োজনীয় কাজটি ঠিকই করেছে। জুড বেলিংহাম প্রায় একাই এই কাজটি করেছেন। নরওয়ের বিপক্ষে জোড়া গোল করা বেলিংহাম মেক্সিকোর বিপক্ষেও জোড়া গোল করেছিলেন। এর ফলে ১৯৮৬ বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার পর প্রথম ফুটবলার হিসেবে একই বিশ্বকাপের টানা দুই নকআউট ম্যাচে অন্তত দুটি করে গোল করার কীর্তি গড়লেন তিনি। এই জয়ে বড় টুর্নামেন্টে ইংল্যান্ডের ধারাবাহিক সাফল্যও বজায় থাকল। ২০১৮ সালের পর থেকে বিশ্বকাপ ও ইউরো মিলিয়ে তারা চারবার সেমিফাইনালে উঠেছে।

সুপারকম্পিউটারের হিসাবে, বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনায় ইংল্যান্ড তৃতীয় স্থানে রয়েছে, তাদের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা ২১.৯ শতাংশ। তবে ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনায় তারা সামান্য এগিয়ে, ৫০.৯ শতাংশ।

তবে এই সুবিধা নিয়ে বেশি আত্মতৃপ্তিতে ভোগার সুযোগ নেই, কারণ সেমিফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। এবারের বিশ্বকাপে লিওনেল মেসি প্রথমবার কোনো ম্যাচে গোল করতে পারেননি সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে। তবে তাতে আর্জেন্টিনার অগ্রযাত্রা থেমে যায়নি। ১০ জনের সুইজারল্যান্ডকে অতিরিক্ত সময়ে ৩-১ গোলে হারিয়ে তারা সেমিফাইনালে উঠেছে। এটি ছিল আর্জেন্টিনার রেকর্ড ১৩তম অতিরিক্ত সময়ের ম্যাচ, যার মধ্যে ১১টিতেই তারা জিতেছে। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হলেও শেষ চারে থাকা দলগুলোর মধ্যে ২০২৬ বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা আর্জেন্টিনার সবচেয়ে কম, মাত্র ২০.৬ শতাংশ। তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে তাদের জেতার সম্ভাবনা ৪৯.১ শতাংশ, অর্থাৎ এই লড়াইয়ের ফল যেকোনো দিকেই যেতে পারে।

১০ জনের সুইজারল্যান্ডকে ১২০ মিনিটে ৩–১ গোলে হারিয়ে শেষ পর্যন্ত সেমিফাইনালে উঠেছে তারা।বিশ্বকাপে এটি ছিল আর্জেন্টিনার রেকর্ড ১৩তম অতিরিক্ত সময়ের ম্যাচ।