লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৬:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টেকনাফে সাবেক ইউপি সদস্যকে অপহরণের পর কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা

কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য জামাল উদ্দিনকে (৪০) অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার রাত ৯টার দিকে হ্নীলা আল-ফালাহ একাডেমি স্কুলের সামনে চা পান করার সময় একটি সিএনজি অটোরিকশায় আসা ৫ থেকে ৭ জন মুখোশধারী অস্ত্রধারী তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অপহরণের পরপরই ওই এলাকায় কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায়। এরপর সিএনজি অটোরিকশাটিকে হ্নীলা দরগাহ এলাকার পশ্চিম দিকে চলে যেতে দেখা যায়। অভিযোগ রয়েছে, ওই এলাকায় পাহাড়ি সন্ত্রাসী ও ডাকাত আনোয়ার হোসেন ওরফে ‘লেড়াইয়া’র নেতৃত্বাধীন একটি সশস্ত্র দল জামাল উদ্দিনকে বেধড়ক মারধর করে। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার দুই পায়ে গুরুতর আঘাত করে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে যায় তারা।

পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। তবে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এদিকে নুর কামাল নামে এক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে দাবি করেছেন, জামাল উদ্দিনকে হত্যার উদ্দেশ্যেই অপহরণ করা হয়েছিল। সোমবার রাত আনুমানিক ৯টা ১০ মিনিটে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর হ্নীলা মেমোরিয়াল কলেজের পাশে ফেলে রাখা হয়। স্থানীয়দের সহায়তায় তিনি অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন উল্লেখ করে নুর কামাল অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান。

স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র জানায়, টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নে পাহাড় ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র আস্তানা গেড়েছে। এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবার, অপহরণ, ডাকাতিসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় নানা অভিযোগও উঠেছে।

এ বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, জামাল উদ্দিনকে মারধরের বিষয়টি পুলিশ জেনেছে। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত তা চিহ্নিত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর আলোচিত ডাকাত ও মাদক কারবারি আনোয়ার ডাকাত একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য, রঙ্গিখালী এলাকার বাসিন্দা জামাল মেম্বারের ছেলে এবং কথিত মাদক কারবারি শাহ আজম সরকারকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই ঘটনার পর থেকে নিরাপত্তার কারণে শাহ আজম সরকার বর্তমানে চট্টগ্রামে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।

প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০২৬, ১১: ৪৫আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২৬, ১১: ৫৪

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ের সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও যুগ্ম সচিব ডা. সাবিনা ইয়াসমিনকে বাধ্যতামূলক অবসরে 

টেকনাফে সাবেক ইউপি সদস্যকে অপহরণের পর কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৫৬:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য জামাল উদ্দিনকে (৪০) অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার রাত ৯টার দিকে হ্নীলা আল-ফালাহ একাডেমি স্কুলের সামনে চা পান করার সময় একটি সিএনজি অটোরিকশায় আসা ৫ থেকে ৭ জন মুখোশধারী অস্ত্রধারী তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অপহরণের পরপরই ওই এলাকায় কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায়। এরপর সিএনজি অটোরিকশাটিকে হ্নীলা দরগাহ এলাকার পশ্চিম দিকে চলে যেতে দেখা যায়। অভিযোগ রয়েছে, ওই এলাকায় পাহাড়ি সন্ত্রাসী ও ডাকাত আনোয়ার হোসেন ওরফে ‘লেড়াইয়া’র নেতৃত্বাধীন একটি সশস্ত্র দল জামাল উদ্দিনকে বেধড়ক মারধর করে। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার দুই পায়ে গুরুতর আঘাত করে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে যায় তারা।

পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। তবে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এদিকে নুর কামাল নামে এক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে দাবি করেছেন, জামাল উদ্দিনকে হত্যার উদ্দেশ্যেই অপহরণ করা হয়েছিল। সোমবার রাত আনুমানিক ৯টা ১০ মিনিটে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর হ্নীলা মেমোরিয়াল কলেজের পাশে ফেলে রাখা হয়। স্থানীয়দের সহায়তায় তিনি অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন উল্লেখ করে নুর কামাল অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান。

স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র জানায়, টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নে পাহাড় ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র আস্তানা গেড়েছে। এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবার, অপহরণ, ডাকাতিসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় নানা অভিযোগও উঠেছে।

এ বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, জামাল উদ্দিনকে মারধরের বিষয়টি পুলিশ জেনেছে। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত তা চিহ্নিত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর আলোচিত ডাকাত ও মাদক কারবারি আনোয়ার ডাকাত একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য, রঙ্গিখালী এলাকার বাসিন্দা জামাল মেম্বারের ছেলে এবং কথিত মাদক কারবারি শাহ আজম সরকারকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই ঘটনার পর থেকে নিরাপত্তার কারণে শাহ আজম সরকার বর্তমানে চট্টগ্রামে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।

প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০২৬, ১১: ৪৫আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২৬, ১১: ৫৪