লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শ্রমিক অসন্তোষের পেছনে অর্থায়ন হচ্ছে, বললেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অভিযোগ করেছেন যে, দেশের বিভিন্ন কলকারখানা ও কয়েকটি স্থানে কৃত্রিমভাবে শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। তিনি জানান, এ বিষয়ে সরকারের কাছে সুস্পষ্ট গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। তার দাবি, পলাতক স্বৈরাচারী চক্র সীমান্তের ওপার থেকে এই অস্থিরতা তৈরির জন্য অর্থ সরবরাহ করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে যেসব দল জনগণের কাছে বিভিন্ন টিকিট বিক্রির চেষ্টা করেছিল, তাদের একটি অংশ এই ষড়যন্ত্রে যুক্ত হয়েছে। তিনি আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে বলেন, যারা অতীতে জনগণকে ধোঁকা দিয়েছে, তারাই এখন অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। বিএনপি সরকার দেশে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, নিরাপত্তা জোরদার করা, বন্ধ কলকারখানা চালু করা এবং কৃষকদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সময়ের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, অতীতেও দেশের উন্নয়নের পথে ষড়যন্ত্র হয়েছে এবং এখনো তা অব্যাহত রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, বিএনপি মহান মুক্তিযুদ্ধ ও চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে ধারণ করে। জুলাইয়ের শহীদদের স্মরণে ঢাকার ওসমানী উদ্যানে স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করা হলেও, কিছু রাজনৈতিক দল সেখানে উপস্থিত না হয়ে আন্দোলনের সাথে প্রতারণা করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

জনসভায় তিনি রাজশাহী অঞ্চলের ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষিকে ১২ কোটি টাকার প্রণোদনা প্রদান করেন। এছাড়া পদ্মা ও তিস্তা নদীতে ব্যারাজ নির্মাণের মাধ্যমে পানির সংকট নিরসন এবং ন্যায্য হিস্যা আদায়ের প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে দুপুরে তিনি রংপুর নগরের রাধাগোবিন্দ মন্দির পরিদর্শন করেন এবং মন্দিরের উন্নয়নে ১০ লাখ টাকার চেক প্রদান করেন।

রংপুরের পথসভায় তিনি জানান, বর্তমান সরকার শুধু ভোটারদের নয়, বরং দেশের সব মানুষের জন্য কাজ করতে চায়। রংপুরের উন্নয়নের জন্য সরকার ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে এবং স্থানীয় সরকারব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রাম ও ইউনিয়ন পর্যায়ে অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বিকেলে সামরিক উড়োজাহাজে রাজশাহীতে পৌঁছানোর পর জনসভা শেষে তিনি চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হন। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং সঞ্চালনায় ছিলেন মো. মাহফুজুর রহমান। এতে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মো. মিজানুর রহমান মিনু, নিতাই রায় চৌধুরী ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

গাংনীর দুই সীমান্তে ১২ লাখ টাকার ভারতীয় মাদকদ্রব্য উদ্ধার

শ্রমিক অসন্তোষের পেছনে অর্থায়ন হচ্ছে, বললেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:১১:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অভিযোগ করেছেন যে, দেশের বিভিন্ন কলকারখানা ও কয়েকটি স্থানে কৃত্রিমভাবে শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। তিনি জানান, এ বিষয়ে সরকারের কাছে সুস্পষ্ট গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। তার দাবি, পলাতক স্বৈরাচারী চক্র সীমান্তের ওপার থেকে এই অস্থিরতা তৈরির জন্য অর্থ সরবরাহ করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে যেসব দল জনগণের কাছে বিভিন্ন টিকিট বিক্রির চেষ্টা করেছিল, তাদের একটি অংশ এই ষড়যন্ত্রে যুক্ত হয়েছে। তিনি আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে বলেন, যারা অতীতে জনগণকে ধোঁকা দিয়েছে, তারাই এখন অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। বিএনপি সরকার দেশে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, নিরাপত্তা জোরদার করা, বন্ধ কলকারখানা চালু করা এবং কৃষকদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সময়ের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, অতীতেও দেশের উন্নয়নের পথে ষড়যন্ত্র হয়েছে এবং এখনো তা অব্যাহত রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, বিএনপি মহান মুক্তিযুদ্ধ ও চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে ধারণ করে। জুলাইয়ের শহীদদের স্মরণে ঢাকার ওসমানী উদ্যানে স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করা হলেও, কিছু রাজনৈতিক দল সেখানে উপস্থিত না হয়ে আন্দোলনের সাথে প্রতারণা করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

জনসভায় তিনি রাজশাহী অঞ্চলের ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষিকে ১২ কোটি টাকার প্রণোদনা প্রদান করেন। এছাড়া পদ্মা ও তিস্তা নদীতে ব্যারাজ নির্মাণের মাধ্যমে পানির সংকট নিরসন এবং ন্যায্য হিস্যা আদায়ের প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে দুপুরে তিনি রংপুর নগরের রাধাগোবিন্দ মন্দির পরিদর্শন করেন এবং মন্দিরের উন্নয়নে ১০ লাখ টাকার চেক প্রদান করেন।

রংপুরের পথসভায় তিনি জানান, বর্তমান সরকার শুধু ভোটারদের নয়, বরং দেশের সব মানুষের জন্য কাজ করতে চায়। রংপুরের উন্নয়নের জন্য সরকার ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে এবং স্থানীয় সরকারব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রাম ও ইউনিয়ন পর্যায়ে অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বিকেলে সামরিক উড়োজাহাজে রাজশাহীতে পৌঁছানোর পর জনসভা শেষে তিনি চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হন। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং সঞ্চালনায় ছিলেন মো. মাহফুজুর রহমান। এতে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মো. মিজানুর রহমান মিনু, নিতাই রায় চৌধুরী ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।