লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিন্ডিকেট ও অবৈধ মজুতদারি প্রতিরোধে ইসলামের কঠোর নির্দেশনা

বর্তমান বাজারে সিন্ডিকেটের কারসাজিতে সাধারণ ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রা ওষ্ঠাগত। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম আকাশচুম্বী করার পেছনে কাজ করছে এক শ্রেণির অসাধু চক্র। সরকারিভাবে পণ্যের দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হলেও কুচক্রী মহল পণ্য সরবরাহ বন্ধ করে দেয় এবং পরে সংকট তৈরি করে চড়া দামে তা বিক্রি করে। এর ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ বাধ্য হয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা টিসিবির লাইনে দাঁড়িয়ে কম মূল্যে পণ্য কিনছেন। অতি মুনাফা লোটার উদ্দেশ্যে সাধারণ মানুষকে এমন কষ্টে ফেলা এবং খাদ্যসামগ্রী অবৈধভাবে মজুত করা ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম ও নাজায়েজ ঘোষণা করা হয়েছে।

সিন্ডিকেট শব্দের অর্থ গুদামজাত করা বা মজুত করে রাখা, যার আরবি প্রতিশব্দ হলো 'আল-ইহতিকার'। প্রথম আরবি অভিধান রচয়িতা খলিল ইবনে আহমদ আল-ফারাহিদি (রহ.)-এর মতে, মূল্যবৃদ্ধির আশায় খাদ্যদ্রব্য বা খাদ্যজাত অন্যান্য জিনিস জমা করে রাখাই হলো ইহতিকার এবং যে ব্যক্তি এটি করে সে হলো মজুতদার (আল-আইন : ৩/৬২)। হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) ফাতহুল বারি গ্রন্থে (৪/৪৪০) উল্লেখ করেছেন, নিজের প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও এবং জনগণের চাহিদা থাকা সত্ত্বেও দাম বাড়ানোর উদ্দেশ্যে খাদ্যদ্রব্য বিক্রি না করে আটকে রাখাই হলো মজুতদারি। অনুরূপভাবে, ইমাম আওজায়ি (রহ.)-এর মতে, যে ব্যক্তি বাজারে পণ্য আসার পথ রুদ্ধ করে মানুষের প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য মজুত করার উদ্দেশ্যে কেনাকাটা করে, সে-ই মজুতদার (নাইলুল আওতার : ৩/৬০৫)।

ইসলামের দৃষ্টিতে খাদ্যদ্রব্যের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। গুটিকয়েক মানুষের হাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বন্দি করে নিজেদের ইচ্ছামতো দাম বাড়ানো সম্পূর্ণ অমানবিক ও নৈতিকতাবিরোধী। রাসুলুল্লাহ (সা.) এ বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, 'শুধু পাপী ব্যক্তিই মজুতদারি বা সিন্ডিকেট করে থাকে।' (মুসলিম : ১৬০৫)। ইসলামি আইনজ্ঞদের সর্বসম্মত মতানুযায়ী, বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে কম মূল্যে খাদ্য কিনে গুদামজাত করা এবং সংকটের সময় তা চড়া দামে বিক্রি করা সম্পূর্ণ হারাম (আল-ফিকহুল মুয়াসসার : ৬/৪৫)।

ইসলামের বিধান অনুযায়ী, মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী, খাদ্যশস্য এবং জীবন ধারণের জন্য অপরিহার্য উপাদানগুলো চড়া দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে মজুত করা নিষিদ্ধ (আল-জামে লি উলুমি ইমাম আহমদ : ৯/১৫৯)। ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (রহ.)-কে যখন জিজ্ঞেস করা হয়েছিল কোন জিনিস গুদামজাত করা নিষেধ, তখন তিনি স্পষ্ট করে বলেছিলেন, মানুষের জীবন ও জীবিকার সাথে সম্পৃক্ত প্রয়োজনীয় জিনিসে বাধা সৃষ্টি করা হারাম।

সমাজে প্রচলিত বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর মজুতদারিকে ইসলাম নিষিদ্ধ করেছে, যার কয়েকটি নিচে উল্লেখ করা হলো:

কম মূল্যের সময়ে খাদ্যদ্রব্য কিনে বেশি লাভের আশায় এমনভাবে গুদামজাত করা, যার প্রভাব বাজারে পড়ে।কোনো পণ্য এমন পরিমাণে আটকে রাখা, যার ফলে ক্রেতারা চরম সংকটের মুখোমুখি হন।খাদ্য সংকটের সময়ে যেকোনো পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী মজুত করা।বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির উদ্দেশ্যে গুদামজাত করা।ব্যবসার বাইরে অন্যান্য ক্ষেত্র, যেমন—গাড়ি, লঞ্চ বা ট্রেনের টিকিট থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা নেওয়ার জন্য টিকিট সিন্ডিকেট করা।এই সিন্ডিকেট ও মজুতদারির মাধ্যমে মূলত পাইকারি, মধ্যস্থতাকারী, খুচরা ব্যবসায়ী ও মালিকপক্ষ লাভবান হলেও সাধারণ মানুষ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইসলাম এই বৈষম্য ও জুলুমকে চিরতরে হারাম করেছে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'যেসব লোক বিনা দোষে মোমিন পুরুষ ও নারীকে কষ্ট দেয়, তারা অতি বড় একটা মিথ্যা অপবাদ ও সুস্পষ্ট গোনাহের বোঝা নিজেদের মাথায় তুলে নেয়।' (সুরা আহজাব : ৫৮)।

অবৈধ মজুতদারদের জন্য ইসলামে ইহকাল ও পরকালে ভয়াবহ শাস্তির কথা বলা হয়েছে। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'আমদানিকারক রিজিকপ্রাপ্ত আর মজুদদাররা লানতপ্রাপ্ত, অভিশপ্ত।' (মুসনাদে দারেমি : ২৫৮৬)। অন্য এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) সতর্ক করে বলেছেন, 'যে ব্যক্তি মুসলমানদের খাদ্যদ্রব্য মজুত করে, আল্লাহ তাকে কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত করবেন অথবা দেউলিয়া বানাবেন।' (আল-মুন্তাখাবুল আদাবি : ১৭)। এছাড়া সহিহ মুসলিমের ১২২৮ নম্বর হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) এদের পাপিষ্ঠ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

যেসব ক্ষেত্রে মজুতদারি হারাম : সকল মজুতদারি হারাম নয়। এজন্য জানতে হবে, সমাজে প্রচলিত কোন ধরনের মজুতদারি হারাম। কিছু হারাম মজুতদারির ধরন তুলে ধরা হলো— ১. স্বল্পমূল্য চলাকালে খাদ্যদ্রব্য ক্রয় করে বেশি লাভের আশায় এমনভাবে গুদামজাত করা, যার ফলে বাজারে তার প্রতিক্রিয়া পড়ে। ২. কোনো দ্রব্য এমন পরিমাণে গুদামজাত করা, যে কারণে ক্

জনপ্রিয় সংবাদ

১৬ সরকারি মেডিকেল কলেজে চরম শিক্ষক ও অবকাঠামোর সংকট

সিন্ডিকেট ও অবৈধ মজুতদারি প্রতিরোধে ইসলামের কঠোর নির্দেশনা

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:৩৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

বর্তমান বাজারে সিন্ডিকেটের কারসাজিতে সাধারণ ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রা ওষ্ঠাগত। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম আকাশচুম্বী করার পেছনে কাজ করছে এক শ্রেণির অসাধু চক্র। সরকারিভাবে পণ্যের দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হলেও কুচক্রী মহল পণ্য সরবরাহ বন্ধ করে দেয় এবং পরে সংকট তৈরি করে চড়া দামে তা বিক্রি করে। এর ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ বাধ্য হয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা টিসিবির লাইনে দাঁড়িয়ে কম মূল্যে পণ্য কিনছেন। অতি মুনাফা লোটার উদ্দেশ্যে সাধারণ মানুষকে এমন কষ্টে ফেলা এবং খাদ্যসামগ্রী অবৈধভাবে মজুত করা ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম ও নাজায়েজ ঘোষণা করা হয়েছে।

সিন্ডিকেট শব্দের অর্থ গুদামজাত করা বা মজুত করে রাখা, যার আরবি প্রতিশব্দ হলো 'আল-ইহতিকার'। প্রথম আরবি অভিধান রচয়িতা খলিল ইবনে আহমদ আল-ফারাহিদি (রহ.)-এর মতে, মূল্যবৃদ্ধির আশায় খাদ্যদ্রব্য বা খাদ্যজাত অন্যান্য জিনিস জমা করে রাখাই হলো ইহতিকার এবং যে ব্যক্তি এটি করে সে হলো মজুতদার (আল-আইন : ৩/৬২)। হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) ফাতহুল বারি গ্রন্থে (৪/৪৪০) উল্লেখ করেছেন, নিজের প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও এবং জনগণের চাহিদা থাকা সত্ত্বেও দাম বাড়ানোর উদ্দেশ্যে খাদ্যদ্রব্য বিক্রি না করে আটকে রাখাই হলো মজুতদারি। অনুরূপভাবে, ইমাম আওজায়ি (রহ.)-এর মতে, যে ব্যক্তি বাজারে পণ্য আসার পথ রুদ্ধ করে মানুষের প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য মজুত করার উদ্দেশ্যে কেনাকাটা করে, সে-ই মজুতদার (নাইলুল আওতার : ৩/৬০৫)।

ইসলামের দৃষ্টিতে খাদ্যদ্রব্যের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। গুটিকয়েক মানুষের হাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বন্দি করে নিজেদের ইচ্ছামতো দাম বাড়ানো সম্পূর্ণ অমানবিক ও নৈতিকতাবিরোধী। রাসুলুল্লাহ (সা.) এ বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, 'শুধু পাপী ব্যক্তিই মজুতদারি বা সিন্ডিকেট করে থাকে।' (মুসলিম : ১৬০৫)। ইসলামি আইনজ্ঞদের সর্বসম্মত মতানুযায়ী, বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে কম মূল্যে খাদ্য কিনে গুদামজাত করা এবং সংকটের সময় তা চড়া দামে বিক্রি করা সম্পূর্ণ হারাম (আল-ফিকহুল মুয়াসসার : ৬/৪৫)।

ইসলামের বিধান অনুযায়ী, মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী, খাদ্যশস্য এবং জীবন ধারণের জন্য অপরিহার্য উপাদানগুলো চড়া দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে মজুত করা নিষিদ্ধ (আল-জামে লি উলুমি ইমাম আহমদ : ৯/১৫৯)। ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (রহ.)-কে যখন জিজ্ঞেস করা হয়েছিল কোন জিনিস গুদামজাত করা নিষেধ, তখন তিনি স্পষ্ট করে বলেছিলেন, মানুষের জীবন ও জীবিকার সাথে সম্পৃক্ত প্রয়োজনীয় জিনিসে বাধা সৃষ্টি করা হারাম।

সমাজে প্রচলিত বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর মজুতদারিকে ইসলাম নিষিদ্ধ করেছে, যার কয়েকটি নিচে উল্লেখ করা হলো:

কম মূল্যের সময়ে খাদ্যদ্রব্য কিনে বেশি লাভের আশায় এমনভাবে গুদামজাত করা, যার প্রভাব বাজারে পড়ে।কোনো পণ্য এমন পরিমাণে আটকে রাখা, যার ফলে ক্রেতারা চরম সংকটের মুখোমুখি হন।খাদ্য সংকটের সময়ে যেকোনো পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী মজুত করা।বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির উদ্দেশ্যে গুদামজাত করা।ব্যবসার বাইরে অন্যান্য ক্ষেত্র, যেমন—গাড়ি, লঞ্চ বা ট্রেনের টিকিট থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা নেওয়ার জন্য টিকিট সিন্ডিকেট করা।এই সিন্ডিকেট ও মজুতদারির মাধ্যমে মূলত পাইকারি, মধ্যস্থতাকারী, খুচরা ব্যবসায়ী ও মালিকপক্ষ লাভবান হলেও সাধারণ মানুষ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইসলাম এই বৈষম্য ও জুলুমকে চিরতরে হারাম করেছে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'যেসব লোক বিনা দোষে মোমিন পুরুষ ও নারীকে কষ্ট দেয়, তারা অতি বড় একটা মিথ্যা অপবাদ ও সুস্পষ্ট গোনাহের বোঝা নিজেদের মাথায় তুলে নেয়।' (সুরা আহজাব : ৫৮)।

অবৈধ মজুতদারদের জন্য ইসলামে ইহকাল ও পরকালে ভয়াবহ শাস্তির কথা বলা হয়েছে। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'আমদানিকারক রিজিকপ্রাপ্ত আর মজুদদাররা লানতপ্রাপ্ত, অভিশপ্ত।' (মুসনাদে দারেমি : ২৫৮৬)। অন্য এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) সতর্ক করে বলেছেন, 'যে ব্যক্তি মুসলমানদের খাদ্যদ্রব্য মজুত করে, আল্লাহ তাকে কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত করবেন অথবা দেউলিয়া বানাবেন।' (আল-মুন্তাখাবুল আদাবি : ১৭)। এছাড়া সহিহ মুসলিমের ১২২৮ নম্বর হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) এদের পাপিষ্ঠ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

যেসব ক্ষেত্রে মজুতদারি হারাম : সকল মজুতদারি হারাম নয়। এজন্য জানতে হবে, সমাজে প্রচলিত কোন ধরনের মজুতদারি হারাম। কিছু হারাম মজুতদারির ধরন তুলে ধরা হলো— ১. স্বল্পমূল্য চলাকালে খাদ্যদ্রব্য ক্রয় করে বেশি লাভের আশায় এমনভাবে গুদামজাত করা, যার ফলে বাজারে তার প্রতিক্রিয়া পড়ে। ২. কোনো দ্রব্য এমন পরিমাণে গুদামজাত করা, যে কারণে ক্