লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তারেক রহমানের ভারত সফর নিশ্চিত করতে বিশেষ বার্তা পাঠাল দিল্লি

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্রিকস আউটরিচ পর্বে যোগ দিচ্ছেন না জানার পরপরই ভারত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের জন্য ঢাকার কাছে বিশেষ বার্তা পাঠিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সবরকম প্রস্তুতি শুরু করেছে দিল্লি। প্রায় পাঁচ মাস আগেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাকে ব্যক্তিগতভাবে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। ভারতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুতে আটকে না থেকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

ভারতীয় গণমাধ্যমের ইঙ্গিত অনুযায়ী, তারেক রহমান যাতে ভারত সফরে এসে খালি হাতে ফিরে না যান, সেজন্য ‘অভাবনীয়’ কূটনৈতিক উপহারের বার্তা দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, আন্তঃসীমান্ত যোগাযোগ প্রকল্পগুলো নিয়ে ভারত বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, যা রেল, সড়ক, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও যোগাযোগ বাড়াতে সহায়তা করবে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘোষণা ইঙ্গিত দেয় যে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ১৮ মাসের শাসনামলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে যে বিধিনিষেধ ছিল, তা তুলে নেওয়ার বিষয়টিও ভারত বিবেচনা করছে।

কূটনৈতিক মহলের মতে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের ইস্যুটি জটিল ও দীর্ঘমেয়াদী আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়। তাই এই ইস্যু এড়িয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে দ্রুত আলোচনার ওপর জোর দিচ্ছেন কূটনীতিকরা। ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পরবর্তী সময়ে অত্যন্ত ব্যস্ত থাকবেন, তাই ব্রিকস সম্মেলনের আগেই, বিশেষ করে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে তারেক রহমানের ভারত সফর সম্পন্ন করা সবচেয়ে ভালো।

হাসিনা ইস্যুতে বাংলাদেশের কড়া অবস্থানের মুখে ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে আলাদা আলাদা বৈঠক করেছেন। বিশেষ করে তারেক রহমানের সঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদীর একান্ত বৈঠকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংবাদমাধ্যম ও বিশ্লেষকরা। এরপরই হাইকমিশনার তড়িঘড়ি দিল্লি গিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ও প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। ঢাকায় ফিরে তিনি সফরটি নিশ্চিত করতে জোর প্রচেষ্টা শুরু করবেন বলে জানা গেছে।

এদিকে এনডিটিভি জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহের দ্বিতীয় ভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নয়াদিল্লি সফরে যেতে পারেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী এটিই হবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার প্রথম ভারত সফর। বৈঠকে বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। সফরটি দুই দিনের দ্বিপাক্ষিক কর্মসূচি হিসেবে পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যদিও সময়সূচি নিয়ে আলোচনা এখনো চলমান। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ভারত সরকার তারেক রহমানকে সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল এবং সেপ্টেম্বরে ব্রিকস আউটরিচ অধিবেশনে যোগদানের জন্যও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে দেশব্যাপী বিএনপির দোয়া কর্মসূচি ঘোষণা

তারেক রহমানের ভারত সফর নিশ্চিত করতে বিশেষ বার্তা পাঠাল দিল্লি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:৩২:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্রিকস আউটরিচ পর্বে যোগ দিচ্ছেন না জানার পরপরই ভারত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের জন্য ঢাকার কাছে বিশেষ বার্তা পাঠিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সবরকম প্রস্তুতি শুরু করেছে দিল্লি। প্রায় পাঁচ মাস আগেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাকে ব্যক্তিগতভাবে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। ভারতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুতে আটকে না থেকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

ভারতীয় গণমাধ্যমের ইঙ্গিত অনুযায়ী, তারেক রহমান যাতে ভারত সফরে এসে খালি হাতে ফিরে না যান, সেজন্য ‘অভাবনীয়’ কূটনৈতিক উপহারের বার্তা দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, আন্তঃসীমান্ত যোগাযোগ প্রকল্পগুলো নিয়ে ভারত বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, যা রেল, সড়ক, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও যোগাযোগ বাড়াতে সহায়তা করবে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘোষণা ইঙ্গিত দেয় যে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ১৮ মাসের শাসনামলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে যে বিধিনিষেধ ছিল, তা তুলে নেওয়ার বিষয়টিও ভারত বিবেচনা করছে।

কূটনৈতিক মহলের মতে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের ইস্যুটি জটিল ও দীর্ঘমেয়াদী আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়। তাই এই ইস্যু এড়িয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে দ্রুত আলোচনার ওপর জোর দিচ্ছেন কূটনীতিকরা। ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পরবর্তী সময়ে অত্যন্ত ব্যস্ত থাকবেন, তাই ব্রিকস সম্মেলনের আগেই, বিশেষ করে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে তারেক রহমানের ভারত সফর সম্পন্ন করা সবচেয়ে ভালো।

হাসিনা ইস্যুতে বাংলাদেশের কড়া অবস্থানের মুখে ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে আলাদা আলাদা বৈঠক করেছেন। বিশেষ করে তারেক রহমানের সঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদীর একান্ত বৈঠকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংবাদমাধ্যম ও বিশ্লেষকরা। এরপরই হাইকমিশনার তড়িঘড়ি দিল্লি গিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ও প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। ঢাকায় ফিরে তিনি সফরটি নিশ্চিত করতে জোর প্রচেষ্টা শুরু করবেন বলে জানা গেছে।

এদিকে এনডিটিভি জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহের দ্বিতীয় ভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নয়াদিল্লি সফরে যেতে পারেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী এটিই হবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার প্রথম ভারত সফর। বৈঠকে বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। সফরটি দুই দিনের দ্বিপাক্ষিক কর্মসূচি হিসেবে পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যদিও সময়সূচি নিয়ে আলোচনা এখনো চলমান। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ভারত সরকার তারেক রহমানকে সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল এবং সেপ্টেম্বরে ব্রিকস আউটরিচ অধিবেশনে যোগদানের জন্যও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।