লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৭:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আজ ১৫ আগস্ট: ১৯৭৫ সালের সেই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোরে সেনাবাহিনীর একদল সদস্যের হামলায় বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় তাঁর সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব, তিন ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজি জামালসহ পরিবারের অনেক সদস্য এবং ঘনিষ্ঠজন প্রাণ হারান। এ ছাড়া শেখ মুজিবুর রহমানের অনুজ শেখ নাসের, ভগ্নীপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, ভাগনে শেখ ফজলুল হক মণি ও তাঁর স্ত্রী আরজু মণিসহ আরও অনেকে নিহত হন। ওই সময় শেখ মুজিবের দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে অবস্থান করায় প্রাণে বেঁচে যান।

১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন শেখ মুজিবুর রহমান। ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর তিনি পূর্ব পাকিস্তানের রাজনীতিতে অত্যন্ত সক্রিয় হয়ে ওঠেন। ভাষা আন্দোলন, যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ছয় দফা আন্দোলন এবং ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব তাঁকে বাঙালির অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক নেতায় পরিণত করে। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ জয়ের পর পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি শুরু করলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় চরিত্রে পরিণত হন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তিনি বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ও পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড একটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ১৫ আগস্ট পালনের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও কর্মসূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। অন্তর্বর্তী সরকার ১৫ আগস্টের জাতীয় শোক দিবসের সরকারি ছুটি বাতিল করেছে এবং একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমও পরবর্তী সময়ে নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসেছে। ফলে আগের বছরগুলোর মতো এবার আর রাষ্ট্রীয়ভাবে ১৫ আগস্ট পালনের কোনো আনুষ্ঠানিকতা নেই, তবুও দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের সেই হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি বহন করে চলেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আজ ১৫ আগস্ট: ১৯৭৫ সালের সেই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:১৫:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোরে সেনাবাহিনীর একদল সদস্যের হামলায় বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় তাঁর সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব, তিন ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজি জামালসহ পরিবারের অনেক সদস্য এবং ঘনিষ্ঠজন প্রাণ হারান। এ ছাড়া শেখ মুজিবুর রহমানের অনুজ শেখ নাসের, ভগ্নীপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, ভাগনে শেখ ফজলুল হক মণি ও তাঁর স্ত্রী আরজু মণিসহ আরও অনেকে নিহত হন। ওই সময় শেখ মুজিবের দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে অবস্থান করায় প্রাণে বেঁচে যান।

১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন শেখ মুজিবুর রহমান। ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর তিনি পূর্ব পাকিস্তানের রাজনীতিতে অত্যন্ত সক্রিয় হয়ে ওঠেন। ভাষা আন্দোলন, যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ছয় দফা আন্দোলন এবং ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব তাঁকে বাঙালির অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক নেতায় পরিণত করে। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ জয়ের পর পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরে গড়িমসি শুরু করলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় চরিত্রে পরিণত হন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তিনি বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ও পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড একটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ১৫ আগস্ট পালনের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও কর্মসূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। অন্তর্বর্তী সরকার ১৫ আগস্টের জাতীয় শোক দিবসের সরকারি ছুটি বাতিল করেছে এবং একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমও পরবর্তী সময়ে নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসেছে। ফলে আগের বছরগুলোর মতো এবার আর রাষ্ট্রীয়ভাবে ১৫ আগস্ট পালনের কোনো আনুষ্ঠানিকতা নেই, তবুও দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের সেই হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি বহন করে চলেছে।